1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬, ০২:৫৪ অপরাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টার সঙ্গে পাকিস্তানের হাইকমিশনারের সৌজন্য সাক্ষাৎ যুক্তরাজ্য ভিসায় জালিয়াতি ও প্রতারণা রোধে বাংলাদেশি নাগরিকদের সতর্কবার্তা প্রদান কিশোরগঞ্জের পাগলা মসজিদের দানবাক্সে এবার রেকর্ড ১৫ কোটি ৯০ লাখ টাকা স্বল্প সময়ে জনকল্যাণমুখী ও সাহসী বাজেট দিয়েছে সরকার: জাতীয় সংসদে হুইপ অপু মোহাম্মদপুরে ‘পাটালি গ্রুপের’ সেকেন্ড ইন কমান্ডসহ গ্রেপ্তার ৮ করমুক্ত আয়সীমা বাড়িয়ে ৪ লাখ টাকা করার সিদ্ধান্ত, ব্যাংকে টিআইএন বাধ্যতামূলক হচ্ছে না প্রস্তাবিত বাজেট জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে সমাদৃত হয়েছে: সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী নির্যাতিত তৃণমূল নেতাকর্মীদের পুনর্বাসনে বাজেটে বিশেষ বরাদ্দের দাবি শামা ওবায়েদের ১০০০ ও ৫০০ টাকার নোট বাতিলের দাবি সংসদ সদস্য মাহবুব উদ্দিন খোকনের চেক রিপাবলিক ও স্লোভাকিয়া সফরে গেলেন সেনাপ্রধান

মেটার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পেইড সাবস্ক্রিপশন চালু: কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও সাধারণ গ্রাহকদের জন্য নতুন যুগের সূচনা

রিপোর্টার
  • আপডেট : রবিবার, ২৮ জুন, ২০২৬
  • ০ বার দেখা হয়েছে

প্রযুক্তি প্রতিবেদক

জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপের মূল প্রতিষ্ঠান মেটা তাদের প্ল্যাটফর্মগুলোতে প্রিমিয়াম ফিচারের জন্য মাসিক ফি বা পেইড সাবস্ক্রিপশন ব্যবস্থা চালুর ঘোষণা দিয়েছে। মেটার পণ্যপ্রধান নাওমি গ্লাইটের পক্ষ থেকে এক ভিডিও বার্তায় এই নতুন নীতিমালার কথা জানানো হয়। এই সিদ্ধান্তের ফলে মেটার প্ল্যাটফর্মগুলোতে সাধারণ সেবাসমূহ বিনামূল্যে পাওয়া গেলেও, বাড়তি সুবিধা বা প্রিমিয়াম টুলস ব্যবহারের জন্য ব্যবহারকারীদের এখন থেকে নির্দিষ্ট অঙ্কের অর্থ ব্যয় করতে হবে। বিশেষ করে যারা পেশাদার কনটেন্ট ক্রিয়েটর এবং ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে এই মাধ্যমগুলো ব্যবহার করেন, তাদের ক্ষেত্রে এই সিদ্ধান্ত বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ঘোষণা অনুযায়ী, মেটা তাদের প্ল্যাটফর্মগুলোর জন্য ‘প্লাস’ সংস্করণ নিয়ে আসছে। ইনস্টাগ্রাম প্লাস এবং ফেসবুক প্লাসের প্রিমিয়াম সুবিধাগুলো পেতে ব্যবহারকারীদের প্রতি মাসে ৩.৯৯ মার্কিন ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৪৭০ টাকা) খরচ করতে হবে। অন্যদিকে, যোগাযোগ মাধ্যম হোয়াটসঅ্যাপ প্লাসের গ্রাহক হতে হলে প্রতি মাসে গুনতে হবে ২.৯৯ মার্কিন ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩৫০ টাকা)। তবে মেটা কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট করেছে যে, বর্তমানে সাধারণ ব্যবহারকারীরা যে সমস্ত ফ্রি বা বিনামূল্যে পাওয়ার যোগ্য সুবিধাগুলো ভোগ করছেন, তা আপাতত বন্ধ করা হচ্ছে না। মূলত যারা অতিরিক্ত ও উন্নত পরিকাঠামোগত সুবিধা চান, তাদের লক্ষ্য করেই এই সাবস্ক্রিপশন মডেলটি সাজানো হয়েছে।

ইনস্টাগ্রাম প্লাস এবং ফেসবুক প্লাসের পেইড সংস্করণে গ্রাহকদের জন্য বেশ কিছু আধুনিক প্রযুক্তির টুল অন্তর্ভুক্ত থাকবে। এর মধ্যে অন্যতম হলো অত্যন্ত নিখুঁত ও উন্নত ‘অ্যানালিটিকস’ সুবিধা, যার মাধ্যমে কনটেন্ট ক্রিয়েটররা তাদের দর্শক বা ফলোয়ারদের আচরণ বিশদভাবে বিশ্লেষণ করতে পারবেন। এছাড়া যেকোনো রিল বা স্টোরি নির্দিষ্ট সংখ্যার বাইরেও বারবার দেখার সুযোগ, সম্পূর্ণ নিজস্ব রুচি অনুযায়ী প্রোফাইল সাজানোর বা কাস্টমাইজেশনের সুবিধা এবং খুব কম সময়ে বিপুলসংখ্যক দর্শকের কাছে কনটেন্ট পৌঁছে দেওয়ার জন্য বিশেষ বুস্টিং টুলস দেওয়া হবে। মেটার দাবি, এই উদ্যোগের ফলে কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও তাদের অনুসারীদের মধ্যে যোগাযোগ আরও নিবিড় ও ফলপ্রসূ হবে।

পাশাপাশি, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও পছন্দকে প্রাধান্য দিয়ে সাজানো হয়েছে হোয়াটসঅ্যাপ প্লাস সংস্করণ। এই সংস্করণের গ্রাহকরা সাধারণ অ্যাপের বাইরে অতিরিক্ত কিছু প্রিমিয়াম স্টিকার, কাস্টমাইজড অ্যাপ থিম এবং আকর্ষণীয় রিংটোন ব্যবহারের সুযোগ পাবেন। মেটা ইঙ্গিত দিয়েছে যে, ভবিষ্যতে এই সাবস্ক্রিপশন ব্যবস্থার পরিধি আরও বাড়ানো হবে। আগামী দিনগুলোতে বিষয়ভিত্তিক এক্সক্লুসিভ ভিডিও বা ছবি, উন্নত ই-কমার্স বা ব্যবসায়িক সমাধান এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-ভিত্তিক নানা সুযোগ-সুবিধা এই পেইড মডেলের আওতায় যুক্ত করা হতে পারে।

প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, মেটার এই পদক্ষেপ কেবল বাড়তি আয়ের উৎস তৈরি করাই নয়, বরং তাদের দীর্ঘমেয়াদি ব্যবসায়িক কাঠামোর বড় পরিবর্তনের আভাস দেয়। বর্তমান যুগে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে কৃত্রিম মেধা বা এআই প্রযুক্তির শক্তিশালী পরিকাঠামো গড়ে তোলা আবশ্যক। আর এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে মেটা চলতি বছরেই প্রায় ১৮ হাজার থেকে ২০ হাজার কোটি মার্কিন ডলারের বিশাল বাজেট বরাদ্দ করেছে। এই বিপুল পরিমাণ অর্থ মূলত উন্নত ডেটা সেন্টার স্থাপন এবং সুপারকম্পিউটিং ক্ষমতার উন্নয়নে ব্যয় করা হবে। এতদিন মেটার আয়ের মূল উৎস ছিল বিভিন্ন বিজ্ঞাপনী প্রদর্শনী, তবে নতুন এই পেইড সাবস্ক্রিপশন মডেলের মাধ্যমে সংস্থাটি সরাসরি গ্রাহকভিত্তিক রাজস্ব মডেলের দিকে অগ্রসর হচ্ছে, যা বৈশ্বিক প্রযুক্তি বাজারে এক নতুন ধারার জন্ম দেবে।

s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026