বিশেষ প্রতিবেদক
পবিত্র হজ পালন শেষে নির্বিঘ্নে দেশে ফিরছেন বাংলাদেশি হাজিরা। চলতি বছরের হজের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হওয়ার পর গত শুক্রবার পর্যন্ত মোট ১৮৮টি ফিরতি ফ্লাইটে ৬৮ হাজার ২৯৭ জন হাজি বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তন করেছেন। ঢাকায় প্রাপ্ত সর্বশেষ সরকারি হজ বুলেটিনের তথ্য অনুযায়ী, প্রত্যাবর্তনকারী হাজিদের মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৪ হাজার ৪৫৯ জন এবং বেসরকারি ট্রাভেল এজেন্সির মাধ্যমে দেশে ফিরেছেন ৬৩ হাজার ৮৩৮ জন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অবশিষ্ট হাজিরা নির্ধারিত এয়ারলাইনসের সূচি অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে আগামী ১ জুলাইয়ের মধ্যে দেশে ফিরবেন।
ঘোষিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, হাজিদের ফিরিয়ে আনতে এখন পর্যন্ত তিনটি প্রধান এয়ারলাইনস মোট ১৮৮টি ফিরতি ফ্লাইট পরিচালনা করেছে। এর মধ্যে রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী প্রতিষ্ঠান বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস সর্বোচ্চ ১০২টি ফ্লাইট পরিচালনা করে ৩১ হাজার ৯৮১ জন হাজি দেশে ফিরিয়ে এনেছে। এ ছাড়া সৌদিয়া এয়ারলাইনস ৬৩টি ফ্লাইটে ২৩Style ১৪৯ জন এবং ফ্লাইনাস এয়ারলাইনস ২৩টি ফ্লাইটে ৮ হাজার ৯৬৭ জন হাজিকে পরিবহন করেছে। অবশিষ্ট ৪ হাজার ২০০ জন হাজি অন্যান্য বিশেষ ফ্লাইটের মাধ্যমে দেশে ফিরেছেন।
ধর্ম মন্ত্রণালয় ও হজ অফিসের তথ্যমতে, চলতি বছর বাংলাদেশের জন্য সর্বমোট ৭৮ হাজার ৫০০ জন হজযাত্রীর কোটা বরাদ্দ ছিল। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৪ হাজার ৫৬৫ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৭৩ হাজার ৯৩৫ জন হজে যান। গত ১৮ এপ্রিল প্রথম বহির্গামী ফ্লাইটের মাধ্যমে এই বছরের হজ পরিবহন কার্যক্রমের সূচনা হয়েছিল, যা ২১ মে প্রাক-হজ ফ্লাইট সমাপ্তির মাধ্যমে প্রথম ধাপ শেষ করে। এরপর গত ২৬ মে সৌদি আরবে পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হয়। হজের যাবতীয় ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে ৩০ মে থেকে ফিরতি হজ ফ্লাইট শুরু হয়, যা আগামী ১ জুলাই পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে।
এদিকে হজ বুলেটিনের সর্বশেষ তথ্যে জানানো হয়েছে, এবারের হজ মৌসুমে বার্ধক্য ও বিভিন্ন স্বাস্থ্যগত জটিলতার কারণে সর্বমোট ৫৫ জন বাংলাদেশি হাজি সৌদি আরবে ইন্তেকাল করেছেন। মৃতদের মধ্যে মক্কায় ৩৭ জন, মদিনায় ১৭ জন এবং জেদ্দায় একজন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তবে হজের অন্যতম প্রধান দুই স্থান মিনা বা মুজদালিফায় কোনো বাংলাদেশি হাজির মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি। সৌদি আরবের নিয়ম অনুযায়ী, ইন্তেকাল করা হাজিদের পবিত্র মক্কা ও মদিনার স্থানীয় কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে।
হজ মিশন আরও জানায়, তীব্র গরম ও দীর্ঘ ভ্রমণের কারণে অনেক হাজি অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। অসুস্থ হাজিদের চিকিৎসাসেবায় সৌদি আরবে নিযুক্ত বাংলাদেশের চিকিৎসাদল নিরলসভাবে কাজ করেছে। বুলেটিনের তথ্য অনুযায়ী, ৪১৫ জন বাংলাদেশি হাজি সৌদি আরবের বিভিন্ন হাসপাতালে জরুরি ও বহির্বিভাগীয় চিকিৎসা নিয়েছেন, যাদের মধ্যে ১১ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি রেখে সেবা দেওয়া হয়। এ ছাড়া সৌদি আরবের বিভিন্ন মেডিক্যাল সেন্টার সামগ্রিকভাবে ৬৭ হাজার ৮৬ জন হাজিকে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করেছে। পাশাপাশি মক্কা ও মদিনায় স্থাপিত আইটি হেল্প ডেস্কের মাধ্যমে ২৮ হাজার ৪০৫ জন হাজিকে হারিয়ে যাওয়া লগেজ উদ্ধার ও পথ নির্দেশনাসহ বিভিন্ন তথ্যগত সহায়তা দেওয়া হয়েছে। বাকি হাজিদের নিরাপদ প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করতে জেদ্দা ও মদিনা বিমানবন্দরে সার্বক্ষণিক মনিটরিং ব্যবস্থা চালু রয়েছে।