সারাদেশ ডেস্ক
কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের ১৩টি দানবাক্স দীর্ঘ ছয় মাস পর খোলা হয়েছে। আজ শনিবার সকাল ৭টার দিকে জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও মসজিদ পরিচালনা কমিটির সদস্যদের উপস্থিতিতে দানবাক্সগুলো খোলা হয়। এবার অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে সর্বোচ্চ ৪৩ বস্তা টাকা পাওয়া গেছে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, বিপুল পরিমাণ এই অর্থ গণনার কাজ চলছে।
দানবাক্স খোলা কমিটির আহ্বায়ক ও অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এরশাদুল আহমেদের তত্ত্বাবধানে সকাল থেকে এই কার্যক্রম শুরু হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নাজমুস সাকিব। বাক্সগুলো খোলার পর টাকাগুলো প্রথমে বস্তায় ভরে মসজিদের দ্বিতীয় তলায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে মেঝেতে ঢেলে গণনা শুরু করেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা।
টাকা গণনার বিশাল এই কর্মযজ্ঞে অংশ নিয়েছেন পাগলা মসজিদ-সংলগ্ন মাদ্রাসার ১১০ জন শিক্ষার্থী, আল-জামিয়াতুল ইমদাদিয়া মাদ্রাসার ৩০০ জন শিক্ষার্থী, মসজিদের ৩৩ জন কর্মচারী এবং রূপালী ব্যাংকের ১৩০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী। সামগ্রিক প্রক্রিয়ার সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিপুল সংখ্যক সদস্য সেখানে নিয়োজিত রয়েছেন।
জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন জানান, দীর্ঘ ছয় মাস পর এবার দানবাক্সগুলো খোলা হয়েছে এবং ৪৩ বস্তা টাকা পাওয়া গেছে। গণনা সম্পন্ন হওয়ার পর মোট প্রাপ্ত অর্থের সুনির্দিষ্ট পরিমাণ আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো সম্ভব হবে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নাজমুস সাকিব বলেন, দানবাক্স খোলা থেকে শুরু করে অর্থ গণনা এবং তা ব্যাংকে নিরাপদে পৌঁছে দেওয়া পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়ায় সর্বোচ্চ ও কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা বজায় রাখা হয়েছে।
এর আগে সর্বশেষ গত বছরের ২৭ ডিসেম্বর পাগলা মসজিদের দানবাক্সগুলো খোলা হয়েছিল। তখন ৩ মাস ২৭ দিনে দানবাক্স থেকে ৩৫ বস্তা টাকা পাওয়া যায়, যার মোট পরিমাণ ছিল ১১ কোটি ৭৮ লাখ ৪৮ হাজার ৫৩৮ টাকা। নগদ টাকার পাশাপাশি সেবারও বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা এবং সোনা ও রুপার গহনা জমা পড়েছিল। সংশ্লিষ্টরা ধারণা করছেন, এবার যেহেতু দীর্ঘ ছয় মাস পর বাক্সগুলো খোলা হয়েছে এবং বস্তার সংখ্যাও অনেক বেশি, তাই দানের পরিমাণ পূর্বের সব রেকর্ডকে অতিক্রম করবে।
কিশোরগঞ্জ শহরের হারুয়া এলাকায় নরসুন্দা নদীর তীরে অবস্থিত এই ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদটি দেশের অন্যতম ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক স্থাপনা হিসেবে সমাদৃত। এই মসজিদ ও ইসলামী কমপ্লেক্স পরিচালনার জন্য ৩১ সদস্যবিশিষ্ট একটি শক্তিশালী কমিটি দায়িত্ব পালন করে আসছে। পদাধিকারবলে জেলা প্রশাসক এই কমিটির সভাপতি এবং কিশোরগঞ্জ পৌরসভার মেয়র বা প্রশাসক সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের বিশ্বাস ও ধর্মীয় আবেগ জড়িত থাকায় প্রতিদিন দেশ-বিদেশের অসংখ্য মানুষ এই মসজিদে নগদ অর্থ, স্বর্ণালঙ্কার ও বৈদেশিক মুদ্রা দান করে থাকেন।