1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, ১২:৫১ অপরাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
পিতা ও পুত্রের একই দিনে জন্মদিন: ৪২ বছরে পদার্পণ করলেন অভিনেতা অপূর্ব বাংলাদেশ-চীন দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত অংশীদারিত্ব সম্প্রসারণে ঐকমত্য রাজধানীতে ডিএমপির বিশেষ অভিযানে ৬৩ জন গ্রেপ্তার ৬৮ হাজারেরও বেশি হাজি দেশে ফিরেছেন, চলতি বছর মৃত্যু ৫৫ জনের উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক স্থাপনায় ইরানের আইআরজিসির পাল্টা হামলা আইসিসির কাছে অর্থায়ন ও ক্রিকেটীয় সুবিধা স্থগিতের আবেদন সাবেক বিসিবি সভাপতির মোংলা অর্থনৈতিক অঞ্চল হস্তান্তর: ভারতের পরিবর্তে এবার চীনের সঙ্গে নতুন চুক্তি ১৫ বছর পর এনআইডি নবায়ন বাধ্যতামূলক করার উদ্যোগ নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের দানবাক্স খুলে রেকর্ড ৪৩ বস্তা টাকা, চলছে গণনা সৌদি আরবের বিদায়, প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে কেপ ভার্দে

মোংলা অর্থনৈতিক অঞ্চল হস্তান্তর: ভারতের পরিবর্তে এবার চীনের সঙ্গে নতুন চুক্তি

রিপোর্টার
  • আপডেট : শনিবার, ২৭ জুন, ২০২৬
  • ০ বার দেখা হয়েছে

বিশেষ প্রতিবেদক

মোংলা বন্দরের কৌশলগত অবস্থানে দেশের বিনিয়োগ কৌশলে বড় ধরনের পরিবর্তনের মাধ্যমে ভারতের জন্য পূর্বে নির্ধারিত একটি অর্থনৈতিক অঞ্চলের জমি এবার চীনা রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের কাছে হস্তান্তর করেছে বাংলাদেশ। বড় পরিসরে চীনা বিনিয়োগ আকর্ষণে অগ্রাধিকার দিয়ে বাগেরহাটের মোংলা বন্দর সংলগ্ন প্রায় ১১০ একর জমির ওপর ‘চীন-বাংলাদেশ মোংলা বন্দর অর্থনৈতিক অঞ্চল’ গড়ে তুলতে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) বেইজিংয়ে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) এবং চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান ‘চায়না সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন কর্পোরেশন’ (সিসিইসিসি)-এর মধ্যে এই দ্বিপক্ষীয় চুক্তিটি সই হয়। সমঝোতা স্মারক সই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উপস্থিত ছিলেন। চুক্তি অনুযায়ী, নির্ধারিত স্থানে দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০১৫ সালে শুরু হওয়া এক দ্বিপক্ষীয় উদ্যোগের আওতায় মোংলার এই জমিটি দীর্ঘ সময় ভারতের জন্য বরাদ্দ ছিল। তবে ভারত সরকারের মনোনীত ডেভেলপার প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে ভূমি উন্নয়নকাজ শুরু করতে না পারায়, ২০২৫ সালের অক্টোবরে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার প্রকল্পটির ভারতীয় অংশীদারিত্ব বাতিল ঘোষণা করে। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের জুনে বাংলাদেশে অবস্থিত চীনের দূতাবাস একই জায়গায় একটি চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দিলে সরকার তা পর্যালোচনার পর অনুমোদন দেয়।

চীনের সঙ্গে অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য জোরদার করার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর চলমান চীন সফরে সই হওয়া বেশ কয়েকটি বিনিয়োগ সংক্রান্ত চুক্তির মধ্যে মোংলার এই চুক্তিটি অন্যতম। এর পাশাপাশি চট্টগ্রামের আনোয়ারায় ‘চীনা অর্থনৈতিক ও শিল্প অঞ্চল’ প্রতিষ্ঠার জন্য চায়না রোড অ্যান্ড ব্রিজ কর্পোরেশন (সিআরবিসি)-এর সঙ্গেও একটি ডেভেলপার সমঝোতা স্মারক সই ও বিনিময় করেছে বেজা। এছাড়া বাংলাদেশে চীনা বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগের প্রসার, ব্যবসায়িক যোগাযোগ জোরদার এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা সেবা নিশ্চিত করতে চায়না কাউন্সিল ফর দ্য প্রমোশন অব ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড (সিসিপআইটি)-এর সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক সই করেছে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)। ঢাকার কেরানীগঞ্জ অর্থনৈতিক অঞ্চলেও চীনের হান্ডা গ্রুপকে জমি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যেখানে কোম্পানিটি প্রায় ২২ কোটি ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা করছে।

এই মোংলা অর্থনৈতিক অঞ্চলের একটি দীর্ঘ পটভূমি রয়েছে। ২০১৫ সালে বাংলাদেশ ও ভারত মোংলা ও মিরসরাইয়ে দুটি ভারতীয় অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ার জন্য সমঝোতা স্মারক সই করেছিল, যা ভারতের লাইন অব ক্রেডিট (এলওসি) কর্মসূচির আওতায় বাস্তবায়নের পরিকল্পনা ছিল। এ উদ্যোগের অংশ হিসেবে মোংলা বন্দর ও খুলনার মধ্যে ভারতীয় অর্থায়নে একটি রেলপথও নির্মাণ করা হয়। ২০১৮ সালের ২১ মার্চ হিরানান্দানি গ্রুপকে ডেভেলপার হিসেবে মনোনয়ন দেয় ভারত সরকার। পরে এর সহযোগী প্রতিষ্ঠান ইভিটা কনস্ট্রাকশন্স প্রাইভেট লিমিটেডকে ডেভেলপার নিয়োগ দিয়ে ২০২২ সালের ২ মার্চ বেজার সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়। তবে ২০২৪ সালের আগস্টে বাংলাদেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর প্রকল্পটি স্থবির হয়ে পড়ে এবং চুক্তিতে নির্ধারিত দুই বছরের মধ্যে ভারতীয় প্রতিষ্ঠানটি ভূমি উন্নয়নের মূল কাজ শুরু করতে ব্যর্থ হয়।

ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা সম্পর্কে বেজার নির্বাহী সদস্য মেজর জেনারেল (অব.) মো. নজরুল ইসলাম জানিয়েছেন, মোংলা ইকোনমিক জোনে উচ্চ মূল্য সংযোজনকারী শিল্প স্থাপনে চীনা বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ অনেক বেশি। তারা মূলত টেলিকমিউনিকেশন, ইলেকট্রনিক্সসহ বিভিন্ন আধুনিক খাতে কারখানা ও উন্নত ওয়্যারহাউজিং সুবিধা গড়ে তুলতে চায়। সদ্য সই হওয়া চুক্তিটি আপাতত সরকার-টু-সরকার (জিটুজি) সমঝোতা হিসেবে থাকবে। চীনা পক্ষ পূর্ণাঙ্গ মাস্টার প্ল্যান তৈরির পর টেকনিক্যাল ও নেগোসিয়েশন কমিটির মাধ্যমে কারিগরি ও আর্থিক বিষয়গুলো পর্যালোচনা করে চূড়ান্ত চুক্তির দিকে অগ্রসর হওয়া হবে। এই প্রকল্পে বেজা সরাসরি বড় কোনো আর্থিক বিনিয়োগ না করে কেবল জমি সরবরাহ করবে, আর মনোনীত ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানটি নিজস্ব অর্থায়নে সম্পূর্ণ অবকাঠামো উন্নয়ন করবে। জমির বিপরীতে বেজার অংশীদারিত্ব বা লভ্যাংশের হার পরবর্তী আলোচনার মাধ্যমে চূড়ান্ত করা হবে।

s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026