খেলাধূলা ডেস্ক
বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে দুর্দান্ত ছন্দে থাকা অধিনায়ক লিওনেল মেসিকে নিয়ে কোনো ধরনের ঝুঁকি নিতে চাইছে না আর্জেন্টিনা ফুটবল দল। ‘জে’ গ্রুপের শেষ ম্যাচে জর্ডানের বিপক্ষে মাঠের লড়াইয়ে শুরুর একাদশে থাকছেন না এই আর্জেন্টাইন মহাতারকা। তবে ম্যাচের পরিস্থিতি বিবেচনা করে পরবর্তীতে বদলি খেলোয়াড় হিসেবে তাকে মাঠে নামানো হতে পারে বলে জানিয়েছেন দলের প্রধান কোচ লিওনেল স্কালোনি।
আজ এক সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আর্জেন্টিনা দলের কোচ লিওনেল স্কালোনি। সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি জানান, লিওনেল মেসি শুরুতে বেঞ্চে থাকবেন এবং ম্যাচের কোনো এক পর্যায়ে তাকে মাঠে নামানোর পরিকল্পনা রয়েছে টিম ম্যানেজমেন্টের। মূলত নকআউট পর্বের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলোর আগে দলের সবচেয়ে বড় তারকাকে সম্পূর্ণ ফিট ও সতেজ রাখতেই এই কৌশলগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
চলতি বিশ্বকাপে আলজেরিয়া ও অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে টানা দুই ম্যাচে জয়লাভ করে ইতোমধ্যেই টুর্নামেন্টের রাউন্ড অব ৩২ বা নকআউট পর্ব নিশ্চিত করেছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচটি তাই আর্জেন্টিনার জন্য টেবিলের শীর্ষস্থান ধরে রাখার আনুষ্ঠানিকতা মাত্র। সমীকরণ অনুকূলে থাকায় এবং পরবর্তী রাউন্ডের টিকিট নিশ্চিত হয়ে যাওয়ায় জর্ডানের বিপক্ষে ম্যাচে প্রধান তারকাকে বিশ্রামে রাখার সুযোগ পাচ্ছে আলবিসেলেস্তেরা।
এবারের বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত আর্জেন্টিনার আক্রমণভাগের মূল ভরসা হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করেছেন লিওনেল মেসি। টুর্নামেন্টে দলের করা মোট পাঁচটি গোলের সবকটিই এসেছে এই অধিনায়কের পা থেকে। প্রথম ম্যাচে আলজেরিয়ার বিপক্ষে অনবদ্য হ্যাটট্রিক করার পর দ্বিতীয় ম্যাচে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষেও জোড়া গোল করেন তিনি। এই চমৎকার পারফরম্যান্সের ওপর ভর করে বিশ্বকাপে তার মোট গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৮-তে, যা বিশ্বমঞ্চের ইতিহাসে এখন পর্যন্ত যেকোনো খেলোয়াড়ের জন্য সর্বোচ্চ।
বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলের এই রেকর্ড গড়ার পথে মেসি পেছনে ফেলেছেন জার্মানির কিংবদন্তি স্ট্রাইকার মিরোস্লাভ ক্লোসাকে। আলজেরিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করার মাধ্যমে ক্লোসার ১৬ গোলের রেকর্ড স্পর্শ করেছিলেন মেসি। এরপর অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে আরও দুই গোল করে তিনি ক্লোসাকে ছাড়িয়ে এককভাবে বিশ্বকাপ ইতিহাসের শীর্ষ গোলদাতার মর্যাদা লাভ করেন।
দীর্ঘ আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে আর্জেন্টিনার হয়ে এখন পর্যন্ত ২০১টি ম্যাচ খেলেছেন লিওনেল মেসি। আন্তর্জাতিক ফুটবলের ইতিহাসে এটি তার ষষ্ঠ বিশ্বকাপ আসর। এ পর্যন্ত রেকর্ড ২৮টি বিশ্বকাপ ম্যাচ খেলার কীর্তি গড়েছেন তিনি। পাশাপাশি টানা ছয়টি বিশ্বকাপে গোল করার অনন্য মাইলফলক স্পর্শ করেছেন, যা বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে এর আগে কেবল ফ্রান্সের জুস্ত ফন্টেইন ও ব্রাজিলের জর্জিনহোর ছিল।
বিশ্বকাপের মূল আসর শুরু হওয়ার আগে মার্কিন ক্লাব ইন্টার মায়ামির হয়ে খেলার সময় হ্যামস্ট্রিংয়ের সামান্য ইনজুরিতে ভুগছিলেন মেসি। যদিও চলতি বিশ্বমঞ্চে এখন পর্যন্ত তার শারীরিক ফিটনেস নিয়ে নতুন কোনো সমস্যা দেখা যায়নি। তবুও নকআউট পর্বের কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হওয়ার আগে দলের সেরা খেলোয়াড়কে পূর্ণ বিশ্রামে রেখে দীর্ঘমেয়াদী সুবিধা নিতে চায় ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নরা।
জর্ডানের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের এই ম্যাচটি শেষ হওয়ার পরপরই আর্জেন্টিনার নকআউট পর্বের মূল অভিযান শুরু হবে। উল্লেখ্য, এবারের বিশ্বকাপের নতুন ৪৮ দলের বর্ধিত ফরম্যাটে শিরোপা ধরে রাখতে হলে আর্জেন্টিনাকে নকআউট পর্বে টানা পাঁচটি ম্যাচে জয়লাভ করতে হবে। দীর্ঘ ও ক্লান্তিকর এই যাত্রায় দলের সাফল্যের জন্য মেসির ফিটনেস ধরে রাখা অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করছেন ফুটবল বিশ্লেষকরা।