1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, ০৮:৩২ অপরাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া ও চীন সফর কূটনৈতিক মাইলফলক: জাতীয় সংসদে ধন্যবাদ প্রস্তাব পাস প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া ও চীন সফরে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত, সংসদে ধন্যবাদ প্রস্তাব গৃহীত রাজধানীর লেক ও জলাধার উন্নয়নে কাজ করছে সরকার: স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী সফল সফর শেষে বাবা-মায়ের কবর জিয়ারত করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পিতা ও পুত্রের একই দিনে জন্মদিন: ৪২ বছরে পদার্পণ করলেন অভিনেতা অপূর্ব বাংলাদেশ-চীন দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত অংশীদারিত্ব সম্প্রসারণে ঐকমত্য রাজধানীতে ডিএমপির বিশেষ অভিযানে ৬৩ জন গ্রেপ্তার ৬৮ হাজারেরও বেশি হাজি দেশে ফিরেছেন, চলতি বছর মৃত্যু ৫৫ জনের উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক স্থাপনায় ইরানের আইআরজিসির পাল্টা হামলা আইসিসির কাছে অর্থায়ন ও ক্রিকেটীয় সুবিধা স্থগিতের আবেদন সাবেক বিসিবি সভাপতির

প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া ও চীন সফর কূটনৈতিক মাইলফলক: জাতীয় সংসদে ধন্যবাদ প্রস্তাব পাস

রিপোর্টার
  • আপডেট : শনিবার, ২৭ জুন, ২০২৬
  • ০ বার দেখা হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক মালয়েশিয়া ও চীন সফরকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি ও কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। এই সফল সফরের সুদূরপ্রসারী ইতিবাচক প্রভাব ও দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির ভূয়সী প্রশংসা করে জাতীয় সংসদে একটি ধন্যবাদ প্রস্তাব সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়েছে। শনিবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই ধন্যবাদ প্রস্তাবটি উত্থাপন করেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংসদ অধিবেশনে দীর্ঘ আলোচনা শেষে প্রস্তাবটি কণ্ঠভোটে পাস হয়।

সংসদে বক্তব্য রাখতে গিয়ে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, প্রধানমন্ত্রীর এই সফর দুই বন্ধুপ্রতিম দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে। পারস্পরিক স্বার্থ, সমতা ও সার্বভৌম সম্মানের ভিত্তিতে সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে। দেশে গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা পুনঃপ্রতিষ্ঠার পর নতুন সরকারের প্রধান হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই কূটনৈতিক তৎপরতা আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ও অবস্থানকে অত্যন্ত সুদৃঢ় করেছে। এটি কেবল একটি আনুষ্ঠানিক সফর ছিল না, বরং দেশের অর্থনীতি ও ভূ-রাজনীতিতে এর প্রভাব অত্যন্ত গভীর ও তাৎপর্যপূর্ণ।

চীন সফরের সুনির্দিষ্ট অর্জনগুলো সংসদের সামনে তুলে ধরে মন্ত্রী জানান, সফরকালে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদল ও চীনের মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, অবকাঠামো উন্নয়ন ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে ১৭টি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই চুক্তি ও সমঝোতাগুলো আগামী দিনে দুই দেশের অর্থনৈতিক ও উন্নয়ন সহযোগিতাকে আরও গতিশীল করবে। বিশেষ করে বাংলাদেশের অবকাঠামোগত মেগা প্রকল্পগুলোতে চীনের বিনিয়োগ এবং দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ঘাটতি হ্রাসের ক্ষেত্রে এই সফর অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। এর ফলে দেশের শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে নতুন গতি সঞ্চার হবে।

অন্যদিকে, মালয়েশিয়া সফরের মাধ্যমে দেশটির সঙ্গে বাংলাদেশের জনশক্তি রপ্তানি, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মীদের অধিকার সুরক্ষা এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির বিষয়ে দেশটির শীর্ষ নেতৃত্বের সাথে ফলপ্রসূ ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম প্রধান অর্থনৈতিক শক্তি মালয়েশিয়ার সাথে এই সম্পর্ক উন্নয়নকে দেশের রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধির ক্ষেত্রে একটি বড় অনুঘটক হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্ট নীতি-নির্ধারকেরা।

দীর্ঘদিন ধরে চলমান রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই ও স্থায়ী সমাধানের বিষয়ে এই দুই দেশের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করা হয়। স্থানীয় সরকারমন্ত্রী তার বক্তব্যে বলেন, মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত হওয়া রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে সসম্মানে ও নিরাপদ উপায়ে নিজ ভূমিতে প্রত্যাবাসনের জন্য চীন ও মালয়েশিয়া উভয় দেশই বাংলাদেশকে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে। আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক পরাশক্তি হিসেবে চীনের এই ইতিবাচক অবস্থান এবং আসিয়ান সদস্য হিসেবে মালয়েশিয়ার সমর্থন এ ইস্যুতে বাংলাদেশের কূটনৈতিক অবস্থানকে বৈশ্বিক মঞ্চে আরও শক্তিশালী ও বেগবান করবে।

প্রধানমন্ত্রীর এই সফরের একটি ভিন্নধর্মী ও প্রশংসনীয় দিকও সংসদে বিশেষভাবে আলোচনা করা হয়। মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, অতীতে বিদেশ সফরের আগে বা পরে জনসমাগমনির্ভর বিশাল সংবর্ধনার যে প্রচলিত রাজনৈতিক সংস্কৃতি ছিল, প্রধানমন্ত্রী তা সম্পূর্ণ পরিহার করেছেন। তিনি কোনো ধরনের জাঁকজমকপূর্ণ আনুষ্ঠানিকতা না করে রাষ্ট্র পরিচালনায় সংযম, মিতব্যয়িতা, দায়িত্বশীলতা ও জনবান্ধব রাজনৈতিক চর্চার একটি আধুনিক ও ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। সরকারের এই পদক্ষেপ দেশের সার্বিক রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সংস্কৃতিকে ইতিবাচক ধারায় প্রভাবিত করবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

সংসদে উপস্থিত সংসদ সদস্যরা এই ধন্যবাদ প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে বলেন, বর্তমান বিশ্বস্তরে ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণ যখন প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত হচ্ছে, তখন এই ধরনের সফল দ্বিপাক্ষিক সফর বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রাকে আরও ত্বরান্বিত করবে। বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণ, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং আঞ্চলিক যোগাযোগ বা কানেক্টিভিটি বাড়াতে এই সফরের সিদ্ধান্তগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের ওপর তাগিদ দেওয়া হয়। মন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, এই সফরের মাধ্যমে অর্জিত সমঝোতা ও সিদ্ধান্তগুলো মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক মুক্তি, বৈদেশিক বিনিয়োগ ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক আরও সুসংহত হবে।

s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026