নিজস্ব প্রতিবেদক
রাজধানীকে আরও পরিচ্ছন্ন, আধুনিক ও নাগরিকবান্ধব করে গড়ে তুলতে সরকার দেশের লেক ও জলাধার উন্নয়নে ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি উল্লেখ করেছেন, কোনো নির্দিষ্ট দেশের অনুকরণ নয়, বরং বাংলাদেশকে একটি সামগ্রিক ও সত্যিকারের বাসযোগ্য দেশে পরিণত করাই সরকারের মূল লক্ষ্য।
আজ শনিবার (২৭ জুন) রাজধানীর হাতিরঝিল এলাকায় চলমান পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি জানান, ঢাকার বিভিন্ন লেক, ঝিল ও জলাধারগুলোকে পরিচ্ছন্ন, দৃষ্টিনন্দন ও পরিবেশবান্ধব করার লক্ষ্যে একটি সুপরিকল্পিত কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ চলছে। এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে আগামী এক বছরের মধ্যে ধানমণ্ডি লেক-এর দৃশ্যপটে বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে গত এক মাস ধরে হাতিরঝিল লেকের সৌন্দর্যবর্ধন ও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের কাজও চলমান রয়েছে।
দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা ও তদারকির অভাব দূর করতে সংশ্লিষ্ট অংশীজন ও সংস্থাগুলোর সঙ্গে ইতিমধ্যে একাধিক সমন্বয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, হাতিরঝিলের সার্বিক নিরাপত্তা ও সৌন্দর্য রক্ষায় নতুন আলোকসজ্জা স্থাপন, লেকের দুই পাশ ভরাট এবং সৌন্দর্যবর্ধনমূলক কাজ পরিচালনা করা হচ্ছে। এছাড়া জনসাধারণের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে এবং সন্ধ্যার পর অবৈধ হকারদের অবস্থান রোধে এলাকাটিতে নিয়মিত আনসার সদস্য মোতায়েনের বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
চলতি মৌসুমের ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে মীর শাহে আলম বলেন, ঢাকার বিভিন্ন বাণিজ্যিক রেস্টুরেন্ট, সাধারণ বাসাবাড়ি ও সরকারি-বেসরকারি আবাসিক কোয়ার্টারগুলোতে এডিস মশার লার্ভার উপস্থিতি আশঙ্কাজনক মাত্রায় শনাক্ত হয়েছে। এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য শুধু সরকারি বা প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। ডেঙ্গু প্রতিরোধে এবং লার্ভার উৎপত্তিস্থল ধ্বংস করতে নাগরিকদের নিজস্ব পর্যায়ে সচেতন ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করা জরুরি।
জনস্বাস্থ্যের সুরক্ষায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচ্ছন্ন রাখার বিষয়েও সরকারের নতুন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী। তিনি জানান, তৃণমূল পর্যায়ে পরিচ্ছন্নতার বার্তা পৌঁছে দিতে প্রতি শনিবার দেশের উপজেলা পর্যায়ের সকল স্কুল ও কলেজ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে। এই কর্মসূচি যথাযথভাবে বাস্তবায়নের জন্য ইতিমধ্যে জাতীয় পর্যায় থেকেও সংশ্লিষ্ট বিভাগ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা ও গাইডলাইন প্রদান করা হয়েছে। সমন্বিত এই উদ্যোগের মাধ্যমে ঢাকার পরিবেশগত উন্নয়ন ও নাগরিক সুবিধা বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।