সংসদীয় সহযোগিতা জোরদার এবং শিক্ষা, কৃষি ও বাণিজ্য খাতে অংশীদারিত্ব সম্প্রসারণের লক্ষ্যে বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়া দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও গভীর করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে। ক্যানবেরার পার্লামেন্ট হাউজে অস্ট্রেলিয়ার প্রতিনিধি পরিষদের (হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস) স্পিকার মিল্টন ডিকের সঙ্গে তাঁর কার্যালয়ে অস্ট্রেলিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার এফ এম বোরহান উদ্দিন সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। বৈঠকে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দ্বিপাক্ষিক বিষয় এবং দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
বৈঠকে অস্ট্রেলিয়ার স্পিকার মিল্টন ডিক বিগত ঢাকা সফরকালে পাওয়া আতিথেয়তার জন্য গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। একই সাথে তিনি ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু সাধারণ নির্বাচন সম্পন্ন করার জন্য বাংলাদেশের প্রশংসা করেন। স্পিকার দুই বন্ধুত্বপূর্ণ দেশের দীর্ঘস্থায়ী দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে এবং পারস্পরিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে বাংলাদেশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার জোরালো আগ্রহ ব্যক্ত করেন।
আলোচনায় উভয় পক্ষ শিক্ষা, কৃষি ও বাণিজ্যসহ সম্ভাবনাময় খাতগুলোতে অংশীদারিত্ব বৃদ্ধির বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছায়। বিশেষ করে বাংলাদেশের কৃষি খাতের আধুনিকায়ন এবং উচ্চশিক্ষা ও কারিগরি প্রশিক্ষণে অস্ট্রেলিয়ার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ও কারিগরি সহযোগিতা ব্যবহারের বিষয়ে কথা হয়। বাণিজ্য সম্পর্ক সম্প্রসারণে নতুন বাজার সৃষ্টি এবং দুই দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে সংযোগ বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও প্রাতিষ্ঠানিক অভিজ্ঞতা বিনিময়ের লক্ষ্যে বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার সংসদীয় দলগুলোর মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ ও সহযোগিতা আরও জোরদার করার বিষয়েও উভয় পক্ষ গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেছে। এর ফলে দুই দেশের সংসদীয় ব্যবস্থার সর্বোত্তম চর্চাগুলো আদান-প্রদানের সুযোগ তৈরি হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।
কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই বৈঠক বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া সম্পর্কের ক্রমবর্ধমান গতিশীলতার একটি ইতিবাচক প্রতিফলন। ভৌগোলিক ও কৌশলগত কারণে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে অস্ট্রেলিয়ার অবস্থান এবং দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশের উদীয়মান অর্থনৈতিক গুরুত্ব দুই দেশের অংশীদারিত্বকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে। পারস্পরিক স্বার্থে বিভিন্ন নতুন খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণের এই উদ্যোগ দীর্ঘমেয়াদে দুই দেশের অর্থনীতি ও বৈশ্বিক কূটনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।