1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬, ০১:২০ অপরাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও গভীর করার অঙ্গীকার সৌদি প্রবাসীদের সাদা কাগজে স্বাক্ষর ও টিপসই না দেওয়ার নির্দেশ বাংলাদেশ দূতাবাসের দক্ষিণ কোরিয়াকে হারিয়ে অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে দক্ষিণ আফ্রিকা ভেনেজুয়েলায় পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পের আঘাত: দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা জারি যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে হয়রানির অভিযোগ: মেক্সিকো বিমানবন্দরে ইরানের ফুটবল অধিনায়ক ও সহকারী কোচকে আটক ভিনিসিয়ুসের টানা তিন ম্যাচে গোল: ব্রাজিলের হেক্সা মিশনের পালে নতুন হাওয়া জাপানের উত্তর-পূর্ব উপকূলে শক্তিশালী ৬.৯ মাত্রার ভূমিকম্প ১৭ ব্যবসা সুনির্দিষ্ট ভ্যাটের আওতায় আসছে, মূল্যস্ফীতি ৭.৫ শতাংশে নামানোর লক্ষ্য অর্থমন্ত্রীর স্কটল্যান্ডকে হারিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে নকআউটে ব্রাজিল রোহিঙ্গা ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে অস্ট্রেলিয়ার ১৩৭ কোটি টাকার মানবিক সহায়তা চুক্তি

বাংলাদেশ-চীন বাণিজ্য বৈষম্য দূরীকরণে প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন সফর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ: ১৫-১৭টি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের সম্ভাবনা

রিপোর্টার
  • আপডেট : বুধবার, ২৪ জুন, ২০২৬
  • ১৯ বার দেখা হয়েছে

বাংলাদেশ ডেস্ক

বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার বিশাল বাণিজ্য বৈষম্য হ্রাস এবং দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন চীন সফরকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা হচ্ছে। বর্তমানে দুই দেশের মধ্যে বার্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ২০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যার মধ্যে প্রায় ১৯ বিলিয়ন ডলারই চীনের অনুকূলে। অন্যদিকে, বাংলাদেশের রপ্তানি ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও কম। চীন বাংলাদেশকে শতভাগ পণ্যে শুল্কমুক্ত বাণিজ্য সুবিধা প্রদান করলেও দেশটিতে আশানুরূপ পণ্য রপ্তানি বাড়ানো সম্ভব হয়নি। এই প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রীর সফরে বাণিজ্যঘাটতি কমানো, এলডিসি-পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং বড় উন্নয়ন প্রকল্পগুলোতে চীনা অর্থায়ন প্রাপ্তির বিষয়টি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে বলে সংশ্লিষ্ট সরকারি সূত্রে জানা গেছে।

সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক ও নীতি-নির্ধারণী সূত্রগুলো জানায়, এই সফরে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, অবকাঠামো উন্নয়ন, জ্বালানি ও প্রযুক্তি সহযোগিতাসহ বিভিন্ন খাতে ১৫ থেকে ১৭টি দ্বিপক্ষীয় চুক্তি এবং সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হতে পারে। বাংলাদেশের অবকাঠামো খাতের বিভিন্ন মেগা প্রকল্পে সহজ শর্তে অর্থায়নের বিষয়ে চীনের এক্সিম ব্যাংকের সাথে উচ্চপর্যায়ের আলোচনার কথা রয়েছে। এছাড়া স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের পর বর্তমানের শুল্কমুক্ত সুবিধা বজায় রাখার বিকল্প হিসেবে দুই দেশের মধ্যে একটি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) স্বাক্ষরের বিষয়টি অগ্রাধিকার পাচ্ছে। ইতোমধ্যে এফটিএ-র যৌথ সম্ভাব্যতা সমীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে এবং এই সফরে আনুষ্ঠানিক চুক্তি স্বাক্ষরের লক্ষ্যে প্রত্যক্ষ আলোচনা শুরুর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে।

কৃষি খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে চীনে বাংলাদেশি আম ও কাঁঠাল রপ্তানির লক্ষ্যে একটি প্রোটোকল ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের সম্ভাবনা রয়েছে। চীনের জেনারেল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অব কাস্টমস সম্প্রতি বাংলাদেশি তাজা আম আমদানির ফাইটোস্যানিটারি (উদ্ভিদ স্বাস্থ্যবিষয়ক) প্রয়োজনীয়তা অনুমোদন করেছে। কৃষি মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের মতে, চীনের বিশাল বাজারে দেশীয় ফল রপ্তানির এই প্রোটোকল কার্যকর হলে তা বাংলাদেশের কৃষি অর্থনীতির জন্য একটি বড় মাইলফলক হিসেবে গণ্য হবে।

বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির লক্ষ্যে পণ্য রপ্তানির পাশাপাশি বাংলাদেশে চীনা বিনিয়োগ বৃদ্ধির বিষয়ে সুনির্দিষ্ট রূপরেখা তৈরি করা হচ্ছে। চট্টগ্রামের আনোয়ারায় একটি চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চলের অনুমোদন দেওয়ার পর এবার মোংলায় দ্বিতীয় আরেকটি চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার বিষয়ে বড় ধরনের অগ্রগতি হতে পারে। এছাড়া ডিজিটাল অর্থনীতি, তথ্য-প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং দুই দেশের মুদ্রা বিনিময় সহজতর করার লক্ষ্যে বাংলাদেশে চীনের ব্যাংক প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হবে। ব্যাংকিং ও ইন্স্যুরেন্স খাতের নিয়ন্ত্রণ জোরদারে বাংলাদেশ ব্যাংক এবং চীনের ন্যাশনাল ফাইন্যান্সিয়াল রেগুলেটরি অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের প্রস্তুতি চলছে।

অবকাঠামো খাতের উন্নয়নে মোংলা বন্দরের আধুনিকায়ন ও সংস্কারের জন্য একটি ফ্রেমওয়ার্ক চুক্তি সইয়ের বিষয় চূড়ান্ত হয়েছে। পাশাপাশি চীন-বাংলাদেশ মৈত্রী সেতু সংস্কার ও নতুন নবম চীন-বাংলাদেশ মৈত্রী সেতু নির্মাণ প্রকল্প নিয়ে দুই দেশের মধ্যে লেটার অব এক্সচেঞ্জ বিনিময় হবে। আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ চীনের গ্লোবাল ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভ (জিডিআই)-এ আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত হতে সমঝোতা স্মারক সই করতে পারে এবং বহুল আলোচিত তিস্তা মহাপরিকল্পনা ও সমন্বিত নদী ব্যবস্থাপনা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক জোট ব্রিকস (BRICS) এবং আঞ্চলিক বাণিজ্য জোট আরসিইপি (RCEP)-তে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তির বিষয়েও চীনের সক্রিয় সমর্থন চাওয়া হবে।

ব্যবসায়িক খাতের প্রতিনিধিরা মনে করেন, চীনের দেওয়া শুল্কমুক্ত সুবিধা এ যাবৎকাল পূর্ণাঙ্গভাবে ব্যবহার করা সম্ভব হয়নি। তাই বর্তমান প্রেক্ষাপটে ‘মেইড ইন বাংলাদেশ’ ব্র্যান্ডকে চীনের বাজারে সুপ্রতিষ্ঠিত করতে সুনির্দিষ্ট কৌশল গ্রহণ আবশ্যক। এই সফরকে কেন্দ্র করে চীনের বিভিন্ন শহরে বাংলাদেশি পণ্যের প্রদর্শনী ও বিক্রির জন্য ৩০টি আউটলেট স্থাপন, প্রযুক্তি স্থানান্তরের মাধ্যমে বাংলাদেশিদের দক্ষতা বাড়াতে ২০টি পলিটেকনিক স্কুল প্রতিষ্ঠা এবং দ্বিপক্ষীয় এলসি নিষ্পত্তির জন্য বিশেষ ব্যাংকিং ব্যবস্থা চালুর প্রস্তাবনা রয়েছে, যা দীর্ঘমেয়াদে দুই দেশের অর্থনৈতিক বৈষম্য কমিয়ে আনতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।

s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026