খেলাধূলা ডেস্ক
চলমান ফুটবল বিশ্বকাপে সেনেগালকে ৩-২ গোলে পরাজিত করে শেষ ষোলো বা নকআউট পর্ব নিশ্চিত করেছে নরওয়ে। তারকা স্ট্রাইকার আর্লিং হালান্ডের জোড়া গোলের ওপর ভর করে গ্রুপ পর্বের দ্বিতীয় ম্যাচেই এই জয় তুলে নেয় দলটি। এর মাধ্যমে দীর্ঘ ২৬ বছর পর বিশ্বমঞ্চের নকআউট পর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জন করল নরওয়েজিয়ানরা। এর আগে ১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপে সর্বশেষ নকআউটে খেলেছিল তারা।
ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দল আক্রমণ-প্রতিআক্রমণে মেতে ওঠে। তবে প্রথমার্ধে অধিকাংশ সময় বল নিয়ন্ত্রণে রেখে সেনেগালের রক্ষণে চাপ সৃষ্টি করে নরওয়ে। ম্যাচের ৩৫ মিনিটে আর্লিং হালান্ডের একটি জোরালো শট সেনেগালের গোলরক্ষক এদুয়ার্দ মেন্দি দুর্দান্ত দক্ষতায় প্রতিহত করলে সে যাত্রা রক্ষা পায় আফ্রিকান দলটি। তবে ডেডলক ভাঙতে বেশি সময় নেয়নি নরওয়ে। ম্যাচের ৪৩ মিনিটে মার্কাস পেদেরসেনের নিখুঁত শটে প্রথম গোলের দেখা পায় তারা। এই ১-০ ব্যবধানের লিড নিয়েই প্রথমার্ধের খেলা শেষ করে দুই দল।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ম্যাচের উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পায়। বিরতি থেকে ফিরেই ৪৮ মিনিটে নরওয়ের পক্ষে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ম্যানচেস্টার সিটির তারকা ফরোয়ার্ড আর্লিং হালান্ড। তবে নরওয়ের এই উদযাপনের স্থায়িত্ব ছিল মাত্র ৫ মিনিট ১১ সেকেন্ড। ম্যাচের ৫৩ মিনিটে সেনেগালের ফরোয়ার্ড ইসমাইলা সার একটি পাল্টা আক্রমণ থেকে গোল করে ব্যবধান ২-১ এ নামিয়ে আনেন এবং ম্যাচ জমিয়ে তোলেন।
সেনেগাল ম্যাচে ফেরার ইঙ্গিত দিলেও নরওয়েকে আবারও চালকের আসনে বসান হালান্ড। সতীর্থ স্যান্ডার বের্গের ক্রস থেকে বাম পাশে বল পেয়ে চমৎকার ফিনিশিংয়ে নিজের দ্বিতীয় এবং দলের পক্ষে তৃতীয় গোলটি করেন এই স্ট্রাইকার। ৩-১ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়েও হাল ছাড়েনি সেনেগাল। নির্ধারিত সময়ের পর যোগ করা সময়ে বক্সের ভেতর থেকে ব্যক্তিগত দ্বিতীয় গোল করে সেনেগালকে ম্যাচে ফেরান ইসমাইলা সার। স্কোরলাইন ৩-২ হওয়ায় সেনেগালের পয়েন্ট পাওয়ার সম্ভাবনা জাগলেও শেষ পর্যন্ত রেফরির শেষ বাঁশিতে জয় নিশ্চিত হয় নরওয়ের।
এই জয়ের ফলে গ্রুপ ‘আই’ থেকে টানা দুই ম্যাচে ৬ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের শীর্ষস্থান ও নকআউট পর্ব নিশ্চিত করল নরওয়ে। এর আগের ম্যাচে তারা ইরাককে ৪-১ গোলে পরাজিত করেছিল। ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘ ২৬ বছর পর বিশ্বকাপে ফিরেই নরওয়ের এই ধারাবাহিক পারফরম্যান্স এবং হালান্ডের ফর্ম টুর্নামেন্টের পরবর্তী রাউন্ডগুলোতে দলটিকে অন্যতম শক্তিশালী প্রতিযোগী হিসেবে দাঁড় করিয়েছে। অন্যদিকে, এই হারের ফলে সেনেগালের পরবর্তী রাউন্ডে যাওয়ার সমীকরণ অনেকটাই কঠিন হয়ে পড়ল।