1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
রবিবার, ২১ জুন ২০২৬, ০৪:১৫ অপরাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিতে লাইসেন্সিং প্রক্রিয়া সহজ করার উদ্যোগ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মালয়েশিয়া ও চীনের উদ্দেশে ঢাকা ছেড়েছেন ২৩ জুনে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করলে কঠোর ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি র‌্যাবের বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক এভিয়েশন হাবে পরিণত করতে ৩০ বছরের মহাপরিকল্পনা মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি ও টেকসই ব্যবস্থাপনায় জোর, বিএফআরআই পরিচালনা বোর্ডের সভা অনুষ্ঠিত আগামী তিন থেকে চার বছরের মধ্যে এক লাখ নতুন স্বাস্থ্যকর্মী ও ২৫ হাজার মিডওয়াইফ নিয়োগের পরিকল্পনা সাবেক এমপি মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী ৪ দিনের রিমান্ডে, ১১৯ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ বন্ধ ও লোকসানি রাষ্ট্রায়ত্ত কারখানা সচল করতে সব ধরনের সহায়তার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর ঋণের বোঝা ও প্রকল্প সংস্কার নিয়ে বাজেট পুরোপুরি নিখুঁত নয়: অর্থমন্ত্রী মার্কিন সিটকম নির্মাতা জেমস বারোজের প্রয়াণ, হলিউডে শোকের ছায়া

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা বাস্তবায়নে বড় বাধা হতে পারে ইসরায়েল: বিশ্লেষক রস হ্যারিসন

রিপোর্টার
  • আপডেট : রবিবার, ২১ জুন, ২০২৬
  • ২ বার দেখা হয়েছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত দ্বিপক্ষীয় সমঝোতা স্মারক বা চুক্তি বাস্তবায়নের চলমান প্রক্রিয়ায় ইসরায়েল বড় ধরনের ভূরাজনৈতিক বাধা হিসেবে আবির্ভূত হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিশ্লেষকেরা। সুইজারল্যান্ডে অনুষ্ঠেয় আসন্ন কূটনৈতিক আলোচনাকে কেন্দ্র করে এই অঞ্চলে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হওয়ার প্রেক্ষাপটে এমন পর্যবেক্ষণ সামনে এসেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আলোচনা প্রক্রিয়ার প্রাথমিক স্তরে চুক্তির কারিগরি খুঁটিনাটির চেয়ে পক্ষগুলোর পারস্পরিক প্রতিশ্রুতি রক্ষা এবং সদিচ্ছার বিষয়টিই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাবে।

ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান মিডল ইস্ট ইনস্টিটিউটের জ্যেষ্ঠ ফেলো রস হ্যারিসন সাম্প্রতিক এক বিশ্লেষণে জানান, সুইজারল্যান্ডের মধ্যস্থতায় অনুষ্ঠেয় আসন্ন দ্বিপক্ষীয় সংলাপে প্রথম ধাপে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে পূর্বনির্ধারিত সমঝোতার শর্তগুলো কার্যকরের বিষয়টি প্রাধান্য দেওয়া হবে। প্রাথমিক এই ধাপে জটিল পারমাণবিক কর্মসূচি কিংবা অন্যান্য দীর্ঘমেয়াদি আঞ্চলিক বিরোধের মতো কারিগরি বিষয়গুলো আলোচনার টেবিলে আসবে না। মূলত, পূর্ববর্তী প্রতিশ্রুতিগুলো পক্ষগুলো কতটা নিখুঁতভাবে প্রতিপালন করছে, তা যাচাই করাই হবে এই পর্বের মূল লক্ষ্য।

রস হ্যারিসনের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান—উভয় পক্ষই চূড়ান্ত ও জটিল দরকষাকষিতে যাওয়ার আগে একটি টেকসই ও নির্ভরযোগ্য ভিত্তি তৈরি করতে চাইছে। এই প্রক্রিয়ার প্রথম ধাপ যদি সফলভাবে সম্পন্ন হয়, তবেই পরবর্তী সময়ে আরও গভীর ও নীতিগত বিষয়ে আলোচনার পথ সুগম হবে। তবে এই সমঝোতা প্রক্রিয়ার স্থায়িত্ব ও কার্যকারিতা নিয়ে নানামুখী কূটনৈতিক জটিলতা ও চ্যালেঞ্জ এখনও রয়ে গেছে।

বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, এই আলোচনা প্রক্রিয়ায় ইরানের অবস্থান অত্যন্ত স্পষ্ট ও সুনির্দিষ্ট। বিগত বছরগুলোর কূটনৈতিক অভিজ্ঞতার আলোকেই তেহরান তার বর্তমান কৌশল নির্ধারণ করেছে। ইরানের অভিযোগ, অতীতে যখনই ওয়াশিংটনের সঙ্গে কোনো ধরনের সমঝোতা বা আলোচনার পরিবেশ তৈরি হয়েছে, তখনই তেল আবিব সামরিক বা গোয়েন্দা তৎপরতার মাধ্যমে তা নস্যাৎ করার চেষ্টা করেছে। বিশেষ করে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় রহস্যজনক হামলা, বিজ্ঞানীদের ওপর আক্রমণ এবং আঞ্চলিক প্রক্সি যুদ্ধগুলোর উদাহরণ টেনে তেহরান এখন ওয়াশিংটনের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। ইরান চায়, যুক্তরাষ্ট্র যেন তার diplomatic ও কৌশলগত প্রভাব খাটিয়ে ইসরায়েলের সামরিক কর্মকাণ্ড পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে রাখে। বিশেষ করে লেবানন সীমান্তে সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর সঙ্গে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর চলমান সংঘাত ও উত্তেজনা নিরসনে ওয়াশিংটনকে কার্যকর ভূমিকা রাখার দাবি জানিয়েছে তেহরান।

হ্যারিসনের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, ইরান মনে করে সমঝোতা স্মারকের অংশ হিসেবে ইসরায়েলকে সংযত রাখার নৈতিক ও রাজনৈতিক দায়িত্ব একমাত্র যুক্তরাষ্ট্রের। কিন্তু আন্তর্জাতিক আইনের পরিভাষায় ইসরায়েল এই দ্বিপক্ষীয় সমঝোতার কোনো পক্ষ বা স্বাক্ষরকারী দেশ নয়। ফলে তাত্ত্বিকভাবে বা আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে তেল আবিব এই চুক্তির কোনো শর্ত মানতে বাধ্য নয়। এই আইনি ও কৌশলগত শূন্যতাই বর্তমান পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকেরা সতর্ক করে বলেছেন, চুক্তির অংশীদার না হওয়া সত্ত্বেও ইসরায়েল এই অঞ্চলের সামগ্রিক নিরাপত্তা সমীকরণকে প্রভাবিত করার ক্ষমতা রাখে। যদি ইসরায়েল তার একক সামরিক নীতি বজায় রাখে এবং লেবানন বা সিরিয়ায় হামলা অব্যাহত রাখে, তবে তা পরোক্ষভাবে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতাকেই ক্ষতিগ্রস্ত করবে। রস হ্যারিসন স্পষ্ট করেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র যদি তার মধ্যপ্রাচ্যের প্রধানতম মিত্র ইসরায়েলকে যুদ্ধবিরতি বা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার শর্ত মানাতে ব্যর্থ হয়, তবে তেহরান একে ওয়াশিংটনের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ হিসেবেই গণ্য করবে। এর ফলে দুই দেশের মধ্যকার তৈরি হওয়া ভঙ্গুর আস্থার পরিবেশ সম্পূর্ণ ভেঙে পড়তে পারে।

দীর্ঘদিন ধরে মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতি পর্যবেক্ষণ করা কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ওয়াশিংটন ও তেহরানের এই নতুন উদ্যোগের ভবিষ্যৎ এখন বহুলাংশে আঞ্চলিক মিত্রদের আচরণ এবং যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক দক্ষতার ওপর নির্ভর করছে। বিশেষ করে ইসরায়েলের পরবর্তী সামরিক পদক্ষেপ এবং ইরানের আঞ্চলিক নীতি এই সমঝোতার ভাগ্য নির্ধারণ করবে। পারমাণবিক ইস্যু নিরসন, আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং দীর্ঘদিনের পারস্পরিক অবিশ্বাস দূর করার মতো বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জগুলো পার হয়ে এই চুক্তি কতদূর এগোতে পারবে, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে গভীর পর্যবেক্ষণ চলছে।

s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026