1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
রবিবার, ২১ জুন ২০২৬, ০৩:০৫ অপরাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা বাস্তবায়নে বড় বাধা হতে পারে ইসরায়েল: বিশ্লেষক রস হ্যারিসন মোহাম্মদপুরে মিছিলের চেষ্টা: নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ১০ নেতাকর্মী আটক সাভারে কিশোরীকে ডেকে নিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে তিন যুবক গ্রেফতার গাজায় ইসরায়েলি হামলায় সাংবাদিক ও একই পরিবারের চারজনসহ নিহত ১১ দ্বিপাক্ষিক আলোচনা ও ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক বাস্তবায়নে সুইজারল্যান্ডে মার্কিন ও ইরানি প্রতিনিধি দল চাঁদপুরে অবসর সুবিধা বোর্ডের নতুন সচিব অধ্যক্ষ মোশাররফ হোসেনের সংবর্ধনা হোয়াইটওয়াশ এড়ানোর লক্ষ্যে অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি হচ্ছে বাংলাদেশ দুর্নীতির অভিযোগে জুরি বিচারের মুখোমুখি স্পেনের প্রধানমন্ত্রীর স্ত্রী, দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা উত্তরাঞ্চল ও সিলেটে আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা, চার বিভাগে ভারি বর্ষণের পূর্বাভাস ১০০০তম মাইলফলক ম্যাচে তিউনিসিয়ার বিপক্ষে চালকের আসনে জাপান

শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকগুলোর আর্থিক সূচকের বড় পতন, মূলধন ও তারল্য সংকটে দেশের ইসলামি ব্যাংকিং খাত

রিপোর্টার
  • আপডেট : রবিবার, ২১ জুন, ২০২৬
  • ০ বার দেখা হয়েছে

অর্থনীতি প্রতিবেদক

দেশের শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকগুলোর আর্থিক অবস্থার উল্লেখযোগ্য অবনতি ঘটেছে। মূলধন পর্যাপ্ততা, সম্পদের গুণগত মান, পরিচালন দক্ষতা ও তারল্য—সব ক্ষেত্রেই ইসলামি ব্যাংকগুলোর সূচক নিম্নগামী হয়েছে। বিভিন্ন কার্যক্রমে নিয়ন্ত্রক সংস্থার নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণে ব্যাংকগুলো ব্যর্থ হওয়ায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক প্রকাশিত ‘ফিন্যান্সিয়াল স্ট্যাবিলিটি রিপোর্ট’-এ ইসলামি ব্যাংকিং খাতের এই সার্বিক চিত্র উঠে এসেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্পদের গুণগত মান সংকুচিত হওয়ার পাশাপাশি প্রবৃদ্ধির সূচকগুলোও কিছুটা কমেছে, যদিও দেশের ব্যাংকিং বাজারে তাদের অংশীদারি প্রায় অপরিবর্তিত রয়েছে।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, দেশের ইসলামি ব্যাংকগুলো ন্যূনতম মূলধন সংরক্ষণের আইনি বাধ্যবাধকতা পূরণ করতে পারেনি। মূলধন পর্যাপ্ততার ক্ষেত্রে ক্যাপিটাল টু রিস্ক-ওয়েটেড অ্যাসেটস রেশিও (সিআরএআর) ও লিভারেজ অনুপাতের তীব্র পতন দেখা গেছে। সম্মিলিত সিআরএআর ও লিভারেজ রেশিও পূর্ববর্তী বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে ঋণাত্মক অবস্থায় নেমে এসেছে। তথ্য অনুযায়ী, শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকগুলোর সম্মিলিত সিআরএআর দাঁড়িয়েছে ঋণাত্মক ১ হাজার ৩৮৯ দশমিক ১০ বিলিয়ন টাকা, যেখানে নিয়ন্ত্রক সংস্থার নির্ধারিত ন্যূনতম মূলধনের প্রয়োজন ছিল ৩২৬ দশমিক ৮১ বিলিয়ন টাকা। দেশের ১০টি পূর্ণাঙ্গ ইসলামি ব্যাংকের মধ্যে মাত্র তিনটি ব্যাংক ন্যূনতম কমন ইকুইটি টিয়ার-১ (সিইটি-১) মূলধন বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছে এবং মাত্র দুটি ব্যাংক ক্যাপিটাল কনজারভেশন বাফারের (সিসিবি) শর্ত পূরণ করেছে।

খেলাপি বিনিয়োগ বা নন-পারফর্মিং ইনভেস্টমেন্ট বৃদ্ধি পাওয়ায় সম্পদের গুণগত মান এবং পরিচালন দক্ষতা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রচলিত ব্যাংকগুলোর তুলনায় ইসলামি ব্যাংকগুলোর গ্রস নন-পারফর্মিং ইনভেস্টমেন্ট (জিএনপিএল) ও নেট নন-পারফর্মিং ইনভেস্টমেন্ট (এনএনপিএল) অনুপাতের অবনতি বেশি হয়েছে। ইসলামি ব্যাংকগুলোর জিএনপিএল এবং এনএনপিএল অনুপাত বেড়ে যথাক্রমে ৫৬ দশমিক ১৫ শতাংশ ও ২৯ দশমিক ১৮ শতাংশে পৌঁছেছে। তবে পুনর্গঠন বা একীভূতকরণ প্রক্রিয়ার মধ্যে থাকা পাঁচটি ইসলামি ব্যাংক বাদ দিলে জিএনপিএল ও এনএনপিএল অনুপাত যথাক্রমে ৩৬ দশমিক ৯৪ শতাংশ এবং ২৯ দশমিক ৬১ শতাংশে দাঁড়ায়।

বিনিয়োগ আয় কমে যাওয়া এবং অধিক মুনাফা ব্যয়ের কারণে ব্যাংকগুলোর সম্পদের ওপর রিটার্ন (আরওএ) নেতিবাচক হয়েছে। পূর্ববর্তী বছরে যেখানে এই খাতের আরওএ ছিল শূন্য দশমিক ১২ শতাংশ, তা বিপুল পরিমাণে হ্রাস পেয়ে ঋণাত্মক ২৩ দশমিক ৯০ শতাংশে নেমে এসেছে। পূর্ণাঙ্গ ১০টি ইসলামি ব্যাংকের মধ্যে ছয়টির আরওএ সামগ্রিক খাতের গড়ের চেয়ে ভালো অবস্থানে থাকলেও, সমানসংখ্যক ব্যাংকের আরওএ ঋণাত্মক বা নেতিবাচক হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

আর্থিক সংকটের প্রভাব পড়েছে তারল্যসংক্রান্ত সূচকগুলোতেও। খাতের বিনিয়োগ-আমানত অনুপাত (আইডিআর) এবং লিকুইডিটি কভারেজ রেশিও (এলসিআর) আরও খারাপ অবস্থায় পৌঁছেছে এবং নির্ধারিত সামষ্টিক মানদণ্ড পূরণে ব্যর্থ হয়েছে। এ ছাড়া নেট স্ট্যাবল ফান্ডিং রেশিওর (এনএসএফআর) ক্ষেত্রেও ইসলামি ব্যাংকিং খাত কেন্দ্রীয় ব্যাংকের শর্ত পূরণ করতে পারেনি। এর ফলে সামগ্রিক আমানত, বিনিয়োগ, সম্পদ ও শেয়ারহোল্ডারদের ইকুইটির প্রবৃদ্ধির গতি মন্থর হয়ে পড়েছে।

এই আর্থিক বিপর্যয়ের মধ্যেও দেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থায় আমানত সংগ্রহ এবং অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোতে অর্থায়নে ইসলামি ব্যাংকগুলোর অংশগ্রহণ এখনো বেশ শক্তিশালী। বর্তমানে দেশে ১০টি পূর্ণাঙ্গ ইসলামি ব্যাংক ১ হাজার ৭০০ শাখার মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালনা করছে, যার মধ্যে পাঁচটি ব্যাংক বর্তমানে একীভূতকরণ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এর পাশাপাশি ১৭টি প্রচলিত ব্যাংকের ৪১টি ইসলামি ব্যাংকিং শাখা এবং ২১টি প্রচলিত ব্যাংকের ৯১৯টি ইসলামি ব্যাংকিং উইন্ডোর মাধ্যমে গ্রাহকদের শরিয়াহভিত্তিক সেবা দেওয়া হচ্ছে। দেশের ব্যাংকিং খাতের মোট বিনিয়োগের ২৬ দশমিক ০১ শতাংশ, আমানতের ১৯ দশমিক ১৭ শতাংশ এবং মোট সম্পদের ২০ দশমিক ৮৩ শতাংশ ইসলামি ব্যাংকগুলোর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকগুলোর এই ধারাবাহিক অবনতি রোধে এবং গ্রাহকদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে দ্রুত কার্যকর তদারকি ও ব্যাংকগুলোর অভ্যন্তরীণ সুশাসন নিশ্চিত করা প্রয়োজন। অন্যথায়, ব্যাংকিং খাতের একটি বড় অংশে এই তারল্য ও মূলধন সংকট সামগ্রিক আর্থিক খাতের স্থায়িত্বকে দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকিতে ফেলতে পারে।

s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026