আন্তর্জাতিক ডেস্ক
লেবাননে যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর ইসরায়েলের নতুন করে চালানো ভয়াবহ বিমান ও ড্রোন হামলায় অন্তত ৩২ জন নিহত হয়েছেন। এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতের জেরে মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি ফেরানোর লক্ষ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শুরু হতে যাওয়া অত্যন্ত সংবেদনশীল কূটনৈতিক আলোচনা গভীর সংকটের মুখে পড়েছে। চলমান এই উত্তেজনার মধ্যে ইরান কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে, যা বিশ্ব রাজনীতি ও অর্থনীতিতে নতুন উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।
প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, ইসরায়েল ও লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর মধ্যে নতুন করে যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর হওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই লেবাননের বিভিন্ন অঞ্চলে বিমান ও ড্রোন হামলা চালায় ইসরায়েলি বাহিনী। লেবাননের সিভিল ডিফেন্স সংস্থা জানিয়েছে, শনিবার দক্ষিণ লেবাননের নাবাতিয়েহ জেলায় ইসরায়েলের টানা হামলায় অন্তত ১৬ জন নিহত এবং ১২ জন আহত হয়েছেন। দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদ সংস্থা এনএনএ-র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কাফর রেমান গ্রামে ইসরায়েলি বিমান হামলায় লেবাননের সামরিক বাহিনীর একজন সদস্য নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া টায়ার জেলার বারাশি গ্রামে একটি বাড়িতে সরাসরি হামলায় একই পরিবারের বাবা, মা ও তাদের দুই সন্তানসহ চারজন প্রাণ হারিয়েছেন। অন্যদিকে সিডন জেলার কানারিত এলাকায় সংঘটিত হামলায় অন্তত সাতজন নিহত এবং ১৩ জন আহত হওয়ার খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে।
এই হামলার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে ইরান অভিযোগ করেছে, লেবাননে ইসরায়েলের এই অব্যাহত সামরিক অভিযান সম্পাদিত যুদ্ধবিরতি সমঝোতা স্মারকের প্রথম অনুচ্ছেদের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। এর প্রতিক্রিয়ায় ইরানের সামরিক বাহিনী সাময়িকভাবে খুলে দেওয়া হরমুজ প্রণালি আবার বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। তেহরানের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, এটি শত্রুপক্ষের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের জবাবে নেওয়া প্রথম পদক্ষেপ। যদি এই আগ্রাসন অবিলম্বে বন্ধ না হয়, তবে শত্রুপক্ষকে তাদের অঙ্গীকার পালনে বাধ্য করতে ইরান আরও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
এই আকস্মিক সামরিক উত্তেজনা এমন এক সময়ে তৈরি হলো, যখন সুইজারল্যান্ডের বুর্গেনস্টক রিসোর্টে আজ রবিবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আনুষ্ঠানিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্র অনুযায়ী, চলতি সপ্তাহে দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকটি এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যেই এই বৈঠকের আয়োজন করা হয়। অত্যন্ত সংবেদনশীল এই কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় দুই দেশের প্রতিনিধি দল ছাড়াও মধ্যস্থতাকারী দেশ হিসেবে পাকিস্তান ও কাতারের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনীর অনবরত হামলার কারণে আজ সুইজারল্যান্ডে শুরু হতে যাওয়া এই শান্তি আলোচনা সফল হওয়া এখন বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। ইরান ইতোমধ্যে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে যে, লেবাননে স্থায়ীভাবে যুদ্ধবিরতি কার্যকর রাখা এই সমগ্র কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার জন্য অপরিহার্য শর্ত। এই অঞ্চলে সংঘাত বন্ধ না হলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার বহুল প্রতীক্ষিত এই শান্তি আলোচনা সম্পূর্ণ ভেস্তে যেতে পারে, যা সমগ্র মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতিকে আরও দীর্ঘমেয়াদি ও অনিয়ন্ত্রিত সংঘাতের দিকে ঠেলে দিতে পারে।