খেলাধূলা ডেস্ক
বিশ্বকাপ ফুটবলের মঞ্চে আজ এক নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করেছে ক্যারিবীয় দ্বীপরাষ্ট্র কুরাসাও। যুক্তরাষ্ট্রের কানসাস সিটিতে অনুষ্ঠিত ম্যাচে শক্তিশালী ইকুয়েডরকে গোলশূন্য ড্রয়ে রুখে দিয়ে একটি স্মরণীয় পয়েন্ট অর্জন করেছে দলটি। মাঠের পারফরম্যান্সে শক্তির বিচারে ইকুয়েডর স্পষ্ট ফেভারিট হিসেবে মাঠে নামলেও, কুরাসাওয়ের লড়াকু মনোভাব এবং বিশেষ করে তাদের গোলরক্ষক এলয় রোমের অতিমানবীয় পারফরম্যান্সের কাছে আটকে গেছে লাতিন আমেরিকার এই পরাশক্তি।
ম্যাচজুড়ে ইকুয়েডরের একের পর এক আক্রমণাত্মক ফুটবল প্রতিহত করে এই অর্জনের মূল রূপকার ছিলেন কুরাসাওয়ের অভিজ্ঞ গোলরক্ষক এলয় রোম। পুরো ৯০ মিনিটে ইকুয়েডরের ফরোয়ার্ডদের নেওয়া অনবদ্য ১৫টি নিশ্চিত গোলমুখী শট একাই রুখে দেন তিনি। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ১৯৬৬ সালের পর থেকে অতিরিক্ত সময় ব্যতীত কোনো একক বিশ্বকাপ ম্যাচে একজন গোলরক্ষকের সর্বোচ্চ সেভের এটি একটি নতুন রেকর্ড। একের পর এক আক্রমণ সামলে এলয় রোম পুরো ম্যাচজুড়েই কুরাসাওয়ের রক্ষণভাগে এক অদম্য প্রাচীর হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। তার অসাধারণ ক্ষিপ্রতা, নিখুঁত অবস্থানজ্ঞান ও আত্মবিশ্বাসী গোলকিপিংয়ের সামনে বারবার ব্যর্থ হতে হয়েছে ইকুয়েডরের আক্রমণভাগকে।
বিশ্বকাপের ইতিহাসে এক ম্যাচে সবচেয়ে বেশি গোল বাঁচানোর সর্বকালীন রেকর্ডটি অবশ্য এখনো যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক গোলরক্ষক টিম হাওয়ার্ডের দখলে। ২০১৪ সালের ব্রাজিল বিশ্বকাপে বেলজিয়ামের বিপক্ষে নকআউট পর্বের একটি ম্যাচে হাওয়ার্ড রেকর্ড ১৬টি সেভ করেছিলেন। তবে সেই ম্যাচটি অতিরিক্ত সময়ে গড়িয়েছিল। সেই তুলনায় নির্ধারিত ৯০ মিনিটের মধ্যে এলয় রোমের ১৫টি সেভের এই কীর্তি আধুনিক ফুটবল ইতিহাসে অন্যতম সেরা ও অনন্য একক পারফরম্যান্স হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ম্যাচের শুরু থেকেই বল দখল এবং আক্রমণের ধারায় আধিপত্য বজায় রেখেছিল ইকুয়েডর। কিন্তু কুরাসাওয়ের দৃঢ়, সুসংগঠিত এবং সুপরিকল্পিত রক্ষণভাগ ভেদ করার কোনো কার্যকর উপায় খুঁজে পায়নি দলটি। প্রথমার্ধ ও দ্বিতীয়ার্ধের বেশ কয়েকটি সুবর্ণ সুযোগ তৈরি হলেও তা কুরাসাওয়ের রক্ষণভাগের খেলোয়াড় এবং গোলরক্ষকের দক্ষতায় নস্যাৎ হয়ে যায়। ফলে ম্যাচ শেষে পয়েন্ট ভাগাভাগি করেই মাঠ ছাড়তে হয় ইকুয়েডরকে। অন্যদিকে, নিজেদের ফুটবল ইতিহাসে অন্যতম বৃহৎ এই সাফল্যে ম্যাচ শেষেই উদযাপনে মেতে ওঠে কুরাসাও শিবির। এই ড্রয়ের ফলে টুর্নামেন্টের পরবর্তী সমীকরণে গ্রুপ পর্বের লড়াই আরও আকর্ষণীয় ও উন্মুক্ত হয়ে উঠল বলে মনে করছেন ফুটবল বিশ্লেষকরা।