অনলাইন ডেস্ক
সন্তানের জীবনে বাবার ত্যাগ, শ্রম ও অবদানকে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করতে প্রতি বছরের মতো এবারও বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে জুনের তৃতীয় রোববার আন্তর্জাতিক বাবা দিবস উদযাপিত হচ্ছে। দিবসটিকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। এ ছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও সন্তানেরা তাঁদের বাবার প্রতি ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছেন।
ইতিহাস পর্যালোচনা করে দেখা যায়, বিংশ শতাব্দীর প্রথম দশকে বাবা দিবস পালনের ধারণাটি প্রথম সামনে আসে। এই দিবসটিকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি দেওয়ার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের সনোরা স্মার্ট ডড নামের এক নারী অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। ১৯০৯ সালে ওয়াশিংটনের একটি স্থানীয় গির্জায় মা দিবস উদযাপনের আলোচনা শোনার পর সনোরা ডডের মনে প্রশ্ন জাগে, মা দিবসের মতো বাবাদের অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ কেন কোনো বিশেষ দিন থাকবে না।
সনোরা ডডের মা অল্প বয়সেই মারা যান। এরপর তাঁর বাবা উইলিয়াম স্মার্ট অত্যন্ত প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যে একা হাতে সনোরাসহ তাঁর সাত ভাইবোনকে বড় করে তোলেন। মায়ের অনুপস্থিতিতে বাবার এই অসীম ত্যাগ ও নিঃস্বার্থ ভালোবাসা সনোরাকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছিল। তিনি অনুভব করেন, সমাজের সব বাবার ত্যাগ ও অবদানকে সম্মান জানাতে একটি নির্দিষ্ট দিন নির্ধারণ করা অত্যন্ত জরুরি।
পরবর্তী সময়ে সনোরা ডড স্থানীয় ধর্মীয় নেতা, সরকারি কর্মকর্তা এবং সাধারণ মানুষকে সংগঠিত করে বাবা দিবস পালনের জন্য জনমত গড়ে তোলেন। তাঁর দীর্ঘ এক বছরের প্রচেষ্টার ফলে ১৯১০ সালের ১৯ জুন ওয়াশিংটনের স্পোকেন শহরে প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিকভাবে বাবা দিবস পালিত হয়। এর বহু বছর পর, ১৯৬৬ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট লিন্ডন বি. জনসন জুনের তৃতীয় রোববারকে আনুষ্ঠানিকভাবে বাবা দিবস হিসেবে ঘোষণা করেন। সবশেষে ১৯৭২ সালে প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সন এই দিবসটিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী রাষ্ট্রীয় ছুটির দিন হিসেবে স্বীকৃতি দেন।
সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, আধুনিক সমাজব্যবস্থায় পরিবারের কাঠামো ও জীবনযাত্রার পরিবর্তন ঘটলেও সন্তানের মনস্তাত্ত্বিক ও সামাজিক বিকাশে বাবার ভূমিকা অপরিসীম। মা দিবস বা বাবা দিবসের মতো দিবসগুলো মূলত পরিবারে পারস্পরিক বন্ধনকে আরও দৃঢ় করতে এবং বর্তমান প্রজন্মের কাছে প্রবীণদের অবদানকে সঠিকভাবে তুলে ধরতে তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বর্তমান বাস্তবতায় অর্থনৈতিক ও সামাজিক নানাবিধ চাপের মধ্যেও বাবারা যেভাবে পরিবারের হাল ধরেন, এই দিবসটি তারই একটি আনুষ্ঠানিক ও বৈশ্বিক স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।