নিজস্ব প্রতিবেদক
আইনের সংঘাতে আসা শিশুদের সমাজের মূলধারায় ফিরিয়ে আনতে সমাজকর্মীদের আরও মানবিক ও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহ মোহাম্মদ মাহবুব। তিনি বলেছেন, এসব শিশুর অধিকার ও সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য মমতা, সহমর্মিতা এবং পেশাগত দক্ষতার সমন্বয় জরুরি। একই সঙ্গে আইনের সংঘাতে জড়িত শিশুদের পুনর্বাসন ও সংশোধনের মাধ্যমে দক্ষ নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে সংশ্লিষ্টদের আন্তরিকতা ও নিষ্ঠা নিয়ে কাজ করতে হবে।
গাজীপুরের টঙ্গীতে অবস্থিত শিশু উন্নয়ন কেন্দ্র (বালক) সভাকক্ষে আয়োজিত পাঁচ দিনব্যাপী এক প্রশিক্ষণ কর্মশালার সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ‘বিদ্যমান শিশু উন্নয়ন কেন্দ্র ০৩ টির সক্ষমতা বৃদ্ধি’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় কেন্দ্রটির কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের পেশাগত দক্ষতা বাড়াতে এই বিশেষ প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়। সমাজকর্মের মূল লক্ষ্যই হলো শিশুর সুরক্ষা নিশ্চিত করা, তাই প্রশিক্ষণলব্ধ জ্ঞান কর্মক্ষেত্রে প্রয়োগের নির্দেশ দেন তিনি।
টঙ্গী শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রের তত্ত্বাবধায়ক মো. এমরান খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রকল্প পরিচালক ও সমাজসেবা অধিদপ্তরের শিশু সুরক্ষা ইউনিটের অতিরিক্ত পরিচালক মো. কামরুজ্জামান। এছাড়া আরও উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক মুহাম্মদ মতিয়ার রহমান এবং সহকারী প্রকল্প পরিচালক মো. মোশাররফ হোসেন। অনুষ্ঠানে বক্তারা দেশের শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রগুলোর আধুনিকায়ন এবং শিশুদের মনস্তাত্ত্বিক বিকাশের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
পাঁচ দিনব্যাপী এই প্রশিক্ষণ কর্মশালায় আইন, শিশু সুরক্ষা, মনস্তাত্ত্বিক কাউন্সেলিং এবং দাপ্তরিক অফিস ব্যবস্থাপনা বিষয়ে অংশগ্রহণকারীদের দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন সেশন পরিচালিত হয়। এসব সেশন পরিচালনা করেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন অধিশাখার যুগ্মসচিব মোহাম্মদ নাজমুল আহসান এবং সমাজসেবা অধিদপ্তরের পরিচালক মো. সাজ্জাদুল ইসলাম। প্রশিক্ষণে আইনের সংস্পর্শে ও সংঘাতে আসা শিশুদের সঙ্গে আচরণ, আন্তর্জাতিক শিশু অধিকার সনদ এবং দেশের প্রচলিত শিশু আইন ২০১৩-এর বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, দেশের শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রগুলোতে ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত বন্দি এবং জনবল সংকটের কারণে প্রায়শই শিশুদের সঠিক পুনর্বাসন ব্যাহত হয়। এই প্রেক্ষাপটে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আইনি ও মনস্তাত্ত্বিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনা উন্নত করতে এবং শিশুদের অধিকার সুরক্ষায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। কর্মশালাটি সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ায় মহাপরিচালক সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানান এবং এর আগে কেন্দ্রের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অতিথিদের স্বাগত জানান।