বাংলাদেশ ডেস্ক
জাতীয় সংসদের সিটি করপোরেশন এলাকা ব্যতীত অন্যান্য অঞ্চলের বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্যদের নির্বাচনী এলাকায় অবস্থিত মসজিদ, গোরস্থান ও ঈদগাহের উন্নয়ন ও সংস্কারের জন্য প্রধানমন্ত্রীর ঐচ্ছিক তহবিল থেকে প্রায় ২০ কোটি টাকা মঞ্জুরি বরাদ্দ করা হয়েছে। সোমবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে ৩০০ বিধিতে দেওয়া এক বিবৃতিতে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
সংসদীয় কার্যপ্রণালী বিধির ৩০০ ধারা অনুযায়ী দেওয়া এই বিশেষ বিবৃতিতে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ বিবেচনা ও ঐচ্ছিক তহবিল থেকে এই অর্থ ছাড় করা হয়েছে। তবে প্রাথমিক এই বরাদ্দের ক্ষেত্রে দেশের সিটি করপোরেশন এলাকার আওতাধীন বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্যদের আসনগুলোকে এই তালিকার বাইরে রাখা হয়েছে। বর্তমানে শুধু গ্রামীণ ও পৌরসভা অঞ্চলের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোই এই আর্থিক অনুদানের সুবিধা পাবে।
মন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন, সিটি করপোরেশন এলাকার ভেতরের অবকাঠামো ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর উন্নয়ন বরাদ্দের প্রক্রিয়া ভিন্ন হওয়ায় প্রাথমিক পর্যায়ে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে এই অঞ্চলের মসজিদ, গোরস্থান বা ঈদগাহের উন্নয়নের বিষয়টি সরকার বিবেচনাধীন রেখেছে। পরবর্তীতে সিটি করপোরেশনের আওতাভুক্ত বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্যদের আসনগুলোতেও পর্যায়ক্রমে অনুরূপ অনুদান ও প্রয়োজনীয় উন্নয়ন বরাদ্দ প্রদান করা হবে বলে তিনি সংসদকে আশ্বস্ত করেন।
সংসদীয় বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনী এলাকার ধর্মীয় ও সামাজিক অবকাঠামো উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রীর এই বিশেষ বরাদ্দ গ্রামীণ অঞ্চলের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। একই সঙ্গে সংসদের প্রধান বিরোধী দল ও অন্যান্য বিরোধী দলগুলোর নির্বাচনী এলাকায় সরকারি উন্নয়ন বরাদ্দের সুষম বণ্টন নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এই উদ্যোগ একটি ইতিবাচক প্রশাসনিক পদক্ষেপ হিসেবে গণ্য হতে পারে।
সাধারণত জাতীয় সংসদে ৩০০ বিধিতে মন্ত্রীরা সমসাময়িক বা জনগুরুত্বপূর্ণ কোনো বিষয়ে সরকারের অবস্থান, নীতি বা সুনির্দিষ্ট কোনো সিদ্ধান্ত স্পষ্ট করার জন্য বক্তব্য দিয়ে থাকেন। স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর এই ঘোষণার মাধ্যমে বিরোধী দলীয় আসনের ধর্মীয় অবকাঠামোগত দীর্ঘদিনের দাবি ও প্রয়োজনীয়তা নিরসনে সরকারি সদিচ্ছার প্রতিফলন ঘটেছে বলে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছেন। বরাদ্দকৃত অর্থ যথাযথ নিয়মনীতি অনুসরণ করে সংশ্লিষ্ট এলাকার ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর কমিটির মাধ্যমে দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে বলে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।