সারাদেশ ডেস্ক
ফুটবল বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে পটুয়াখালীতে এক ব্যতিক্রমী ঘটনা ঘটেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক লাইভে দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে ব্রাজিলের জয়ের পর নিজের মাথা ন্যাড়া করেছেন আর্জেন্টিনার এক সমর্থক। আজ শনিবার সকালে পটুয়াখালী শহরের ঝাউবাগান এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। স্বেচ্ছায় মাথা ন্যাড়া করা ওই যুবকের নাম কাজী রাফি, তিনি শহরের বাসিন্দা এবং আর্জেন্টিনার সমর্থক হিসেবে পরিচিত।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল শুক্রবার কাজী রাফি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে লাইভে এসে ঘোষণা দেন, চলমান বিশ্বকাপে ব্রাজিল যদি হাইতির বিপক্ষে ম্যাচে জয়লাভ করে, তবে তিনি নিজের মাথা ন্যাড়া করবেন। এই ঘোষণা ফেসবুক ও স্থানীয় ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং ব্যাপক কৌতুহলের সৃষ্টি করে।
আজ শনিবার সকালে অনুষ্ঠিত ম্যাচে হাইতিকে ৩-০ গোলে পরাজিত করে ব্রাজিল। দলের এই জয়ের পর পটুয়াখালী শহরের বিভিন্ন এলাকার ব্রাজিল সমর্থকরা একত্রিত হয়ে কাজী রাফির বাসায় যান। এরপর রাফি পূর্বঘোষণা অনুযায়ী স্বেচ্ছায় ঘর থেকে বের হয়ে শহরের ঝাউবাগান এলাকায় আসেন। সেখানে উপস্থিত ফুটবলপ্রেমী ও ব্রাজিল সমর্থকদের সামনে তার মাথা ন্যাড়া করার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় ঝাউবাগান এলাকায় ফুটবল সমর্থকদের মাঝে এক উৎসবমুখর ও আনন্দঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। উপস্থিত অনেকেই এই দৃশ্য মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করেন, যা পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা ভাইরাল হয়।
সেখানে উপস্থিত ব্রাজিল সমর্থকরা জানান, রাফি আর্জেন্টিনার সমর্থক হওয়া সত্ত্বেও ফেসবুক লাইভে দেওয়া নিজের প্রতিশ্রুতি বজায় রেখেছেন। ব্রাজিল দল জয়ী হওয়ার পর তিনি কোনো প্রকার অস্বীকৃতি না জানিয়ে ঝাউবাগান এলাকায় এসে মাথা ন্যাড়া করার মাধ্যমে নিজের কথার সত্যতা প্রমাণ করেছেন। ক্রীড়ামোদিদের মধ্যে এমন সৌহার্দ্যপূর্ণ রসিকতা ও প্রতিশ্রুতি রক্ষা ফুটবল উন্মাদনাকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে।
মাথা ন্যাড়া করার পর কাজী রাফি সাংবাদিকদের জানান, তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, একজন ফুটবল ভক্ত হিসেবে সেটি রক্ষা করা তার দায়িত্ব ছিল। ব্রাজিলের জয়ের পর তিনি কোনো দ্বিধা ছাড়াই নিজের ঘোষণা বাস্তবায়ন করেছেন।
বাংলাদেশে ফুটবল বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে সমর্থকদের মধ্যে এমন নানামুখী উন্মাদনা ও বাজি ধরার ঘটনা নতুন নয়। বিশেষ করে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা সমর্থকদের মধ্যকার এই ঐতিহ্যবাহী প্রতিদ্বন্দ্বিতা মাঠের বাইরেও বিভিন্ন সময়ে উৎসব, শোভাযাত্রা এবং এমন ব্যতিক্রমী ঘটনার জন্ম দিয়ে আসছে, যা দেশের ফুটবল সংস্কৃতিরই একটি অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়।