বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) উচ্চশিক্ষা রূপান্তর প্রকল্প (হিট)-এর আওতায় ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধি ও সম্পদ সংরক্ষণে পরিচালিত একটি গবেষণার ইনসেপশন কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিডিও কনফারেন্স কক্ষে ‘অ্যাসেসমেন্ট অব মাইগ্রেটরি প্যাটার্ন, ফুড হ্যাবিট অ্যান্ড থার্মাল অ্যাডাপটেশন অব হিলশা পপুলেশনস্ ইন ভ্যারিয়াস একোয়াটিক হ্যাবিট্যাটস্ ইউজিং অটোলিথ মাইক্রোকেমিস্ট্রি অ্যান্ড মেটাজিনোম অ্যানালাইসিস টু প্রমোট সাসটেইনেবল প্রোডাকশন অ্যান্ড রিসোর্স কনজারভেশন’ শীর্ষক এই প্রকল্পের কর্মশালা সম্পন্ন হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন সায়েন্স বিভাগ এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী। ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন সায়েন্স বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মেহেদি মাহমুদুল হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন বা কি-নোট স্পিকার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংশ্লিষ্ট সাব-প্রজেক্টের ম্যানেজার এবং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. রাকেব-উল-ইসলাম।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী বলেন, ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন সায়েন্স বিভাগের গবেষকদলের মাধ্যমে ইলিশের বংশবৃদ্ধি ও উৎপাদন সংক্রান্ত অত্যন্ত সময়োপযোগী একটি গবেষণা শুরু হতে যাচ্ছে। দেশের অর্থনীতি এবং জাতীয় মাছের উৎপাদন টেকসই করার ক্ষেত্রে এই গবেষণার বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। প্রজেক্টের কাজের সুবিধার্থে যেসকল ল্যাবরেটরি ইনস্ট্রুমেন্ট বা গবেষণাগারের যন্ত্রপাতি ক্রয় করা হয়েছে, সেগুলোকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পদ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এগুলোর সঠিক রক্ষণাবেক্ষণে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
উপাচার্য গবেষকদলের উদ্দেশ্যে আন্তরিকতার সঙ্গে গবেষণা কাজ সম্পন্ন করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, এই গবেষণার মাধ্যমে যে বৈজ্ঞানিক ফলাফল বা আউটপুট আসবে, তা সরকারের নীতি নির্ধারণী পর্যায়ে ইলিশের পপুলেশন বা উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। তিনি প্রকল্পের সামগ্রিক সফলতা কামনা করেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম দেশের সামগ্রিক মৎস্য সম্পদের টেকসই প্রবৃদ্ধিতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই প্রজেক্টের মাধ্যমে ইলিশের অভিবাসন প্রক্রিয়া এবং জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে তাদের খাপ খাইয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পর্কে নতুন নতুন তথ্য উন্মোচিত হবে।
অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনের সময় সাব-প্রজেক্ট ম্যানেজার অধ্যাপক ড. মো. রাকেব-উল-ইসলাম গবেষণার মূল লক্ষ্য, পদ্ধতি ও এর বিভিন্ন কারিগরি দিক তুলে ধরেন। তিনি জানান, এই গবেষণায় মূলত ‘অটোলিথ মাইক্রোকেমিস্ট্রি’ এবং ‘মেটাজিনোম অ্যানালাইসিস’ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে। এর মাধ্যমে বিভিন্ন জলজ পরিবেশে ইলিশের পরিযায়ী আচরণ (মাইগ্রেটরি প্যাটার্ন), খাদ্য ও পুষ্টির অভ্যাস এবং তাপমাত্রার পরিবর্তনের সঙ্গে তাদের অভিযোজন ক্ষমতা নিবিড়ভাবে মূল্যায়ন করা সম্ভব হবে।
মৎস্য বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের ইলিশ সম্পদ রক্ষায় এবং এর উৎপাদন স্থায়ীভাবে বৃদ্ধিতে এ ধরনের আধুনিক ও জিনোম-ভিত্তিক গবেষণা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বাংলাদেশের অর্থনীতিতে ইলিশের অবদান এককভাবে সবচেয়ে বেশি এবং দেশের উপকূলীয় অঞ্চলের লাখ লাখ মানুষের জীবিকা এর ওপর নির্ভরশীল। জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশগত বিপর্যয়ের এই সময়ে ইলিশের জীবনচক্র ও অভিযোজন প্রক্রিয়া বুঝতে পারলে তা ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণে দূরদর্শী ভূমিকা রাখবে। কর্মশালায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, হলের প্রভোস্ট, বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, কর্মকর্তা এবং গবেষক দল উপস্থিত ছিলেন।