1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬, ০২:২৮ অপরাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
অভ্যন্তরীণ বিনিয়োগ ও জ্বালানি সংকট নিরসনে জোর দিচ্ছে বিডা সারাদেশে মৃদু ভূমিকম্প অনুভূত, উৎপত্তিস্থল ভারতের মণিপুর রোহিঙ্গাদের দ্রুত প্রত্যাবাসনে কার্যকর আন্তর্জাতিক পদক্ষেপের আহ্বান বাংলাদেশের কানসাস সিটির মহাসড়কে উপর্যুপরি বন্দুক হামলা, নিহত ১, সন্দেহভাজনকে খুঁজছে পুলিশ জেডি ভ্যান্সের সুইজারল্যান্ড সফর বাতিল, ইরানের সঙ্গে শান্তি আলোচনা পেছাল যুক্তরাষ্ট্রের চুক্তি লঙ্ঘনে সমমানের জবাব দিতে প্রস্তুত ইরান ইরানের সঙ্গে ওয়াশিংটনের শান্তি চুক্তির বিরোধিতাকারীদের প্রতি মার্কিন ভাইস-প্রেসিডেন্টের হুঁশিয়ারি এআই প্রযুক্তির অপব্যবহার রোধে বোম্বে হাইকোর্টের দ্বারস্থ প্রীতি জিনতা, মামলা দায়েরের অনুমতি লাভ চট্টগ্রামের আনোয়ারায় দেশের প্রথম মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব অনুমোদন এসএসএফকে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর হওয়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর, স্পেনের বিনিয়োগ প্রস্তাব

লোহিত সাগরে দুটি যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করছে জার্মানি

রিপোর্টার
  • আপডেট : বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬
  • ১৪ বার দেখা হয়েছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

হরমুজ প্রণালিতে সম্ভাব্য মাইন অপসারণ অভিযানের প্রস্তুতি হিসেবে লোহিত সাগরে নৌবাহিনীর দুটি যুদ্ধজাহাজ মোতায়েনের নির্দেশ দিয়েছে জার্মানি। পূর্ব ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থানরত জাহাজ দুটিকে লোহিত সাগরের অভিমুখে পাঠানো হচ্ছে। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) জার্মানির প্রতিরক্ষামন্ত্রী বরিস পিস্টোরিয়াস এই সিদ্ধান্ত নিশ্চিত করেছেন। আন্তর্জাতিক সমুদ্রসীমায় কৌশলগত নিরাপত্তা বৃদ্ধি এবং যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দেওয়ার অংশ হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

প্রতিরক্ষামন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, জার্মানির মাইন সুইপার বা মাইন নিষ্ক্রিয়করণ যুদ্ধজাহাজ ‘ফুলদা’ এবং রসদ সরবরাহকারী জাহাজ ‘মোজেল’ ইতিমধ্যে সুয়েজ খাল অতিক্রম করে লোহিত সাগরের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী বরিস পিস্টোরিয়াস বিষয়টিকে একটি ‘আগাম প্রস্তুতিমূলক পদক্ষেপ’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি জানান, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযান শুরু হলে জার্মানি যাতে কালবিলম্ব না করে অংশ নিতে পারে, সেই লক্ষ্যেই জাহাজ দুটিকে আগেভাগে কৌশলগত অবস্থানে মোতায়েন করা হচ্ছে। যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় এবং হরমুজ প্রণালির মতো গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে দ্রুততম সময়ে পৌঁছাতে জার্মান নৌবাহিনী সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।

জার্মান প্রতিরক্ষামন্ত্রী আরও স্পষ্ট করেছেন যে, এই নৌপথে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ রাখতে জার্মানি অঙ্গীকারবদ্ধ হলেও, চূড়ান্তভাবে সেনা বা সামরিক সরঞ্জাম মোতায়েনের জন্য কিছু নির্দিষ্ট আন্তর্জাতিক আইনি প্রক্রিয়া এবং অভ্যন্তরীণ সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এই অভিযানের জন্য জাতিসংঘ অথবা ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সুনির্দিষ্ট আন্তর্জাতিক ম্যান্ডেট বা অনুমোদনের প্রয়োজন হবে। একই সাথে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে চুক্তির বিস্তারিত শর্তাবলি চূড়ান্ত হওয়ার পর জার্মান সরকার তাদের জাতীয় পার্লামেন্টের (বুন্দেসটাগ) আনুষ্ঠানিক অনুমোদনের জন্য আবেদন করবে।

এদিকে, বৈশ্বিক ভূরাজনীতিতে একটি বড় অগ্রগতি হিসেবে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়াতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি দ্বিপাক্ষিক চুক্তিতে উপনীত হয়েছে। হোয়াইট হাউসের সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানা গেছে, চুক্তিটি স্বাক্ষরের পর মুহূর্ত থেকেই কার্যকর করা হয়েছে। ফ্রান্সের এভিয়ান-লে-বেইনস শহরে অনুষ্ঠিত জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নেওয়ার সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই ঐতিহাসিক চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। এই চুক্তির ফলে দীর্ঘ সময় ধরে অবরুদ্ধ থাকা কৌশলগত ও বাণিজ্যিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত হওয়ার পথ সুগম হলো।

স্বাক্ষরিত এই সমঝোতা স্মারকের মূল শর্ত অনুযায়ী, ইরান কোনো ধরনের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি বা এ সংক্রান্ত কার্যক্রম পরিচালনা করবে না। এর বিপরীতে, যুদ্ধবিধ্বস্ত ইরানের পুনর্গঠন এবং দেশটির অর্থনৈতিক কাঠামোগত উন্নয়নের জন্য ৩০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের একটি বিশেষ আন্তর্জাতিক তহবিল গঠন করা হবে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসের শেষভাগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল এবং ইরানের মধ্যে তীব্র সামরিক সংঘাত শুরু হওয়ার পর, এই চুক্তিটিকে আন্তর্জাতিক কূটনীতির ক্ষেত্রে প্রথম এবং সবচেয়ে বড় ধরনের সাফল্য হিসেবে বিবেচনা করছেন বিশ্লেষকেরা।

হোয়াইট হাউস ও ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই দ্বিপাক্ষিক চুক্তিটিকে একটি ‘পারফরম্যান্স-ভিত্তিক’ বা প্রতিশ্রুতি-নির্ভর চুক্তি হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। এর অর্থ হচ্ছে, ইরান যদি চুক্তিতে উল্লিখিত শর্ত ও প্রতিশ্রুতিসমূহ যথাযথভাবে রক্ষা করে, তবেই তারা এই তহবিলের সুবিধা ও আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিলের সুযোগ পাবে। তবে চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হলেও বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ও জটিল কারিগরি বিষয় এখনো অমীমাংসিত রয়ে গেছে। সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো জানিয়েছে, চলমান সংকট নিরসনে এবং দীর্ঘমেয়াদি শান্তি প্রতিষ্ঠায় এই অমীমাংসিত বিষয়গুলো নিয়ে পরবর্তী দ্বিপাক্ষিক আলোচনা ও চূড়ান্ত চুক্তির মাধ্যমে সমাধান খোঁজা হবে।

s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026