বিশেষ প্রতিবেদক
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল ভিক্টোরিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে ফ্যামিলি কার্ড, চিকিৎসা অনুদান ও আবাসন বরাদ্দ পত্র বিতরণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ বুধবার দুপুরে তিনি আকাশযোগে সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান এবং সেখান থেকে সড়কপথে শ্রীমঙ্গলে অনুষ্ঠানস্থলে এসে উপস্থিত হন। প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে কেন্দ্র করে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ব্যাপক নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শ্রীমঙ্গলের মির্জাপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সুইলপুর গ্রামের ১৫৫ জন উপকারভোগীর মাঝে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। এই কার্ডের মাধ্যমে স্থানীয় নিম্নআয়ের পরিবারগুলো সরকার নির্ধারিত মূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সামগ্রী ক্রয়ের সুবিধা পাবে, যা গ্রামীণ অর্থনীতি ও সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী শক্তিশালীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির অংশ হিসেবে অনুষ্ঠানে জটিল রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মাঝে আর্থিক সহায়তার চেক হস্তান্তর করা হয়। ক্যানসার, কিডনি রোগ, লিভার সিরোসিস, স্ট্রোকে প্যারালাইজড, জন্মগত হৃদরোগ ও থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত ৫ জন রোগীকে চিকিৎসা সহায়তার জন্য ৫০ হাজার টাকা করে অনুদানের চেক প্রদান করেন প্রধানমন্ত্রী। সরকারের এই চিকিৎসাসেবা অনুদান প্রান্তিক অঞ্চলের অসহায় ও অসচ্ছল রোগীদের উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে।
একই অনুষ্ঠানে দেশের অনগ্রসর ও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে বিশেষ আর্থিক অনুদান দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী পাঁচজন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সদস্যকে তাদের জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে ১০ হাজার টাকা করে এককালীন আর্থিক অনুদান এবং এই সম্প্রদায়ের পাঁচজন শিক্ষার্থীকে শিক্ষাজীবন চালিয়ে যাওয়ার জন্য ১০ হাজার টাকা করে এককালীন উপবৃত্তি প্রদান করেন। এছাড়া উপজেলার দুঃস্থ, অসহায়, অসুস্থ, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন এবং গৃহহীন ১০০ জন ব্যক্তির প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা করে বিশেষ অনুদানের চেক তুলে দেওয়া হয়।
চা-শিল্পাঞ্চলের শ্রমিকদের জীবনমান ও স্থায়ী আবাসন নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী টেকসই আবাসন প্রকল্পের আওতায় পাঁচজন চা-শ্রমিকের হাতে ২ লাখ টাকা করে বরাদ্দ পত্র তুলে দেন। দীর্ঘদিন ধরে আবাসন সংকটে থাকা চা-শ্রমিক জনগোষ্ঠীর জন্য এই স্থায়ী আবাসন ব্যবস্থা তাদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন এবং মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় বড় ধরনের অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রীর এই আগমনকে কেন্দ্র করে শ্রীমঙ্গল ভিক্টোরিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ ও আশপাশের এলাকায় বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। বিশেষ করে স্থানীয় ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মানুষ ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরিধান করে অনুষ্ঠানস্থলে সমবেত হন। মাঠের নির্ধারিত অংশে সরকারের বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির উপকারভোগীদের বসার সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা করা হয়। স্থানীয় প্রশাসন ও সরকারি দল বিএনপির পক্ষ থেকে সফরটি সফল করতে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়।
সরকারি সফরসূচি অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী মৌলভীবাজারের অনুষ্ঠান শেষে আজ সন্ধ্যা পৌনে ৬টায় সড়কপথে সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা হবেন। পরবর্তীতে রাত সাড়ে ৮টায় আকাশপথে ঢাকার উদ্দেশে সিলেট ত্যাগ করার কথা রয়েছে তাঁর।