1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ১২:৩৯ অপরাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের পাওনা জুলাই থেকে পরিশোধ ও মামলা নিষ্পত্তির উদ্যোগ মরক্কোর কৌশলী ফুটবলের মুখে ব্রাজিল যুক্তরাষ্ট্রের কেনেডি সেন্টার থেকে ট্রাম্পের নাম অপসারণ সম্পন্ন ৩৬ বছর পর বিশ্বকাপে স্কটল্যান্ডের ঐতিহাসিক জয় জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে বৈঠকে বসছেন ট্রাম্প ও মোদি বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে মরক্কোর সাথে ড্র, আরও উন্নতির তাগিদ কোচ আনচেলত্তির ওমান উপকূলে আবারও তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা, বাড়ছে আঞ্চলিক উত্তেজনা ব্রাজিল ও মরক্কোর ড্রয়ে বিশ্বকাপের রোমাঞ্চকর সূচনা তরুণ প্রজন্মের হাতেই দেশের উন্নয়ন নির্ভর করছে: মির্জা ফখরুল ২৪ বছর পর বিশ্বকাপে তুরস্ক: প্রথম ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি হওয়ার আগে সতর্ক কোচ মন্টেলা

মরক্কোর কৌশলী ফুটবলের মুখে ব্রাজিল

রিপোর্টার
  • আপডেট : রবিবার, ১৪ জুন, ২০২৬
  • ১৩ বার দেখা হয়েছে

ক্রীড়া প্রতিবেদক

নিউ জার্সির ঐতিহ্যবাহী মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফুটবল বিশ্বকাপের নিজেদের প্রথম ম্যাচে মরক্কোর মুখোমুখি হয়েছিল পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। তবে শক্তিমত্তা ও অতীত পরিসংখ্যানের দিক থেকে লাতিন আমেরিকার পরাশক্তিরা এগিয়ে থাকলেও, মাঠের লড়াইয়ে মরক্কোর সুপরিকল্পিত রণকৌশল ও আক্রমণাত্মক ফুটবলের সামনে আটকে গেছে তারা। চরম উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচটি শেষ পর্যন্ত ১-১ গোলের সমতায় শেষ হয়। ম্যাচের স্কোরলাইন ড্র হলেও মাঠের নিয়ন্ত্রণ, বল দখল এবং আক্রমণ তৈরির দিক থেকে উত্তর আফ্রিকার দেশটি স্পষ্ট ব্যবধানে এগিয়ে ছিল, যা বিশ্বমঞ্চে আফ্রিকার ফুটবলের ক্রমবর্ধমান শক্তির আরও একটি প্রমাণ বহন করে।

ব্রাজিল দলের প্রধান তারকা নেইমার জুনিয়রের চোটজনিত অনুপস্থিতি এই ম্যাচে সেলেসাওদের জন্য সবচেয়ে বড় ধাক্কা হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে। আক্রমণাত্মক মাঝমাঠ পরিচালনার মূল দায়িত্বে থাকা এই প্লে-মেকারের অভাব পূরণ করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছেন দলের অন্য মিডফিল্ডাররা। রক্ষণাত্মক মিডফিল্ডার ক্যাসেমিরো এবং আক্রমণাত্মক পজিশনে থাকা লুকাস পাকেতা মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার সর্বোচ্চ চেষ্টা করলেও, আক্রমণভাগে নিয়মিত বল সরবরাহে তাদের মধ্যে স্পষ্ট সমন্বয়হীনতা ও ঘাটতি দেখা গেছে। মাঝমাঠ থেকে সঠিক পাস না পাওয়ায় ব্রাজিলের দুই ফরোয়ার্ড ভিনিসিয়ুস জুনিয়র এবং রাফিনহা বারবার নিজেদের পজিশন ছেড়ে নিচে নেমে বল রিসিভ করতে বাধ্য হন। এর ফলে মরক্কোর রক্ষণভাগের ওপর যে ধারাবাহিক চাপ তৈরি করার প্রয়োজন ছিল, তা সম্ভব হয়নি এবং ব্রাজিলের স্বভাবসুলভ আক্রমণাত্মক ধার অনেকাংশে কমে যায়।

বিপরীতে, মরক্কো শুরু থেকেই রক্ষণাত্মক কৌশল পরিহার করে আধুনিক ফুটবলের ‘হাই-প্রেসিং’ নীতি অবলম্বন করে। ম্যাচের প্রথম বাঁশি বাজার পর থেকেই তারা ব্রাজিলিয়ান ফুটবলারদের ওপর তীব্র চাপ সৃষ্টি করে এবং খেলার গতি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেয়। ম্যাচের মাত্র ষষ্ঠ মিনিটেই মরক্কোর ফরোয়ার্ড বেনজামিন এল আইনুইয়ের একটি বিপজ্জনক আক্রমণ ব্রাজিলের রক্ষণভাগকে কাঁপিয়ে দেয়, যা ছিল মূলত আফ্রিকান দলটির আক্রমণাত্মক মানসিকতার প্রাথমিক ইঙ্গিত। পুরো ম্যাচ জুড়েই মরক্কোর আক্রমণে প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে ভূমিকা পালন করেছেন রিয়াল মাদ্রিদের মিডফিল্ডার ব্রাহিম দিয়াজ এবং পিএসজির রাইট-ব্যাক আশরাফ হাকিমি। উইং বা প্রান্ত ব্যবহার করে তাদের গতিময় ও নিখুঁত আক্রমণগুলো ব্রাজিলের রক্ষণভাগকে বারবার এলোমেলো করে দেয়। ম্যাচের ২১ মিনিটে মরক্কোর এই ধারাবাহিক আক্রমণের সফল পরিণতি ঘটে। দলের ফুটবলারদের চমৎকার ওয়ান-টাচ ফুটবলের ওপর ভর করে ডি-বক্সের ভেতর ফাঁকা জায়গায় বল পেয়ে দারুণ এক শটে ইসমায়েল সাইবারি গোল করে মরক্কোকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে নেন।

পিছিয়ে পড়ার পর ব্রাজিলের আক্রমণভাগে কিছুটা গতি এলেও অভিজ্ঞতার অভাব স্পষ্ট হয়ে ওঠে। দলে নতুন ডাক পাওয়া স্ট্রাইকার ইগর থিয়াগো প্রথমার্ধে একটি অত্যন্ত সহজ সুযোগ পেয়েও গোল করতে ব্যর্থ হন, যা ডাগআউটে থাকা ব্রাজিলের প্রধান কোচ কার্লো আনচেলোত্তির কপালে চিন্তার ভাঁজ সৃষ্টি করে। মাঠে রিয়াল মাদ্রিদ তারকা ভিনিসিয়ুসের সঙ্গে থিয়াগোর বোঝাপড়া ও পাসিং কম্বিনেশন এখনও আন্তর্জাতিক মানের হয়ে ওঠেনি, যা প্রথমার্ধের খেলায় বারবার ফুটে উঠেছে। তবে এই বিপর্যয়ের মধ্যেও ব্রাজিলের ত্রাতা হিসেবে আবির্ভূত হন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র নিজেই। গোল হজম করার ঠিক এগারো মিনিট পর, অর্থাৎ ম্যাচের ৩২ মিনিটে বাম প্রান্ত দিয়ে একক দক্ষতায় মরক্কোর কয়েকজন ডিফেন্ডারকে পরাস্ত করে ডি-বক্সে ঢুকে এক চমৎকার কোণাকুণি শটে বল জালে জড়ান তিনি। এই গোলের মাধ্যমে ব্রাজিল ম্যাচে ১-১ সমতায় ফেরে এবং এটি ছিল ব্রাজিলের জাতীয় দলের জার্সিতে ভিনিসিয়ুসের দশম আন্তর্জাতিক গোল।

ভিনিসিয়ুসের গোলের পর ম্যাচে সমতা ফিরলেও দ্বিতীয়ার্ধে মরক্কোর আধিপত্য বিন্দুমাত্র কমেনি। ব্রাজিল কোচ আনচেলোত্তি দ্বিতীয়ার্ধে দলের রক্ষণভাগ কিছুটা জমাট করার চেষ্টা করেন এবং মাঝমাঠের দুর্বলতা দূর করতে কিছু পরিবর্তন আনেন। এর ফলে ব্রাজিলিয়ান ডিফেন্ডাররা দ্বিতীয়ার্ধে কিছুটা গোছানো ফুটবল খেললেও মরক্কোর প্রতি-আক্রমণ সামলাতে তাদের বেশ হিমশিম খেতে হয়েছে। মরক্কোর গতিময় উইঙ্গাররা কাউন্টার অ্যাটাকিং কৌশলে বারবার ব্রাজিলের রক্ষণভাগের পরীক্ষা নিয়েছেন। তবে দুই দলের গোলরক্ষকের কিছু চমৎকার সেভ এবং ফরোয়ার্ডদের ফিনিশিংয়ের ব্যর্থতায় দ্বিতীয়ার্ধে আর কোনো গোল হয়নি। ফলে রেফারিংয়ের শেষ বাঁশি বাজার পর দুই দলকেই পয়েন্ট ভাগাভাগি করে মাঠ ছাড়তে হয়।

এই ম্যাচের ফলাফল ও ব্রাজিলের পারফরম্যান্স মূল্যায়ন করে ফুটবল বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বহুল কাঙ্ক্ষিত ষষ্ঠ বিশ্বকাপ বা ‘হেক্সা’ মিশন সফল করতে হলে ব্রাজিলকে অতি দ্রুত তাদের মাঝমাঠের এই প্লে-মেকিং দুর্বলতা কাটিয়ে উঠতে হবে। বিশেষ করে নেইমারের মতো একজন দক্ষ ফুটবলারের অনুপস্থিতিতে বিকল্প পরিকল্পনা তৈরি করতে না পারলে, টুর্নামেন্টের পরবর্তী ম্যাচগুলোতে শক্তিশালী দলগুলোর বিরুদ্ধে ব্রাজিলের জন্য জয় তুলে নেওয়া অত্যন্ত কঠিন হবে। অন্যদিকে, মরক্কো এই ড্রয়ের মাধ্যমে প্রমাণ করেছে যে তারা কেবল রক্ষণভাগ শক্তিশালী রাখতেই সক্ষম নয়, বরং বিশ্বের যেকোনো পরাশক্তির বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে ম্যাচ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার সামর্থ্যও রাখে।

s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026