খেলাধূলা ডেস্ক
দীর্ঘ ২৪ বছর পর ফুটবল বিশ্বকাপের মূল পর্বে নিজেদের প্রথম ম্যাচে মাঠে নামতে যাচ্ছে তুরস্ক। আগামীকালের এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ভ্যাঙ্কুভারে তাদের প্রতিপক্ষ অস্ট্রেলিয়া। দুই দশকেরও বেশি সময় পর বিশ্বমঞ্চে ফেরার এই ঐতিহাসিক মুহূর্তকে সামনে রেখে দলের ফুটবলারদের আবেগ নিয়ন্ত্রণ করে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন তুরস্কের প্রধান কোচ ভিনসেঞ্জো মন্টেলার। সর্বশেষ ২০০২ সালের জাপান-দক্ষিণ কোরিয়া বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছিল তুরস্ক, যেখানে তারা তৃতীয় স্থান অর্জন করে ইতিহাস গড়েছিল। এরপর দীর্ঘ দুই যুগ ধরে দলটি আর কোনো বিশ্বকাপের মূল পর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি। ফলে এই আসরে তাদের প্রত্যাবর্তনকে ঘিরে দেশটির ক্রীড়াঙ্গন ও সমর্থকদের মাঝে ব্যাপক উদ্দীপনা বিরাজ করছে।
ম্যাচ পূর্ববর্তী আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে ৫১ বছর বয়সী ইতালীয় কোচ ভিনসেঞ্জো মন্টেলা ফুটবলারদের মাঠের পারফরম্যান্সে মনোযোগী হওয়ার তাগিদ দেন। দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটার কারণে দলে বাড়তি মানসিক চাপ তৈরি হতে পারে বলে মনে করেন তিনি। মন্টেলা স্পষ্ট ভাষায় জানান, ২৪ বছরের এই দীর্ঘ অপেক্ষার আবেগ যেন খেলোয়াড়দের মাঠের পারফরম্যান্সকে ব্যাহত না করে। এটি এমন একটি মুহূর্ত যার জন্য দেশের মানুষ দীর্ঘ সময় ধরে অপেক্ষা করছে। ফলে দলে আবেগ থাকা স্বাভাবিক, তবে মাঠে সেই আবেগকে জয় করে স্বাভাবিক খেলা উপহার দেওয়াই এখন মূল লক্ষ্য। বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চের প্রতিটি ম্যাচই অত্যন্ত চটজলদি কৌশলগত ও শারীরিক দিক থেকে চ্যালেঞ্জিং হয়। তবে এই চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করে ফুটবলাররা যেন ম্যাচটি উপভোগ করতে পারেন এবং দেশের জন্য গৌরব বয়ে আনতে পারেন, সেই আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচের গুরুত্ব নিয়ে কথা বলতে গিয়ে মন্টেলা উল্লেখ করেন, টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচটি সবসময়ই দলের মানসিকতায় বড় প্রভাব ফেলে। যদিও প্রথম ম্যাচের ফলাফলই চূড়ান্ত ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয় না, কারণ পরবর্তী ম্যাচগুলোতে পয়েন্ট অর্জনের সুযোগ থাকে, তবুও টুর্নামেন্টে একটি ভালো সূচনা দলের আত্মবিশ্বাস বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। এই ম্যাচটিকে তিনি দলের ভবিষ্যৎ যাত্রাপথের একটি শক্তিশালী ভিত্তি হিসেবে দেখছেন। দীর্ঘ সময় ধরে তুরস্কের মূল পর্বে আসতে না পারার ব্যর্থতার দায় বর্তমান ফুটবলারদের ওপর বর্তায় না উল্লেখ করে তিনি বলেন, অতীত নিয়ে ভাবার এখন আর কোনো অবকাশ নেই। বর্তমান দলটি কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে ২৪ বছর পর দেশকে এই পর্যায়ে নিয়ে এসেছে এবং এখন তাদের দায়িত্ব কেবল নিজেদের সেরা খেলাটি মাঠে প্রদর্শন করা। অন্য সব চিন্তা বাদ দিয়ে ফুটবলারদের কেবল প্রথম গ্রুপ ম্যাচে মনোযোগ ধরে রাখার ওপর জোর দিয়েছেন এই অভিজ্ঞ কোচ। ক্রীড়া বিশ্লেষকদের মতে, অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে এই ম্যাচটি তুরস্কের জন্য নকআউট পর্বের পথ সুগম করার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।