1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬, ০৩:২১ অপরাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
বিজয় সরণিতে মাইক্রোবাসের ধাক্কায় পাঠাও আরোহী নিহত নতুন বাজেটে করছাড়ের ছড়াছড়ি: একনজরে সম্ভাব্য বড় পরিবর্তনগুলো পবিত্র হজ পালন শেষে দেশে ফিরেছেন প্রায় ৫০ হাজার হাজি, মারা গেছেন ৪৯ জন মেট্রোরেলের দুই মেগা প্রকল্পে ১১ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব, ব্যয় দ্বিগুণ হওয়ার আশঙ্কা স্বাস্থ্য খাতে বড় অঙ্কের বরাদ্দের প্রস্তাব, বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে বিশেষ জোর ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে নিত্যপণ্যের উৎসে কর কমছে, স্বস্তির আশা লেবাননবাসীকে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান নেতানিয়াহুর মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা, চরম উত্তেজনার শঙ্কা বিশ্বজুড়ে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা কমলেও দীর্ঘমেয়াদি শরণার্থী সংকট কাটেনি: ইউএনএইচসিআর ফ্রিল্যান্সিং ও কনটেন্ট ক্রিয়েশন আয় সম্পূর্ণ করমুক্ত করার প্রস্তাব

মেট্রোরেলের দুই মেগা প্রকল্পে ১১ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব, ব্যয় দ্বিগুণ হওয়ার আশঙ্কা

রিপোর্টার
  • আপডেট : বৃহস্পতিবার, ১১ জুন, ২০২৬
  • ০ বার দেখা হয়েছে

অর্থ বাণিজ্য ডেস্ক

রাজধানীর গণপরিবহন ব্যবস্থার আধুনিকায়ন ও যানজট নিরসনে দেশের দুটি গুরুত্বপূর্ণ পাতাল মেট্রোরেল প্রকল্পের নির্মাণকাজ দ্রুত এগিয়ে নিতে আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে বড় অঙ্কের বরাদ্দ দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয় ও ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল) সূত্রে জানা গেছে, আগামী অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) এমআরটি লাইন-১ এবং এমআরটি লাইন-৫ (নর্দান রুট) প্রকল্পের জন্য যৌথভাবে ১১ হাজার ২৬০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হচ্ছে। তবে প্রকল্প দুটির নির্মাণ ব্যয় প্রাক্কলিত হিসাবের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

বাজেট প্রস্তাবনা অনুযায়ী, দেশের প্রথম পাতাল রেল প্রকল্প এমআরটি লাইন-১-এর জন্য সর্বাধিক ৭ হাজার ৩৫০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হচ্ছে। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এই প্রকল্পে সংশোধিত বরাদ্দের পরিমাণ ছিল ৮০১ কোটি টাকা। সেই হিসাবে প্রস্তাবিত বাজেট অনুমোদন পেলে এই প্রকল্পে বরাদ্দ বৃদ্ধি পাবে প্রায় নয় গুণ। অন্যদিকে, হেমায়েতপুর থেকে ভাটারা অভিমুখী এমআরটি লাইন-৫ (নর্দান রুট) প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ প্রস্তাব করা হয়েছে ৩ হাজার ৯১০ কোটি টাকা, যা চলতি অর্থবছরের ৮৬৩ কোটি টাকার বরাদ্দের তুলনায় প্রায় পাঁচ গুণ বেশি। সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে নতুন বাজেটে ঢাকার যানজট নিরসন ও যোগাযোগ অবকাঠামো উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার অংশ হিসেবে এই বড় বরাদ্দের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ডিএমটিসিএল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিমানবন্দর থেকে কমলাপুর এবং নতুন বাজার হয়ে পূর্বাচল পর্যন্ত বিস্তৃত এমআরটি লাইন-১ প্রকল্পের কাজ ২০৩০ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া এই প্রকল্পের পিতলগঞ্জ ডিপোর ভূমি উন্নয়ন এবং বিমানবন্দর পর্যন্ত ইউটিলিটি লাইন স্থানান্তরের কাজ ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে। গত অর্থবছর পর্যন্ত এই প্রকল্পে ব্যয় হয়েছে ৩ হাজার ৩৩৮ কোটি টাকা। অপরদিকে, হেমায়েতপুর থেকে ভাটারা পর্যন্ত ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ এমআরটি লাইন-৫ (নর্দান রুট) প্রকল্পের নকশা ও জরিপ সম্পন্ন হয়েছে। হেমায়েতপুর ডিপোর ভূমি উন্নয়নকাজের অগ্রগতি বর্তমানে ৮২ শতাংশের বেশি। এই প্রকল্পের মোট ১০টি কন্ট্রাক্ট প্যাকেজের মধ্যে কয়েকটির দরপত্র মূল্যায়ন ও ঠিকাদার নিয়োগ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

প্রকল্পের ভৌত অগ্রগতি সন্তোষজনক হলেও এর নির্মাণ ব্যয় নিয়ে বড় ধরনের উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ডিএমটিসিএলের প্রাথমিক প্রাক্কলন অনুযায়ী, এমআরটি লাইন-১ প্রকল্পের অনুমোদিত ব্যয় ছিল ৫২ হাজার ৫৬১ কোটি টাকা। তবে ঠিকাদারদের কাছ থেকে প্রাপ্ত সর্বনিম্ন দরপ্রস্তাব অনুযায়ী এই ব্যয় প্রায় ৯৭ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছাতে পারে। একইভাবে, ৪১ হাজার ২৩৮ কোটি টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ের এমআরটি লাইন-৫ প্রকল্পের খরচও প্রায় দ্বিগুণ হওয়ার পূর্বাভাস পাওয়া যাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, দুটি মেগা প্রকল্পের সম্মিলিত নির্মাণ ব্যয় শেষ পর্যন্ত প্রায় ২ লাখ কোটি টাকায় গিয়ে ঠেকতে পারে, যা সরকারের মূল প্রাক্কলনের চেয়ে দ্বিগুণ।

প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নীতিগত কিছু সিদ্ধান্তের জটিলতায় অতীতে কাজের গতি কিছুটা ধীর থাকলেও বর্তমানে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা পাওয়ায় কাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এমআরটি লাইন-৫ (নর্দান রুট)-এর মোট ১০টি প্যাকেজের মধ্যে ডিপো উন্নয়নকাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে এবং বাকি প্যাকেজগুলোর দরপত্র প্রক্রিয়া বিভিন্ন ধাপে মূল্যায়নের অধীনে রয়েছে।

তবে অবকাঠামো বিশেষজ্ঞরা এই বিপুল ব্যয় বৃদ্ধির পেছনে অর্থায়নকারী সংস্থার শর্ত ও দরপত্র প্রক্রিয়ার সীমাবদ্ধতাকে দায়ী করছেন। পরিবহন বিশেষজ্ঞদের মতে, উন্নয়ন সহযোগীদের সুনির্দিষ্ট শর্তের কারণে অনেক সময় আন্তর্জাতিক মানের উন্মুক্ত ও প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র আহ্বান করা সম্ভব হয় না। একই সাথে পুনঃদরপত্র আহ্বান কিংবা মূল্য পুনর্নির্ধারণের জন্য কার্যকর আলোচনার সুযোগ সীমিত থাকায় সরকারকে বাধ্য হয়েই নির্দিষ্ট কাঠামোর মধ্যে ঠিকাদার নিয়োগ দিতে হয়। এই কৌশলগত সীমাবদ্ধতার কারণেই মূলত মেগা প্রকল্পগুলোর ব্যয় নিয়ন্ত্রণ করা সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা দীর্ঘমেয়াদে জাতীয় অর্থনীতির ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026