বিশেষ প্রতিবেদক
বিশ্বকাপ ফুটবল-২০২৬ উদযাপন উপলক্ষে ১০ টাকা মূল্যমানের একটি বিশেষ স্মারক ডাকটিকিট উন্মোচন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার সকালে জাতীয় সংসদ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে এই ডাকটিকিটের মোড়ক উন্মোচন করেন। বৈশ্বিক ক্রীড়াঙ্গনের সবচেয়ে বড় এই আসরকে স্মরণীয় করে রাখতে বাংলাদেশ ডাক বিভাগের পক্ষ থেকে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে প্রধানমন্ত্রী স্মারক ডাকটিকিট অবমুক্ত করার পাশাপাশি ৫০ টাকা মূল্যমানের খাম-সম্বলিত একটি দৃষ্টিনন্দন স্যুভেনির শিট এবং ৫ টাকা মূল্যমানের একটি ডাটা কার্ডও প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক এই ক্রীড়া উৎসবের স্মারক হিসেবে উপলক্ষটিকে স্মরণীয় করে রাখতে একটি বিশেষ সিলমোহর ব্যবহার করা হয়। অনুষ্ঠানে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশ সরকারের ডাক বিভাগের এই বিশেষ উদ্যোগের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ফুটবলের প্রতি দেশের আপামর জনসাধারণের আবেগ ও সংহতি প্রকাশ পেয়েছে। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) এবং ক্রীড়ামোদীদের মতে, এ ধরনের স্মারক প্রকাশনা দেশের ক্রীড়া সংস্কৃতির বিকাশ এবং বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের ইতিবাচক ভাবমূর্তি তুলে ধরতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। প্রতি চার বছর পর পর আয়োজিত এই ফুটবল বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে বিশ্বজুড়ে যে উদ্দীপনা তৈরি হয়, বাংলাদেশও এই স্মারক ডাকটিকিট প্রকাশের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে সেই বৈশ্বিক উদযাপনের অংশীদার হলো।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অবমুক্ত করা এই স্মারক ডাকটিকিট, স্যুভেনির শিট এবং ডাটা কার্ড ঢাকাসহ দেশের সকল প্রধান প্রধান ডাকঘর এবং জেলা পোস্ট অফিসগুলোতে সাধারণ জনগণের জন্য অবমুক্ত করা হবে। একই সাথে ফিলাটেলিক ব্যুরোগুলো থেকে ডাকটিকিট সংগ্রাহকরা এই বিশেষ স্মারক সংগ্রহ করতে পারবেন। বহির্বিশ্বের সাথে বাংলাদেশের যোগাযোগ মাধ্যম হিসেবে এবং দেশের ডাকটিকিট সংগ্রাহকদের দীর্ঘদিনের চাহিদার বিষয়টি বিবেচনা করে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বজায় রেখে এগুলো তৈরি করা হয়েছে।
বিশ্বকাপ ফুটবলের মতো বড় ক্রীড়াযজ্ঞে বাংলাদেশের সরাসরি অংশগ্রহণ না থাকলেও, দেশের কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমী এই উৎসবকে কেন্দ্র করে নানা আয়োজনে মেতে ওঠেন। সরকারি পর্যায়ে এই স্মারক ডাকটিকিট উন্মোচন দেশের ক্রীড়া অনুরাগীদের সেই উদ্দীপনাকে আরও বেগবান করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল। পাশাপাশি, এই ঐতিহাসিক স্মারক ডাকটিকিটটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে বর্তমান সময়ের ক্রীড়া উদ্দীপনার একটি স্থায়ী দলিল হিসেবে সংরক্ষিত থাকবে।