ক্রীড়া প্রতিবেদক
আসন্ন ফুটবল বিশ্বকাপে অংশ নিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অবতরণের পর কঠোর ও নজিরবিহীন নিরাপত্তা তল্লাশির সম্মুখীন হয়েছে পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল ফুটবল দল। বিমানবন্দরে খেলোয়াড় ও স্টাফদের সঙ্গে সাধারণ যাত্রীদের মতো আচরণ এবং পুঙ্খানুপুঙ্খ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার এই ঘটনাটি আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ব্রাজিলের আগে সেনেগাল ও উজবেকিস্তানের মতো দলগুলোকেও একই ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে বলে জানা গেছে।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, টেক্সাসের সান আন্তোনিও এবং নিউইয়র্কসহ যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের পর দলগুলোকে এই কঠোর অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে। ব্রাজিল দল পৌঁছানোর পর মার্কিন সীমান্ত কর্মকর্তা এবং দেশটির নিরাপত্তা পরিষেবা সংস্থাগুলো দলের তারকা ফরোয়ার্ড নেইমারসহ কোনো খেলোয়াড় বা কর্মকর্তাকেই বিশেষ ছাড় দেয়নি। ফুটবলার, কোচিং স্টাফ এবং অন্যান্য সহায়ক কর্মীসহ দলের প্রত্যেক সদস্যকে মেটাল ডিটেক্টরের ভেতর দিয়ে পার হতে হয়েছে। একই সঙ্গে স্বয়ংক্রিয় স্ক্যানিংয়ের জন্য তাদের সমস্ত লাগেজ ও ব্যক্তিগত জিনিসপত্র জমা দিতে হয় এবং সাধারণ নিয়মানুযায়ী জুতো খুলে তল্লাশি প্রক্রিয়াসম্পন্ন করতে হয়।
বিশ্বকাপের মতো একটি মেগা ইভেন্টে অংশ নিতে আসা বৈশ্বিক তারকা ও জাতীয় দলগুলোর ওপর এমন কঠোর নিয়ম আরোপের ঘটনাটি আন্তর্জাতিক ফুটবল অঙ্গনে বেশ নেতিবাচক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর ক্রীড়া অনুরাগী ও ফুটবল ফেডারেশনগুলোর পক্ষ থেকে এই অভিবাসন প্রক্রিয়াকে অতিরিক্ত সময়সাপেক্ষ এবং খেলোয়াড়দের জন্য এক ধরনের হয়রানি হিসেবে দেখা হচ্ছে। সাধারণ যাত্রীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নিরাপত্তা বিধি কোনো রকম শিথিলতা ছাড়া বিশ্বমানের অ্যাথলেটদের ওপর প্রয়োগ করায় এর উদ্দেশ্য ও যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
এর আগেও যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবন্দরগুলোতে অন্যান্য অংশগ্রহণকারী দলের ক্ষেত্রে একই রকম কড়াকড়ি দেখা গেছে। গত ১৬ জুন ফ্রান্সের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে সেনেগাল জাতীয় ফুটবল দলের খেলোয়াড়দের যাবতীয় মালামাল ও ব্যাগ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তল্লাশি করা হয়। একইভাবে উজবেকিস্তানের ফুটবলারদের বৈধ নিরাপত্তা ছাড়পত্র থাকা সত্ত্বেও বিমানবন্দরে মেটাল ডিটেক্টরের পাশাপাশি বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কুকুর দিয়ে অতিরিক্ত পরীক্ষা করা হয়। এছাড়া কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার কারণ দেখিয়ে বৈধ ভিসা থাকা সত্ত্বেও একজন সোমালি রেফারিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি বলে বিভিন্ন সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক ক্রীড়া দলগুলোর জন্য সাধারণত যে ধরনের বিশেষ প্রটোকল বা কূটনৈতিক শিথিলতা বজায় রাখা হয়, মার্কিন প্রশাসন এবার তা পুরোপুরি উপেক্ষা করছে। বৈশ্বিক নিরাপত্তার স্বার্থে তল্লাশি প্রক্রিয়া জোরদার করার যুক্তি দেওয়া হলেও, এর ফলে টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই দলগুলোর মানসিক প্রস্তুতি ও মনোযোগ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক ফুটবল সংস্থা (ফিফা) এবং স্বাগতিক দেশের আয়োজক কমিটির সমন্বয়ের অভাবকেও অনেকে এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী করছেন। এই ঘটনাটি আগামী দিনগুলোতে বিভিন্ন দেশের ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন ও মার্কিন অভিবাসন কর্তৃপক্ষের মধ্যকার সম্পর্কে এক ধরনের কূটনৈতিক টানাপোড়েন তৈরি করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।