1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬, ১২:১১ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক, হজ ব্যবস্থাপনার প্রশংসায় রিয়াদ সালমান শাহ হত্যা মামলার তদন্তে আধুনিক ফরেনসিক সাইকোলজিক্যাল টুলস ব্যবহারের পরামর্শ ট্যানারির বিষাক্ত বর্জ্য মিশ্রিত খাদ্য জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকিস্বরূপ: সংসদে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ট্যানারির বিষাক্ত বর্জ্য মিশ্রিত খাদ্য জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকিস্বরূপ: সংসদে স্বাস্থ্যমন্ত্রী প্রশাসনিক কার্যক্রমে দক্ষতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিতের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর সারা দেশে ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে ৮ শিশুর মৃত্যু, মোট আক্রান্ত ৮২ হাজার ছাড়াল উপজেলা হাসপাতাল ১০১ বেডে উন্নীত ও এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের ঘোষণা স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রীর চার বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন পাঁচ উপ-উপাচার্য নিয়োগ সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যই মানবজাতির সবচেয়ে বড় শক্তি: সংস্কৃতিমন্ত্রী রিয়াল মাদ্রিদে কোচের বিদায়, আলভারেজকে পেতে ১৫০ মিলিয়ন ইউরোর প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান

সালমান শাহ হত্যা মামলার তদন্তে আধুনিক ফরেনসিক সাইকোলজিক্যাল টুলস ব্যবহারের পরামর্শ

রিপোর্টার
  • আপডেট : বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬
  • ০ বার দেখা হয়েছে

বিশেষ প্রতিবেদক

ঢাকাই চলচ্চিত্রের অন্যতম জনপ্রিয় প্রয়াত অভিনেতা سلمان শাহ (শাহরিয়ার চৌধুরী ইমন) হত্যা মামলার প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটনে আধুনিক ফরেনসিক সাইকোলজিক্যাল টুলস ও বৈজ্ঞানিক তদন্ত পদ্ধতি ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট খাতের বিশেষজ্ঞরা। ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীর ইস্কাটনের নিজ বাসভবনে চিত্রনায়ক سلمان শাহর রহস্যজনক মৃত্যু হয়। দীর্ঘ তিন দশক পার হলেও এই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিয়ে এখনো বিতর্ক ও আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে মামলার জট খুলতে এবং তদন্তকে নিখুঁত করতে সমসাময়িক বিশ্বজুড়ে ব্যবহৃত আধুনিক অপরাধ বিজ্ঞান ও মনস্তাত্ত্বিক পরীক্ষাগুলো বাংলাদেশেও প্রয়োগের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সালমান শাহর মতো দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত ও সংবেদনশীল মামলার ক্ষেত্রে তিনটি আধুনিক ফরেনসিক টুল অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। প্রথমত, মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকল অভিযুক্ত বা গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীদের জিজ্ঞাসাবাদের সময় তাদের বক্তব্য অডিও ও ভিডিও আকারে রেকর্ড করা। পরবর্তীতে সেই বক্তব্য লেয়ার্ড ভয়েস অ্যানালাইসিস (এলভিএ) প্রযুক্তির মাধ্যমে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিশ্লেষণ করা সম্ভব। এই প্রযুক্তির সাহায্যে কথা বলার সময় ব্যক্তির আবেগীয় অবস্থান নিখুঁতভাবে পরিমাপ করা যায় এবং কোন নির্দিষ্ট প্রশ্ন বা বিষয়ের ক্ষেত্রে তার মধ্যে মানসিক চাপ (স্ট্রেস) বা অস্বস্তি তৈরি হচ্ছে, তা চিহ্নিত করা যায়। এর ফলে তদন্তকারী কর্মকর্তারা পরবর্তী জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আরও সুনির্দিষ্ট ও লক্ষ্যভিত্তিক প্রশ্ন তৈরি করার সুযোগ পান।

দ্বিতীয়ত, প্রাপ্ত প্রাথমিক তথ্যের ওপর ভিত্তি করে অভিযুক্ত বা সন্দেহভাজনদের পলিগ্রাফ এক্সামিনেশন বা প্রচলিত ভাষায় ‘লাই ডিটেকশন টেস্ট’ পরিচালনা করা যেতে পারে। এই পরীক্ষার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে কোনো তথ্য গোপন করছেন কি না বা ঘটনাটির সঙ্গে তার প্রত্যক্ষ সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, সে বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ অনুসন্ধানী সূত্র পাওয়া সম্ভব হয়। অপরাধীর মনস্তাত্ত্বিক পরিবর্তন ও শারীরিক প্রতিক্রিয়া পরিমাপের মাধ্যমে এই পরীক্ষাটি করা হয়ে থাকে, যা তদন্তের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে।

তৃতীয়ত, মামলার কোনো গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী বা অভিযুক্ত ব্যক্তি যদি জিজ্ঞাসাবাদে সহযোগিতা করতে অস্বীকৃতি জানান, তবে তার ক্ষেত্রে ব্রেন ম্যাপিং বা ‘বিইওএস/পি৩০০ বেসড অ্যাসেসমেন্ট’ পরীক্ষা অত্যন্ত কার্যকর হতে পারে। এই পদ্ধতিতে মূলত মস্তিষ্কের বৈদ্যুতিক তরঙ্গ (ইইজি) বিশ্লেষণের মাধ্যমে নির্ণয়ের চেষ্টা করা হয় যে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিটি আলোচ্য ঘটনাটির সঙ্গে কোনো প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতামূলক সংযোগ বা স্মৃতি ধারণ করছেন কি না। কোনো অপরাধের দৃশ্য বা উপাদান যদি ব্যক্তির মস্তিষ্কে আগে থেকেই সংরক্ষিত থাকে, তবে এই পরীক্ষায় তা উদ্ঘাটিত হয়।

দক্ষিণ এশিয়ার প্রতিবেশী দেশ ভারতের বিভিন্ন আদালত ও কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা (সিবিআই) দীর্ঘদিন ধরে জটিল ও সংবেদনশীল মামলাগুলোর সত্যতা অনুসন্ধানে এসব বৈজ্ঞানিক টুল সফলভাবে ব্যবহার করে আসছে। যদিও চিকিৎসা ও অপরাধ বিজ্ঞানীদের মতে, এই পরীক্ষাগুলোর ফলাফলকে সব ক্ষেত্রে একক ও চূড়ান্ত প্রমাণ (কনক্লুসিভ এভিডেন্স) হিসেবে আদালতে গণ্য করা হয় না, তবুও তদন্ত সংস্থাকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে এবং নতুন তথ্য উদ্ঘাটনে সহায়ক উপাদান (সাপোর্টিভ এভিডেন্স) হিসেবে এগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।

বর্তমানে বাংলাদেশের সামগ্রিক বিচার ও ফৌজদারি অপরাধ তদন্ত ব্যবস্থায় ডিজিটাল ফরেনসিকের কিছু ব্যবহার থাকলেও, আধুনিক ফরেনসিক সাইকোলজিক্যাল টুলসের প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবহার এখনো শুরু হয়নি। সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সালমান শাহ হত্যা মামলার মতো স্পর্শকাতর ও দীর্ঘমেয়াদি মামলার রহস্য জট খুলতে দেশের প্রচলিত তদন্ত সংস্থাকে আধুনিকায়ন করা এবং এই ধরনের বৈজ্ঞানিক প্রযুক্তির দ্রুত অন্তর্ভুক্তি ঘটানো এখন সময়ের দাবি। এর মাধ্যমে দেশের বিচার ব্যবস্থার দীর্ঘসূত্রতা কমে আসার পাশাপাশি অপরাধের নিখুঁত ও বিজ্ঞানসম্মত সত্য উদ্ঘাটন সম্ভব হবে।

s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026