সারাদেশ ডেস্ক
গোপালগঞ্জ সদর উপজেলায় অভিযান পরিচালনা করে ৬৫০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ও বিদেশি মদসহ দুই মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। গতকাল সোমবার (৮ জুন) সন্ধ্যায় উপজেলার মান্দারতলা ইসলামাবাদ এলাকায় একটি আবাসিক ভবনে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার ও মাদকদ্রব্য জব্দ করা হয়। গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় সিন্ডিকেট তৈরি করে মাদক ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিল বলে পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে।
জেলা গোয়েন্দা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডিবি পুলিশের একটি বিশেষ দল সোমবার সন্ধ্যায় মান্দারতলা ইসলামাবাদ গ্রামের বাসিন্দা হাফিজুর রহমান বাধনের বাসায় অভিযান পরিচালনা করে। অভিযান চলাকালীন সময়ে বাসাটি থেকে মাদক কেনাবেচা ও সরবরাহের অভিযোগে দুই ব্যক্তিকে আটক করা হয়। পরবর্তীতে তাদের দেহ ও কক্ষ তল্লাশি করে মোট ৬৫০ পিস নিষিদ্ধ ইয়াবা ট্যাবলেট এবং বেশ কয়েক বোতল বিদেশি মদ উদ্ধার করা হয়। অবৈধ এই মাদকদ্রব্য মজুত ও বিক্রির অভিযোগে পুলিশ তাদের ঘটনাস্থল থেকেই গ্রেফতার করে।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন—বাগেরহাট জেলার মোল্লারহাট উপজেলার শের আলী মোল্লার ছেলে মানিক মিয়া এবং গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার মান্দারতলা এলাকার গোলাম মোস্তফা খানের ছেলে সজিব খান।
অভিযান পরিচালনাকারী জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. হাসানুর রহমান জানান, গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তারা মূলত পলাতক মূল হোতা হাফিজুর রহমান বাধনের সহযোগী হিসেবে কাজ করতেন। এই চক্রটি দেশের সীমান্ত অঞ্চলসহ বিভিন্ন উৎস থেকে কম মূল্যে ইয়াবা ও বিদেশি মদের চালান সংগ্রহ করত। পরবর্তীতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে গোপালগঞ্জ সদরসহ আশেপাশের বিভিন্ন এলাকায় খুচরা ও পাইকারি মূল্যে তা চড়া দামে বিক্রি ও সরবরাহ করে আসছিল। মাদক বিক্রির জন্য তারা এই আবাসিক এলাকাটিকে নিরাপদ আস্তানা হিসেবে ব্যবহার করছিল।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, এই চক্রের মূল চালিকাশক্তি ও বাসার মালিক হাফিজুর রহমান বাধন অভিযানের সময় উপস্থিত না থাকায় তাকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। তবে তাকে আইনের আওতায় আনতে জেলা পুলিশের একাধিক দল সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে অভিযান অব্যাহত রেখেছে।
এই গ্রেফতার ও মাদক উদ্ধারের ঘটনায় ডিবি পুলিশের পক্ষ থেকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে গোপালগঞ্জ সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃত আসামিদের আজ মঙ্গলবার বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে। মাদকের এই বিস্তারের নেপথ্যে আরও কারা জড়িত রয়েছে, তা খতিয়ে দেখতে পুলিশি তদন্ত ও জিজ্ঞাসাবাদ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে থানা সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে।