সারাদেশ ডেস্ক
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলায় প্রকাশ্য দিবালোকে এক যুবককে গুলি করে পালিয়ে গেছে অজ্ঞাতপরিচয় দুর্বৃত্তরা। আজ মঙ্গলবার সকাল আটটার দিকে উপজেলার হাজীপুর ইউনিয়নের শরীফপুর সীমান্তবর্তী কালামিয়ার দোকান এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এতে ওই যুবক গুরুতর জখম হয়েছেন। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য জরুরি ভিত্তিতে ঢাকায় পাঠানোর পরামর্শ দিয়েছেন।
গুলিবিদ্ধ যুবকের নাম ফারুক হোসেন (২৭)। তিনি হাজীপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের শরীফপুর গ্রামের আবুল কাশেমের ছেলে এবং পেশায় একজন রাজমিস্ত্রি।
স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, আজ মঙ্গলবার সকালে কালামিয়ার দোকান এলাকায় রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন ফারুক। এ সময় একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশাযোগে তিন থেকে চারজনের একদল সশস্ত্র দুর্বৃত্ত ঘটনাস্থলে এসে উপস্থিত হয়। কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই দুর্বৃত্তরা ফারুককে লক্ষ্য করে কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়ে। এতে দুটি গুলি ফারুকের শরীরে বিদ্ধ হলে তিনি রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। ঘটনার পরপরই হামলাকারীরা অটোরিকশা নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পরে উপস্থিত স্থানীয় লোকজন ও পথচারীরা ফারুককে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে নোয়াখালী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, জরুরি বিভাগে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর আহতের অবস্থার অবনতি হলে তাকে দ্রুত ভর্তি করা হয়। তবে শরীরে অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ ও আঘাত গুরুতর হওয়ায় হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাৎক্ষণিকভাবে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরের (রেফার) পরামর্শ দেন।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, দিনের আলোতে জনাকীর্ণ এলাকায় এ ধরনের হামলার ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতা বিরাজ করছে। ঘটনার পরপরই বেগমগঞ্জ থানা পুলিশের একটি দল পরিদর্শনে যায় এবং আলামত সংগ্রহ করে। তবে কী কারণে বা কোন শত্রুতার জেরে এই ঘটনা ঘটেছে, তা এখনো উদঘাটিত হয়নি।
এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামসুজ্জামান জানান, আহতের শরীরে দুটি গুলি লেগেছে—যার একটি কোমরে এবং অন্যটি পায়ে আঘাত হেনেছে। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় চিকিৎসকদের পরামর্শে তাকে ঢাকায় পাঠানো হচ্ছে। পুলিশ ইতিমধ্যে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং জড়িতদের শনাক্ত করতে কাজ শুরু করেছে। তবে কারা, কী উদ্দেশ্যে এই হামলা চালিয়েছে, সে বিষয়ে এখনো সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। লিখিত অভিযোগ প্রাপ্তি সাপেক্ষে এবং তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।