শেয়ার বাজার ডেস্ক
দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সপ্তাহের দ্বিতীয় কার্যদিবস সোমবার (৮ জুন) সূচকের পতনের মধ্য দিয়ে লেনদেন চলছে। লেনদেন শুরুর প্রথম এক ঘণ্টায় বাজারে মিশ্র প্রবণতা দেখা দিলেও সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিক্রির চাপে সূচক নিম্নমুখী হয়ে পড়ে। প্রথম ৬২ মিনিটের লেনদেনে বাজারে ৩৩২ কোটি টাকার বেশি মূল্যের শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিট হাতবদল হয়েছে।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) হালনাগাদ বাজার পর্যবেক্ষণ থেকে জানা গেছে, আজ সকাল ১০টায় লেনদেন শুরু হওয়ার পর প্রথম দিকে অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ারের দাম বাড়ায় প্রধান সূচকে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যায়। তবে প্রাথমিক এই উত্থান দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিনিয়োগকারীদের মুনাফা তোলার প্রবণতা এবং বিক্রির চাপ বাড়ায় বাজার আবার পতনের ধারায় ফিরে আসে। সকাল ১১টা ২ মিনিট পর্যন্ত ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স আগের কার্যদিবসের তুলনায় ১১ দশমিক ৬৬ পয়েন্ট হ্রাস পেয়ে ৫ হাজার ৫০৪ দশমিক ৪৯ পয়েন্টে অবস্থান করছিল।
প্রধান সূচকের পাশাপাশি ডিএসইর অন্য দুটি সূচকেও পতন লক্ষ্য করা গেছে। এ সময়ে শরীয়াহভিত্তিক কোম্পানিগুলোর সূচক ডিএসইএস ৩ দশমিক ৭০ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ১১১ দশমিক ৮৩ পয়েন্টে নেমে আসে। অন্যদিকে, বাছাইকৃত বড় কোম্পানি নিয়ে গঠিত নীল চিপ সূচক ডিএস৩০ আগের দিনের চেয়ে ১০ দশমিক ৯৫ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ৭৬ দশমিক ২৪ পয়েন্টে দাঁড়ায়।
বাজারের সামগ্রিক চিত্রে দেখা যায়, আলোচ্য সময়ের মধ্যে লেনদেনে অংশ নেওয়া কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডগুলোর মধ্যে অধিকাংশেরই দরপতন হয়েছে। লেনদেন হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ১১৪টির শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে, বিপরীতে কমেছে ২০১টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৭৪টি কোম্পানির শেয়ার দর।
প্রথম এক ঘণ্টায় লেনদেনের শীর্ষ তালিকায় উঠে এসেছে কয়েকটি নির্দিষ্ট খাতের কোম্পানি। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ১০ কোটি ১২ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন করে শীর্ষে রয়েছে এনসিসি ব্যাংক। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা জেনেক্স ইনফোসিসের লেনদেনের পরিমাণ ছিল ৯ কোটি ৫৩ লাখ টাকা। এছাড়া আনোয়ার গ্যালভানাইজিং ৭ কোটি ৬৯ লাখ টাকা, সোনারগাঁ টেক্সটাইল ৭ কোটি ৭ লাখ টাকা, বিডি থাই ফুড ৬ কোটি ৬০ লাখ টাকা, আইপিডিসি ৫ কোটি ৯১ লাখ টাকা এবং আরডি ফুড ৫ কোটি ৭৪ লাখ টাকার শেয়ার কেনাবেচা করে শীর্ষ তালিকার পরবর্তী স্থানগুলোতে অবস্থান করছে।
পুঁজিবাজার বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে বাজারের এই ওঠানামা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে কিছুটা সতর্কাবস্থার সৃষ্টি করেছে। সপ্তাহের শুরুতে বড় ধরনের কোনো প্রাতিষ্ঠানিক ক্রয়াদেশ না থাকায় এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের একটি অংশের শেয়ার বিক্রির প্রবণতা বৃদ্ধির কারণে সূচক ধরে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে লেনদেনের পরিমাণ সন্তোষজনক অবস্থানে থাকায় বাজার দ্রুত ঘুরে দাঁড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।