বাংলাদেশ ডেস্ক
আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং দেশের মানুষের প্রত্যাশা অনুযায়ী পুলিশ বাহিনীকে আরও দায়িত্বশীল ও কর্মক্ষম করতে এই বাহিনীকে আরও উজ্জীবিত (বুস্ট আপ) করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। বিভিন্ন অপরাধের রহস্য উদ্ঘাটন, আসামি গ্রেপ্তার এবং সাহসিকতাপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৫ জন পুলিশ সদস্যকে বিশেষ সম্মাননা ও অর্থ পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। সোমবার (৮ জুন) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী এই ঘোষণা দেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ সদস্যরা যেভাবে নিরলস পরিশ্রম ও চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন, তার প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি দিতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ ধরনের স্বীকৃতি ও মূল্যায়ন পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের কাজের প্রতি আরও উৎসাহিত, অনুপ্রাণিত এবং ন্যায়নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনে উদ্বুদ্ধ করবে। এর ফলে মাঠপর্যায়ে কর্মরত পুলিশ কর্মকর্তা ও সদস্যদের পেশাগত মনোবল ও দক্ষতা বহুলাংশে বৃদ্ধি পাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সাম্প্রতিক সময়ে চাঞ্চল্যকর তিনটি ঘটনায় অত্যন্ত দক্ষতা, সাহসিকতা এবং দ্রুততার সঙ্গে দায়িত্ব পালনকারী পুলিশ সদস্যদের এই বিশেষ সম্মাননার জন্য মনোনীত করা হয়। এর মধ্যে রাজধানীসহ দেশের আলোচিত রামিসা হত্যাকাণ্ডের রহস্য দ্রুততম সময়ে উদ্ঘাটন এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারী পুলিশ কর্মকর্তা ও সদস্যরা রয়েছেন। এছাড়া মুন্সিগঞ্জে সংঘটিত চাঞ্চল্যকর গণধর্ষণের ঘটনায় জড়িত চার আসামিকে অতি দ্রুততম সময়ে গ্রেপ্তারের অভিযানে সরাসরি সম্পৃক্ত থাকা তিন পুলিশ সদস্যকেও এই সম্মাননা প্রদান করা হয়।
পাশাপাশি, রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ঘাটের পদ্মা নদীতে একটি নৌ দুর্ঘটনার সময় নৌ পুলিশের অসাধারণ ও ঝুঁকিপূর্ণ ভূমিকার কারণে বহু যাত্রীর প্রাণরক্ষা পায়। মানবিক ও সাহসিকতাপূর্ণ এই উদ্ধার অভিযানের নেতৃত্ব দেওয়া এবং সক্রিয়ভাবে অংশ নেওয়া তিন নৌ পুলিশ সদস্যকেও এই বিশেষ তালিকার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সব মিলিয়ে এই তিন ঘটনায় দৃশ্যমান ও প্রশংসনীয় সাফল্যের জন্য মোট ১৫ জন পুলিশ সদস্যকে আজ আনুষ্ঠানিকভাবে পুরস্কৃত করা হলো।
পুরস্কারপ্রাপ্তির বিবরণ উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, পুরস্কৃত প্রত্যেক পুলিশ সদস্যকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিশেষ তহবিল থেকে ২০ হাজার টাকা করে আর্থিক অনুদান এবং একটি করে রাষ্ট্রীয় সম্মাননা সনদ প্রদান করা হয়েছে। এর পাশাপাশি কাজের ধরন ও কৃতিত্বের গভীরতা বিবেচনা করে বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্যকে বিশেষ ব্যাজ পরিয়ে দেওয়া হয়।
সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছেন, সাধারণত বিভাগীয় পর্যায়ে পুলিশের অভ্যন্তরীণ বার্ষিক মূল্যায়নের বাইরে সরাসরি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এ ধরনের তাৎক্ষণিক ও সুনির্দিষ্ট কাজের স্বীকৃতি প্রদানের ঘটনা বেশ ইতিবাচক। এটি একদিকে যেমন বাহিনীর অভ্যন্তরে জবাবদিহিতা ও সুস্থ প্রতিযোগিতার পরিবেশ তৈরি করবে, অন্যদিকে অপরাধ দমনে পুলিশের মাঠপর্যায়ের তৎপরতা আরও বেগবান হবে। আইনের শাসন সমুন্নত রাখতে এবং জনগণের দোরগোড়ায় কাঙ্ক্ষিত সেবা পৌঁছে দিতে এই উদ্যোগ একটি মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে বলে অপরাধ বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।