রংপুর — জেলা প্রতিনিধি
রংপুর মহানগরীর আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং মাদক, চুরি, জুয়া ও দালাল চক্রসহ বিভিন্ন অপরাধ দমনে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরপিএমপি)। গত ২৪ ঘণ্টায় মহানগরীর বিভিন্ন থানা এলাকায় পরিচালিত এই ধারাবাহিক অভিযানে মোট ৩০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই সময় অপরাধীদের কাছ থেকে চুরি যাওয়া মালামাল, মাদকদ্রব্য এবং জুয়া খেলার সরঞ্জামাদি উদ্ধার করা হয়। আরপিএমপি’র একটি আনুষ্ঠানিক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই অভিযানের তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
পুলিশ প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ-এর প্রত্যক্ষ নির্দেশনায় মহানগরীর অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলোতে এই বিশেষ নিশ্ছিদ্র অভিযান চালানো হয়। মহানগরের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জনসাধারণের জানমালের সুরক্ষা দেওয়ার অংশ হিসেবে পুলিশ এই পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং নির্দিষ্ট অপরাধের ভিত্তিতে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে।
আরপিএমপির আওতাধীন বিভিন্ন থানার তথ্য অনুযায়ী, কোতয়ালী থানা পুলিশ পৃথক দুটি চুরির ঘটনার তদন্ত ও অভিযানে পরিচালনা করে দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে। তাদের হেফাজত থেকে চুরি যাওয়া একটি টিউবওয়েল, একটি বৈদ্যুতিক ফ্যান এবং বেশ কিছু বৈদ্যুতিক তার উদ্ধার করা হয়। একই সাথে কোতয়ালী থানা এলাকার মাদকবিরোধী অপর একটি অভিযানে ৪০ গ্রাম গাঁজাসহ একজন চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীকে হাতেনাতে আটক করতে সক্ষম হয় পুলিশ।
এদিকে মহানগরীর তাজহাট থানার পানবাড়ী এলাকায় জুয়ার একটি আসরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালায় পুলিশ। সেখান থেকে জুয়া খেলারত অবস্থায় পাঁচজন জুয়াড়িকে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযানকালে জুয়ার আসর থেকে তাস, নগদ অর্থ এবং জুয়া সংশ্লিষ্ট অন্যান্য আলামত জব্দ করা হয়েছে। এছাড়া তাজহাট থানা এলাকায় জনশৃঙ্খলা ভঙ্গ করা ও মারমুখী আচরণের অভিযোগে আরও তিনজনকে এবং মাদক সেবনের দায়ে একজনকে আটক করা হয়।
অপরাধ দমনে পরশুরাম থানা পুলিশও সমান্তরাল অভিযান পরিচালনা করেছে। থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে দুই মাদকসেবীকে গ্রেপ্তার করা হয়। এছাড়া অন্য একটি অভিযানে ১৫ পিস নিষিদ্ধ ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ এক ব্যক্তিকে আটক করে তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। অন্যদিকে, মাহিগঞ্জ থানা পুলিশ এলাকায় মাদকবিরোধী তৎপরতা চালিয়ে চোলাই মদ সেবনের দায়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে। পাশাপাশি একই থানা পুলিশ আদালতের পরোয়ানাভুক্ত এক প্রতারণা মামলার আসামিকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।
রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি) মহানগরীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এলাকা রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও এর আশেপাশে একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা সাধারণ রোগী এবং তাদের দূর-দূরান্ত থেকে আসা স্বজনদের বিভিন্নভাবে হয়রানি ও প্রতারণা করার অভিযোগে এই বিভাগ হাসপাতাল দালাল চক্রের সাতজন সক্রিয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে। দীর্ঘদিন ধরে এই চক্রটি সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে গোয়েন্দা নজরদারিতে ছিল। এছাড়া ডিবি পুলিশের পৃথক অভিযানে মাদক সেবনের দায়ে আরও চারজনকে আটক করা হয়েছে।
রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মহানগরীর সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে না আসা পর্যন্ত পুলিশের এই সমন্বিত বিশেষ অভিযান ও কঠোর নজরদারি অব্যাহত থাকবে। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি সমুন্নত রাখতে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো সর্বদা তৎপর রয়েছে।