বিশেষ প্রতিবেদক
জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ এবং বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের গৌরবময় অবদানকে বর্তমান সরকার তার পররাষ্ট্রনীতির অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনা করছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। সোমবার দুপুরে রাজধানীর চামেলীবাগে অবস্থিত সেন্টার ফর ইন্টিগ্রেটেড রুরাল ডেভেলপমেন্ট ফর এশিয়া অ্যান্ড দ্য প্যাসিফিক (সিরডাপ) মিলনায়তনে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এই মন্তব্য করেন।
ডিফেন্স জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ডিজাব) কর্তৃক আয়োজিত ‘বিশ্ব শান্তিরক্ষায় বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের অবদান’ শীর্ষক এই বিশেষ আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। সভায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে বাংলাদেশি সশস্ত্র বাহিনী ও পুলিশ সদস্যদের আত্মত্যাগ, পেশাদারিত্ব এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন যুদ্ধবিধ্বস্ত ও সংঘাতময় অঞ্চলে নিয়োজিত বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী বাহিনীর সদস্যদের সাহসিকতা ও দক্ষতার ভূয়সী প্রশংসা করেন। একই সাথে তিনি শান্তিরক্ষা মিশনে কর্মরত এবং কর্তব্যরত অবস্থায় জীবন উৎসর্গকারী সদস্যদের পরিবারের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বৈশ্বিক পর্যায়ে এই ধারা বজায় রাখতে অত্যন্ত তৎপর রয়েছে এবং আন্তর্জাতিক শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষায় জাতিসংঘের যেকোনো আহ্বান বাস্তবায়নে ঢাকা সর্বদা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
শামা ওবায়েদ ইসলাম তাঁর বক্তব্যে আরও জানান, আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ কেবল সামরিক বা কূটনৈতিক সাফল্যের অংশ নয়, এটি বাংলাদেশের সাংবিধানিক অঙ্গীকারেরই প্রতিফলন। স্বাধীনতার পর থেকেই বাংলাদেশ বৈশ্বিক শান্তি ও বন্ধুত্বের নীতি অনুসরণ করে আসছে। আগামী দিনগুলোতেও যাতে বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীরা আরও দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করতে পারেন, সেজন্য সরকারের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক নীতিগত সহায়তা ও কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন তিনি। একই সাথে শান্তিরক্ষীদের কল্যাণ ও যেকোনো প্রয়োজনে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সহযোগিতা করবে বলেও তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত কৌশলগত বিশ্লেষক এবং সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ বলেন, ১৯৮৮ সালে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে যোগদানের পর থেকে বাংলাদেশ ধারাবাহিকভাবে শীর্ষ শান্তিরক্ষী প্রেরণকারী দেশগুলোর অন্যতম হিসেবে নিজেদের অবস্থান ধরে রেখেছে। আফ্রিকার কঙ্গো, দক্ষিণ সুদান, মালি এবং মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রসহ বিশ্বের বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলে বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের মানবিক আচরণ ও পেশাদারিত্ব আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপকভাবে সমাদৃত হয়েছে। তবে বর্তমান ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও নতুন ধরণের নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে শান্তিরক্ষীদের আধুনিক প্রযুক্তিতে আরও দক্ষ করে গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।
আলোচকেরা অভিমত প্রকাশ করেন যে, বর্তমান সরকারের দূরদর্শী পররাষ্ট্রনীতির কারণে জাতিসংঘে বাংলাদেশের গ্রহণযোগ্যতা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে। শান্তিরক্ষা মিশনে নারী শান্তিরক্ষীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি এবং নেতৃত্বের পর্যায়ে বাংলাদেশিদের অন্তর্ভুক্তি বাড়াতে চলমান কূটনৈতিক প্রচেষ্টা আরও জোরদার করা আবশ্যক। সিরডাপ মিলনায়তনের এই সেমিনারে ডিজাবের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যবৃন্দ, প্রতিরক্ষা খাতের জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক, নিরাপত্তা বিশ্লেষক এবং সশস্ত্র বাহিনীর সাবেক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।