আইন আদালত ডেস্ক
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে বগুড়ায় সংঘটিত সহিংসতার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় কক্সবাজার-৪ (উখিয়া-টেকনাফ) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদিকে হাইকোর্টের দেওয়া জামিন স্থগিত রেখেছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। আজ সোমবার আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলামের নেতৃত্বাধীন আপিল বেঞ্চ শুনানির পর এই আদেশ দেন। এর ফলে সাবেক এই আইনপ্রণেতার কারামুক্তি আপাতত স্থগিতই থাকছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, গত ২৬ ফেব্রুয়ারি বিচারপতি মো. আতোয়ার রহমান ও বিচারপতি বিশ্বজিৎ দেবনাথের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ আওয়ামী লীগের সাবেক এই সংসদ সদস্যকে জামিন দিয়েছিলেন। পরে ওই জামিন আদেশ স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল বিভাগে আবেদন করে। রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ৫ মার্চ আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি মো. রেজাউল হক হাইকোর্টের দেওয়া জামিনের ওপর স্থগিতাদেশ দেন এবং বিষয়টি শুনানির জন্য আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে পাঠানোর নির্দেশ দেন। তারই ধারাবাহিকতায় আজ নিয়মিত বেঞ্চে শুনানি শেষে স্থগিতাদেশ বহাল রাখার সিদ্ধান্ত আসে।
মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট মাসে দেশজুড়ে চলমান বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে ৪ আগস্ট বগুড়ায় ব্যাপক সহিংসতা সংঘটিত হয়। ওই ঘটনায় বগুড়া থানায় আবদুর রহমান বদিসহ বেশ কয়েকজন স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ের নেতার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। মামলার এজাহারে সাবেক সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদিকে ওই সহিংস ঘটনার অন্যতম মূল অর্থ জোগানদাতা (অর্থায়নকারী) হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। আন্দোলনের সময় আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা ও সহিংসতা উসকে দিতে এই অর্থ ব্যবহার করা হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর আত্মগোপনে যান দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। এরই ধারাবাহিকতায় ২০ আগস্ট চট্টগ্রাম মহানগরীর পাঁচলাইশ এলাকা থেকে আবদুর রহমান বদিকে গ্রেফতার করে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। গ্রেফতারের পর তৎকালীন সময়ে র্যাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, কক্সবাজারের টেকনাফে দায়ের করা একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় তাকে সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে তাকে বগুড়ার এই সহিংসতা ও অর্থায়নের মামলায়ও গ্রেফতার দেখানো হয়।
আইনজীবী ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আবদুর রহমান বদির বিরুদ্ধে কেবল বগুড়া বা চট্টগ্রামের মামলাই নয়, নিজ নির্বাচনী এলাকা কক্সবাজারেও একাধিক গুরুতর অভিযোগ ও মামলা রয়েছে। নবম ও দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কক্সবাজার-৪ আসন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়া এই নেতার বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের আগস্ট মাসেই টেকনাফে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর, লুটপাট এবং হামলার অভিযোগে আরও একটি মামলা দায়ের করা হয়। কক্সবাজার জেলা বিএনপির অর্থ সম্পাদক মোহাম্মদ আবদুল্লাহ বাদী হয়ে টেকনাফ থানায় ওই লিখিত অভিযোগটি দায়ের করেছিলেন।
উক্ত মামলায় আবদুর রহমান বদিকে প্রধান আসামি করা হয়। এছাড়া টেকনাফ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান জাফর আহমেদসহ ৩৩ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৫০ থেকে ৭০ জনকে আসামি করা হয়। দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে তিনি পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন মামলায় গ্রেফতার হয়ে কারাগারে আছেন। আপিল বিভাগের আজকের এই আদেশের ফলে সাবেক এই সংসদ সদস্যের আইনি জটিলতা আরও দীর্ঘায়িত হলো এবং তাকে কারাগারেই থাকতে হচ্ছে। আইনানুযায়ী এখন নিয়মিত আদালতে এই মামলার বিচারপ্রক্রিয়া চলমান থাকবে।