সারাদেশ ডেস্ক
নোয়াখালী সদর উপজেলায় নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীদের ঝটিকা বিক্ষোভ মিছিলের ঘটনায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে ১১৭ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও একাধিক ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিশেষ অভিযানে এখন পর্যন্ত ৪৭ জন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে প্রথম দফায় ২৪ জনকে রবিবার (৭ জুন) আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে এবং বাকিদের আদালতে সোপর্দ করার প্রক্রিয়া চলছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার বিকেলে সদর উপজেলার নোয়ান্নই ইউনিয়নের বাঁধেরহাট বাজারের জিরো পয়েন্ট এলাকায় এই বিক্ষোভ মিছিলের ঘটনা ঘটে। নোয়ান্নই ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আশরাফুল করিম ওরফে বাবুর নেতৃত্বে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের নেতাকর্মীরা আকস্মিকভাবে এই মিছিল বের করেন। মিছিলকারীরা সরকারবিরোধী বিভিন্ন উসকানিমূলক স্লোগান দেওয়ার পাশাপাশি প্রধান সড়কে ব্যারিকেড সৃষ্টি করে যানবাহন চলাচলে চরম প্রতিবন্ধকতা তৈরি করেন। ব্যস্ততম বাজারে আকস্মিক এই কর্মকাণ্ডের ফলে সাধারণ ব্যবসায়ী ও পথচারীদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ও জননিরাপত্তাহীনতা ছড়িয়ে পড়ে।
উক্ত ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে শান্তিশৃঙ্খলা ভঙ্গ ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে সুধারাম মডেল থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা রুজু করা হয়। মামলা দায়েরের পর পরই পুলিশ আসামিদের গ্রেফতারে বিশেষ অভিযানে নামে। শুক্রবার দিবাগত রাতে জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে এজাহারভুক্ত ২৪ জন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়। পরবর্তীতে শনিবার দিবাগত রাতে সুধারাম থানা পুলিশের একাধিক টিম জেলা ও উপজেলার বিভিন্ন প্রত্যন্ত এলাকায় চিরুনি অভিযান পরিচালনা করে আরও ২৩ জন আসামিকে আইনের আওতায় আনতে সক্ষম হয়।
এদিকে, শুক্রবারের এই বিক্ষোভ মিছিলের রেশ ধরে শনিবার বিকেলে উপজেলার কালাদরাপ ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম শুল্লকিয়া গ্রামে চরম উত্তেজনা ও সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় একটি মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রদলের স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষ চলাকালীন এলাকায় ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয় এবং স্থানীয় আওয়ামী লীগের একটি দলীয় কার্যালয় ও বিএনপি কর্মীদের একটি মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এই দ্বিপক্ষীয় সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ৬ জন নেতাকর্মী গুরুতর আহত হয়েছেন। আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
সুধারাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম সার্বিক পরিস্থিতির বিষয়ে গণমাধ্যমকে জানান, বাঁধেরহাট বাজারের ঘটনায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দায়েরকৃত মামলায় এখন পর্যন্ত মোট ৪৭ জন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রথম দফায় গ্রেফতারকৃত ২৪ জনকে সুনির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে রবিবার আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অবশিষ্ট আসামিদেরও যথাযথ প্রক্রিয়ায় আদালতে সোপর্দ করা হচ্ছে। এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বর্তমানে সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। মামলার সুষ্ঠু তদন্ত এবং এজাহারভুক্ত ও অজ্ঞাতনামা বাকি আসামিদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে পুলিশের বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।