সারাদেশ ডেস্ক
চট্টগ্রামের মীরসরাইয়ে সিলেটগামী আন্তঃনগর ‘পাহাড়িকা এক্সপ্রেস’ ট্রেনের সঙ্গে একটি বালুবাহী ট্রাকের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। আজ রবিবার সকাল ৯টার দিকে উপজেলার জোরারগঞ্জ থানার মধ্যম সোনাপাহাড় এলাকার একটি অরক্ষিত লেভেল ক্রসিংয়ে এই দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া না গেলেও রেললাইনের ওপর দুর্ঘটনাকবলিত ট্রাকটি আটকে থাকায় এবং ট্রেনের ইঞ্জিনের আংশিক ক্ষতি হওয়ায় ঢাকা-চট্টগ্রাম ও চট্টগ্রাম-সিলেট রুটে ট্রেন চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে। এর ফলে বিভিন্ন স্টেশনে বেশ কয়েকটি যাত্রীবাহী ট্রেন আটকা পড়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন হাজারো যাত্রী।
রেলওয়ে পুলিশ ও স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা গেছে, সকালবেলা চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশন থেকে ছেড়ে আসা সিলেট অভিমুখী পাহাড়িকা এক্সপ্রেস ট্রেনটি মীরসরাইয়ের মধ্যম সোনাপাহাড় এলাকা অতিক্রম করছিল। এ সময় একটি বালু বোঝাই ট্রাক কোনো সংকেত বা গেটম্যান ছাড়া অরক্ষিত একটি অবৈধ লেভেল ক্রসিং পার হওয়ার চেষ্টা করে। ট্রেনটি কাছাকাছি চলে আসায় চালক ব্রেক চেপেও সংঘর্ষ এড়াতে পারেননি। ট্রেনের ধাক্কায় ট্রাকটি দুমড়েমুচড়ে লাইনের ওপর ছিটকে পড়ে। তবে ট্রেন ও ট্রাকের গতি তুলনামূলক কম থাকায় এবং সংঘর্ষের পরপরই ট্রেনটি থামিয়ে দেওয়ায় বড় ধরনের কোনো বড় বিপর্যয় বা প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি। দুর্ঘটনার পরপরই ট্রাকের চালক ও সহকারী ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।
চট্টগ্রাম রেলওয়ে পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) তোফাজ্জল হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, সংঘর্ষের কারণে পাহাড়িকা এক্সপ্রেসের লোকোমোটিভ বা ইঞ্জিনের সামনের অংশ সামান্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ট্রাকটি রেললাইনের ওপর আড়াআড়িভাবে আটকে থাকায় লাইনের উভয় দিকে ট্রেন চলাচল পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। খবর পেয়ে রেলওয়ে প্রকৌশল বিভাগ ও রেলওয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। লাইন সচল করতে এবং দুর্ঘটনাকবলিত ট্রাকটি রেল ট্র্যাক থেকে সরিয়ে নিতে উদ্ধারকারী দল কাজ শুরু করেছে। ট্রাকটি জব্দ করা হয়েছে এবং চালককে আটকের চেষ্টা চলছে।
এদিকে ব্যস্ততম এই রেলরুটে আচমকা দুর্ঘটনা ঘটায় চট্টগ্রামের সঙ্গে ঢাকা ও সিলেটের রেল যোগাযোগ স্থবির হয়ে পড়েছে। চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার কারণে বিভিন্ন ডাউন ও আপ স্টেশনে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তঃনগর ও কমিউটার ট্রেন আটকা পড়েছে। সর্বশেষ খবর অনুযায়ী, চট্টগ্রাম অভিমুখী ‘সাগরিকা কমিউটার’ বড়তাকিয়া স্টেশনে, ময়মনসিংহগামী ‘বিজয় এক্সপ্রেস’ চিনকি আস্তানা স্টেশনে, ঢাকাগামী হাইস্পিড ‘পর্যটক এক্সপ্রেস’ ফেনী স্টেশনে এবং চট্টগ্রামগামী ‘সোনার বাংলা এক্সপ্রেস’ লাকসাম জংশন পার হয়ে ডাউন লাইনে আটকা পড়ে আছে। মাঝপথে ট্রেনগুলো দীর্ঘসময় দাঁড়িয়ে থাকায় তীব্র গরমে সাধারণ যাত্রীদের, বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
রেলওয়ে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সারা দেশে বিশেষ করে ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের বিভিন্ন অংশে অসংখ্য অবৈধ ও অরক্ষিত লেভেল ক্রসিং গড়ে উঠেছে, যা নিয়মিত বিরতিতে এ ধরনের ছোট-বড় দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে স্থানীয় লোকজন বা বিভিন্ন সংস্থা নিয়ম না মেনে রেললাইনের ওপর দিয়ে যাতায়াতের রাস্তা তৈরি করে নেয়, যেখানে কোনো গেটম্যান বা স্বয়ংক্রিয় সিগন্যাল বার থাকে না। আজকের দুর্ঘটনাটিও মীরসরাইয়ের সোনাপাহাড় এলাকার তেমনই একটি অরক্ষিত ক্রসিংয়ে ঘটেছে।
চট্টগ্রাম রেলওয়ে বিভাগীয় ব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, দুর্ঘটনাকবলিত এলাকাটি পরিষ্কার করে লাইন পুনরায় সচল করার জন্য সর্বোচ্চ তৎপরতা চালানো হচ্ছে। উদ্ধারকারী ক্রেন ও প্রকৌশলীরা কাজ করছেন। ট্রাকটি সম্পূর্ণ সরিয়ে নেওয়ার পর এবং পাহাড়িকা এক্সপ্রেসের ইঞ্জিনের কারিগরি ত্রুটি বা ফিটনেস পরীক্ষা শেষে লাইনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে যত দ্রুত সম্ভব ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক করা হবে। একই সঙ্গে এই দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখতে রেলওয়ের পক্ষ থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া চলছে।