সারাদেশ ডেস্ক
জাতীয় সংসদের হুইপ ও নাটোর-২ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু বলেছেন, দেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায় বিএনপির আমলেই সবচেয়ে বেশি নিরাপদ থাকে এবং দলটি সবসময়ই হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর। বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দেশের সংখ্যালঘুদের সার্বিক নিরাপত্তা বিধান করা বিএনপির ওপর একটি বাড়তি দায়িত্ব হিসেবে যোগ হয়েছে।
শুক্রবার (৫ জুন) দুপুরে নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলার বাসুদেবপুর দোল কালী মন্দিরে তিন দিনব্যাপী ধর্মীয় অনুষ্ঠান ‘হরিবাসের’ উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। স্থানীয় ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষা এবং রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্বশীল ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি এই বক্তব্য প্রদান করেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে হুইপ রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু বলেন, “ধর্ম যার যার, কিন্তু এই মাতৃভূমি বাংলাদেশ আমাদের সকলের।” নাটোরের সাম্প্রতিক নির্বাচনী প্রেক্ষাপট উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, অতীতে দেশে সাধারণত বিএনপি-জামায়াত জোটের সঙ্গে আওয়ামী লীগের প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতো। তবে নাটোরে এবার ব্যতিক্রমী সমীকরণ দেখা গেছে, যেখানে আওয়ামী লীগের ভোটাররা জামায়াতে ইসলামীকে এবং সনাতন ধর্মাবলম্বী সংখ্যালঘুরা বিএনপিকে ভোট দিয়েছেন। এই রাজনৈতিক সমর্থনের কারণে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন বিএনপির নৈতিক ও রাজনৈতিক দায়িত্ব।
অনুষ্ঠানে বর্তমান সরকারের বিভিন্ন সংস্কারমুখী পদক্ষেপ ও দূরদর্শী নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করা হয়। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বের কথা উল্লেখ করে বক্তারা বলেন, বিগত তিন মাসে দেশের রাষ্ট্রব্যবস্থা ও সমাজনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব হয়েছে। স্বাধীনতার পর থেকে বিভিন্ন সরকার ক্ষমতায় এলেও বর্তমান সরকারের শাসনামলে ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সামাজিক উন্নয়নে দৃশ্যমান অগ্রগতি সাধিত হয়েছে। বিশেষ করে, মুসলিম সম্প্রদায়ের মসজিদের ইমামদের পাশাপাশি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মন্দিরের পুরোহিতদের জন্য রাষ্ট্রীয়ভাবে নিয়মিত বেতন-ভাতার সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে, যা দেশের ধর্মীয় সমতা ও সম্প্রীতি রক্ষায় একটি ঐতিহাসিক ও যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বাসুদেবপুর দোল কালী মন্দির কমিটির ব্যবস্থাপনায় আয়োজিত এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সনাতন ধর্মাবলম্বী সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে আরও বক্তব্য রাখেন নাটোর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান শাহিন, সাইফুল ইসলাম আফতাব, সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ফরহাদ আলী দেওয়ান শাহীন এবং নলডাঙ্গা উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুল ইসলাম বুলবুলসহ মন্দির পরিচালনা কমিটির নেতৃবৃন্দ।
বক্তারা স্থানীয় পর্যায়ে সব ধর্মের মানুষের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান বজায় রাখা এবং যেকোনো ধরনের অপতৎপরতা ও সাম্প্রদায়িক সহিংসতা রুখে দিতে রাজনৈতিক নেতা-কর্মীসহ স্থানীয় প্রশাসনকে সদা সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। তিন দিনব্যাপী এই হরিবাসের ধর্মীয় উৎসবকে কেন্দ্র করে স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা গেছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।