সারাদেশ ডেস্ক
নোয়াখালী সদর উপজেলায় জুয়ার আসরকে কেন্দ্র করে কিশোর গ্যাংয়ের দুই পক্ষের সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে মো. কামাল উদ্দিন (৫০) নামে এক গাছের ব্যবসায়ীর মৃত্যু হয়েছে। গত শনিবার রাত ১০টার দিকে উপজেলার দাদপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের লচি সর্দার বাড়িতে এই ঘটনা ঘটে। নিহতের পরিবারের দাবি, প্রতিপক্ষের হামলায় তার মৃত্যু হয়েছে। তবে পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে নিহতের মরদেহে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
নিহত কামাল উদ্দিন দাদপুর ইউনিয়নের লচি সর্দার বাড়ির মৃত মো. সোলেমানের ছেলে। তিনি এলাকায় গাছের ব্যবসা করতেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ওই এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে মাদক ও জুয়ার আসর পরিচালনা নিয়ে কিশোর অপরাধী ও স্থানীয় যুবকদের দুটি পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছিল। পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটি উপলক্ষে স্থানীয় কয়েকজন যুবক লচি সর্দার বাড়ির পেছনে একটি জুয়ার আসরের আয়োজন করে। এই আসরকে কেন্দ্র করে নিহতের ভাতিজা ফরহাদ ও তারেক নামের দুই যুবকের সাথে পার্শ্ববর্তী মিনু আলী হাজী বাড়ির রনি ও শামু নামের অপর পক্ষের বাকবিতণ্ডা ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়রা জানান, পূর্ববিরোধ ও জুয়ার আসরের ঘটনার জের ধরে শনিবার রাত সোয়া ৯টার দিকে লচি সর্দার বাড়িতে দুই পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে পুনরায় সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং ঝগড়া থামাতে ব্যবসায়ী কামাল উদ্দিন এগিয়ে যান। অভিযোগ রয়েছে, প্রতিপক্ষ মিনু আলী হাজী বাড়ির ইমাম উদ্দিনের নেতৃত্বে একদল যুবক কামাল উদ্দিনের ওপর অতর্কিত চড়াও হয় এবং তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে। একপর্যায়ে তিনি অবচেতন হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের ভাই ও স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য মো. তোফায়েল ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, পার্শ্ববর্তী বাড়ির ইমাম উদ্দিনের নেতৃত্বে একদল যুবক তাদের বাড়িতে এসে অতর্কিত হামলা চালায়। কামাল উদ্দিন তাদের শান্ত করার চেষ্টা করলে এবং হামলার প্রতিবাদ জানালে তারা তার ওপর চড়াও হয়। তবে হামলার প্রকৃত কারণ এবং এটি পরিকল্পিত ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি জানান তিনি।
সুধারাম থানার পরিদর্শক (অপারেশন) শ্রীরাম চন্দ্র ভট্টাচার্য সংবাদমাধ্যমকে জানান, জুয়া খেলা ও স্থানীয় কিশোরদের অভ্যন্তরীণ বিরোধের জেরে এই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। নিহতের ভাতিজা ফরহাদকে মারধরের খবর পেয়ে চাচা কামাল উদ্দিন ঘটনাস্থলে যান। সেখানে ঝগড়া থামানোর চেষ্টার একপর্যায়ে তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। প্রাথমিকভাবে সুরতহাল প্রতিবেদনে নিহতের শরীরে দৃশ্যমান কোনো আঘাতের চিহ্ন মেলেনি। হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে নাকি অন্য কোনো কারণে মৃত্যু হয়েছে, তা নিশ্চিত হতে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। স্বজনদের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে এবং ঘটনার সাথে জড়িতদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। এই ঘটনায় এলাকায় পুলিশি নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে।