সারাদেশ ডেস্ক
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলায় পূর্বশত্রুতার জেরে পথরোধ করে জোবায়ের হোসেন ওরফে রাকিব (২৩) নামে এক তরুণকে লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় নিহতের ছোট ভাই রিমন (২০) গুরুতর আহত হয়েছেন। শনিবার (৩০ মে) রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার শরীফপুর ইউনিয়নের খানপুর গ্রামের পাকমুন্সিরহাট বাজার সংলগ্ন এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। পুলিশ নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করেছে।
নিহত জোবায়ের হোসেন রাকিব শরীফপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের খানপুর গ্রামের ভোলা গাজী বাড়ির সৌদি প্রবাসী মো. হানিফের বড় ছেলে। তিনি ঢাকা ও নোয়াখালীর বিভিন্ন বিপণিবিতানে কর্মরত ছিলেন বলে জানা গেছে।
পুলিশ, নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত তিন-চার দিন আগে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে নিহতের চাচাতো ভাইয়ের ছেলের সঙ্গে স্থানীয় এক দোকানদারের বাগবিতণ্ডা ও বিরোধের সৃষ্টি হয়। এই বিরোধ মীমাংসার লক্ষ্যে শনিবার রাতে স্থানীয় পাকমুন্সিরহাট বাজারে উভয় পক্ষের লোকজন ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা সালিশি বৈঠকে বসেন। বৈঠক চলাকালীন পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে উপস্থিত লোকজন অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে রাকিবকে সেখান থেকে চলে যাওয়ার অনুরোধ করেন। এরপর রাকিব তার ছোট ভাই রিমনকে সাথে নিয়ে পায়ে হেঁটে বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন।
পাকমুন্সিরহাট বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে একটি অন্ধকার ও নির্জন স্থানে পৌঁছালে পূর্ব থেকে ওত পেতে থাকা একদল দুর্বৃত্ত তাদের গতিরোধ করে। কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই হামলাকারীরা লোহার রড, লাঠিসোঁটাসহ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে রাকিবের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। দুর্বৃত্তরা তার মাথা ও শরীরের বিভিন্ন সংবেদনশীল স্থানে এলোপাতাড়ি আঘাত করে গুরুতর জখম করে। এ সময় বড় ভাইকে বাঁচাতে ছোট ভাই রিমন এগিয়ে আসলে দুর্বৃত্তরা তাকেও পিটিয়ে মারাত্মকভাবে আহত করে। দুই ভাইয়ের চিৎকার শুনে স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনাস্থলে এগিয়ে আসলে হামলাকারীরা দ্রুত পালিয়ে যায়।
পরবর্তীতে স্থানীয় লোকজন রক্তাক্ত ও সংজ্ঞাহীন অবস্থায় রাকিব এবং আহত রিমনকে উদ্ধার করে তাৎক্ষণিকভাবে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে রাকিবকে মৃত ঘোষণা করেন। হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ এবং মাথায় গুরুতর আঘাতের কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে। আহত রিমন বর্তমানে ওই হাসপাতালেই চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এই হত্যাকাণ্ডের পর খানপুর গ্রাম ও সংলগ্ন পাকমুন্সিরহাট বাজার এলাকায় তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে। অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়ে দোষীদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামসুজ্জামান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল এবং হাসপাতাল পরিদর্শন করেছে। নিহতের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পূর্ববিরোধের জেরে পরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে। ঘটনায় জড়িতদের নাম-পরিচয় উদঘাটন এবং তাদের গ্রেফতারে পুলিশের একাধিক দল অভিযান শুরু করেছে। এই বিষয়ে নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।