সারাদেশ ডেস্ক
মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলায় পারিবারিক বিরোধের জেরে এক গৃহবধূ ও তার দুই বছর বয়সী সন্তানকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে। গতকাল শনিবার রাত সোয়া ৯টার দিকে উপজেলার চরাঞ্চল বাঁচামারা ইউনিয়নের বাঘুটিয়া গ্রামে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন— ওই গ্রামের কাপড় ব্যবসায়ী আবদুস ছালামের স্ত্রী আমিনা বেগম (৩০) ও তাদের দুই বছরের শিশুসন্তান আসলাম হোসেন। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত দেবর ইউসুফ আলী (৪০) পলাতক রয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বাঘুটিয়া গ্রামের বাসিন্দা ও স্থানীয় বাঁচামারা বাজারের কাপড় ব্যবসায়ী আবদুস ছালামের সঙ্গে তার ছোট ভাই ইউসুফ আলীর দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিরোধ চলছিল। শনিবার রাতে ব্যবসায়ী ছালাম নিজের দোকান বন্ধ করে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হন। তিনি বাড়ির আঙিনায় পৌঁছানো মাত্রই পূর্বপরিকল্পিতভাবে ওত পেতে থাকা ছোট ভাই ইউসুফ আলী দেশীয় ধারালো অস্ত্র নিয়ে তার ওপর আকস্মিক হামলা চালান। ইউসুফের উপর্যুপরি আঘাতে ছালাম গুরুতর রক্তাক্ত ও জখম হন। তার চিৎকার শুনে ঘর থেকে স্ত্রী আমিনা বেগম ও কোলে থাকা দুই বছরের শিশুসন্তান আসলাম তাকে বাঁচাতে ছুটে আসেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ জানায়, ছালামকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে ক্ষিপ্ত হয়ে ইউসুফ আলী তার ভাবি আমিনা বেগম এবং ভাতিজা আসলামের ওপর চড়াও হন। তিনি ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাদের এলোপাতাড়ি কুপিয়ে এবং লাঠি দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর জহত করেন। ঘটনাস্থলেই অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে মা ও শিশুর মৃত্যু হয়। এদিকে স্থানীয় বাসিন্দারা তাৎক্ষণিকভাবে গুরুতর আহত ও রক্তাক্ত অবস্থায় আবদুস ছালামকে উদ্ধার করে স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভর্তি করেন। বর্তমানে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন তিনি। ঘটনার পরপরই অভিযুক্ত ইউসুফ আলী এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যান।
খবর পেয়ে দৌলতপুর থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত শেষে মরদেহ দুটি উদ্ধার করে। আজ রবিবার সকালে নিহতদের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মানিকগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। দুর্গম চরাঞ্চল হওয়ায় ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌঁছাতে ও মরদেহ উদ্ধার করে সদরে নিয়ে আসতে বেগ পেতে হয়েছে বলে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে।
দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) স্বপন কুমার সরকার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, প্রাথমিক তদন্তে বিষয়টি দীর্ঘদিনের পারিবারিক ও সম্পত্তিগত কলহের জেরে ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই অভিযুক্ত ইউসুফ আলী পলাতক রয়েছেন। তাকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের একাধিক দল অভিযান শুরু করেছে। এই ঘটনায় নিহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে দৌলতপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এলাকায় যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।