নিজস্ব প্রতিবেদক
ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে সারা দেশে টানা সাত দিনের দীর্ঘ ছুটি শুরু হচ্ছে। আগামীকাল সোমবার (২৫ মে) থেকে শুরু হয়ে এই ছুটি চলবে আগামী ৩১ মে (রবিবার) পর্যন্ত। গত ১৪ মে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে জারিকৃত এক প্রজ্ঞাপনে এই সাধারণ ছুটির বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে ঈদের আনন্দ সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে এবং জরুরি রাষ্ট্রীয় ও নাগরিক সেবা সচল রাখতে বেশ কিছু সরকারি ও বেসরকারি খাতকে এই ছুটির আওতাবহির্ভূত রাখা হয়েছে।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, ছুটির দিনগুলোতে জরুরি পরিষেবা যেমন—বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস ও অন্যান্য জ্বালানি সরবরাহে নিয়োজিত কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা ছুটি পাবেন না। জনসাধারণের ভোগান্তি লাঘব এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবেলায় ফায়ার সার্ভিস, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম, টেলিফোন, ইন্টারনেট ও ডাক সেবায় নিয়োজিত কর্মী ও যানবাহনগুলো যথারীতি কর্মস্থলে উপস্থিত থেকে দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া দেশের আমদানি-রপ্তানি ও বাণিজ্য গতিশীল রাখার স্বার্থে সমুদ্র, স্থল ও নদী বন্দরগুলোর কার্যক্রম সম্পূর্ণ সচল থাকবে এবং এ-সংশ্লিষ্ট সেবা কাজে নিয়োজিত কর্মী ও যানবাহনগুলো ছুটির আওতামুক্ত থাকবে।
পবিত্র এই উৎসবকালীন সময়ে দেশের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা যেন বিঘ্নিত না হয়, সেজন্য বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ছুটির দিনগুলোতেও দেশের সব হাসপাতাল ও জরুরি চিকিৎসা সেবা কার্যক্রম সম্পূর্ণ চালু থাকবে। ফলে চিকিৎসা সেবায় নিয়োজিত চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীরা এই সাধারণ ছুটির সুযোগ পাবেন না। একই সঙ্গে ওষুধ ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জামাদি বহনকারী যানবাহন এবং এর সঙ্গে যুক্ত কর্মীরাও স্ব স্ব দায়িত্ব পালন করবেন বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, জরুরি কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত অন্যান্য সরকারি দপ্তরগুলোও একইভাবে সাধারণ ছুটির আওতার বাইরে থাকবে। এর পাশাপাশি বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ খাতের জন্য বিশেষ নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। নির্দেশনা অনুযায়ী, ঈদের ছুটিতে সাধারণ গ্রাহকদের আর্থিক লেনদেন নির্বিঘ্ন রাখতে এবং এটিএম বুথসহ অনলাইন ব্যাংকিং সেবা স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংককে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, দেশের বিচারিক কার্যক্রম সীমিত পরিসরে সচল রাখার উদ্দেশ্যে সুপ্রিম কোর্ট থেকে পৃথক ও ভিন্ন নির্দেশনা প্রদান করা হবে।
দেশের অর্থনীতি ও রপ্তানি খাতের অন্যতম চালিকাশক্তি তৈরি পোশাক খাতসহ বেসরকারি খাতের শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও কল-কারখানার শ্রমিক-কর্মচারীদের ছুটির বিষয়টি বাংলাদেশ শ্রম আইন অনুযায়ী নির্ধারিত হবে। এ লক্ষ্যে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা ও তদারকি গ্রহণ করবে বলে জানা গেছে। প্রতি বছর ঈদের ছুটিতে বিপুলসংখ্যক মানুষের ঢাকা ছাড়ার কারণে নাগরিক সেবায় যাতে স্থবিরতা না আসে, সেজন্যই সরকার এই সমন্বিত ও সুনিয়ন্ত্রিত ছুটির রূপরেখা প্রণয়ন করেছে।