বাংলাদেশ ডেস্ক
স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর নির্বাচনী বিধিমালা ও আচরণবিধিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের লক্ষ্যে আজ বুধবার (১৩ মে) বিশেষ বৈঠকে বসছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এই সভার মাধ্যমে সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের বিদ্যমান আইনি কাঠামোয় সংস্কার আনা হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
মঙ্গলবার নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, বুধবার নির্বাচন কমিশনারদের উপস্থিতিতে এই নীতি নির্ধারণী সভা অনুষ্ঠিত হবে। প্রস্তাবিত সংশোধনীগুলো নিয়ে আলোচনার পর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে তা আনুষ্ঠানিকভাবে গণমাধ্যমকে অবহিত করা হবে।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, বর্তমান কমিশন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে আরও আধুনিক, ব্যয়সাশ্রয়ী এবং প্রশাসনিকভাবে সহজতর করতে চায়। এর আগে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রাক্কালে সংসদীয় নির্বাচনী বিধিমালায় যে ধরণের মৌলিক পরিবর্তন আনা হয়েছিল, তার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই স্থানীয় সরকারের বিধিতেও সংশোধনী আনার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
প্রস্তাবিত পরিবর্তনগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো নির্বাচনের জামানতের পরিমাণ বৃদ্ধি। বর্তমানে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের বিভিন্ন পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য যে পরিমাণ জামানত নির্ধারণ করা আছে, তা বাড়ানো হতে পারে। মূলত গুরুত্বহীন প্রার্থীদের সংখ্যা কমিয়ে আনা এবং নির্বাচনের গুরুত্ব বজায় রাখতেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পরিবেশগত সুরক্ষা ও নির্বাচনী ব্যয় নিয়ন্ত্রণে প্রচারণার মাধ্যম হিসেবে কাগুজে পোস্টার ব্যবহারের বিধান তুলে দেওয়ার বিষয়টিও কমিশনের বিবেচনায় রয়েছে। এর পরিবর্তে ডিজিটাল বা বিকল্প মাধ্যমে প্রচারণার ওপর জোর দেওয়া হতে পারে। তবে সংসদ নির্বাচনের ক্ষেত্রে অনলাইনে মনোনয়নপত্র জমার বিধান রাখা হলেও, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কারিগরি ও বাস্তব প্রতিকূলতার কথা বিবেচনায় নিয়ে অনলাইনে মনোনয়নপত্র দাখিলের বাধ্যবাধকতা বাদ দেওয়ার চিন্তাভাবনা চলছে।
সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) এবং দলীয় প্রতীকের ক্ষেত্রে। জানা গেছে, আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলোতে ইভিএমের পরিবর্তে পুনরায় ব্যালট পেপার ব্যবহারের সিদ্ধান্ত আসতে পারে। পাশাপাশি স্থানীয় নির্বাচনে রাজনৈতিক দলের প্রতীকে প্রার্থী হওয়ার বিদ্যমান বিধানটি বাতিল করে নির্বাচনকে পুরোপুরি নির্দলীয় করার প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হতে পারে। এটি বাস্তবায়ন হলে প্রার্থীরা কোনো দলীয় পরিচয় বা প্রতীক ছাড়াই ব্যক্তিগত ইমেজে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন।
এ ছাড়া নির্বাচনী অপরাধের দণ্ড এবং শাস্তির বিধানেও কঠোরতা আনা হচ্ছে। নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে জরিমানার পরিমাণ বৃদ্ধি এবং প্রার্থিতা বাতিলের মতো কঠোর ধারাগুলো স্থানীয় সরকার বিধিমালায় অন্তর্ভুক্ত করার সম্ভাবনা রয়েছে।
দেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, স্থানীয় সরকার নির্বাচন থেকে দলীয় প্রতীক ও ইভিএম পদ্ধতি সরিয়ে নিলে তা তৃণমূলের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করবে। একদিকে যেমন দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল কমতে পারে, অন্যদিকে ব্যালট পেপারে ভোট গ্রহণের সিদ্ধান্তটি ভোটারদের আস্থার জায়গা তৈরিতে ভূমিকা রাখতে পারে। তবে জামানত বৃদ্ধি এবং পোস্টার নিষিদ্ধের মতো সিদ্ধান্তগুলো স্বল্প আয়ের প্রার্থীদের জন্য কতটা সহায়ক হবে, তা নিয়ে আলোচনার অবকাশ রয়েছে। আজকের বৈঠকের পরই স্পষ্ট হবে তৃণমূলের এই নির্বাচনগুলো আগামীর জন্য কোন পথে এগোচ্ছে।