সারাদেশ ডেস্ক
কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্ত এলাকায় অভিযান চালিয়ে মাদক মামলার দীর্ঘ সাত বছর ধরে পলাতক এক আসামিকে গ্রেফতার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব-১৫)। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় উপজেলার সাবরাং ইউনিয়ন থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির নাম মো. ফরহাদ প্রকাশ ফয়সাল (৩০)। তিনি টেকনাফ উপজেলার সাবরাং ইউনিয়নের চান্দুলীপাড়া এলাকার বাসিন্দা বেলা মাছনের পুত্র। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তথ্যমতে, ফয়সাল গত সাত বছর ধরে বিভিন্ন স্থানে ছদ্মবেশে আত্মগোপন করে ছিলেন।
র্যাব-১৫ এর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ২০১৭ সালে রামু থানায় দায়েরকৃত একটি মাদক মামলায় ফয়সাল প্রধান অভিযুক্তদের একজন। ওই মামলায় বিজ্ঞ আদালত তার বিরুদ্ধে জিআর পরোয়ানা জারি করার পর থেকেই তিনি এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যান। দীর্ঘ সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজর এড়িয়ে তিনি দেশের বিভিন্ন স্থানে অবস্থান পরিবর্তন করে আসছিলেন। সাম্প্রতিক সময়ে তিনি পুনরায় এলাকায় ফিরেছেন—এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-১৫, সিপিসি-১ টেকনাফ ক্যাম্পের একটি চৌকস আভিযানিক দল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সাবরাংয়ের চান্দুলীপাড়ায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযান চলাকালীন পালানোর চেষ্টা করলেও র্যাব সদস্যরা চারপাশ থেকে ঘেরাও করে তাকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হন।
র্যাব-১৫ এর সহকারী পরিচালক আ ম ফারুক অভিযানের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, গ্রেফতারকৃত ফয়সাল একজন পেশাদার মাদক কারবারি হিসেবে পরিচিত ছিলেন। দীর্ঘ বছর পলাতক থেকেও তিনি মাদক সিন্ডিকেটের সাথে পরোক্ষ যোগাযোগ রাখতেন বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে। গ্রেফতারের পর সংশ্লিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে টেকনাফ মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। সেখান থেকে আদালতের মাধ্যমে তাকে জেলহাজতে প্রেরণ করা হবে।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, টেকনাফের মতো স্পর্শকাতর সীমান্ত এলাকায় দীর্ঘ বছর ধরে ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিদের পলাতক থাকা স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। মাদক পাচার ও চোরাচালান রোধে এ ধরনের ঝটিকা অভিযান অপরাধীদের মধ্যে ভীতি সঞ্চার করবে এবং দীর্ঘমেয়াদী অপরাধ দমনে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। মাদকবিরোধী এই ধারাবাহিক অভিযান টেকনাফের সীমান্তবর্তী দুর্গম এলাকাগুলোতে আরও জোরদার করা হবে বলে র্যাব সূত্রে জানানো হয়েছে।