ক্রীড়া প্রতিবেদক
আসন্ন ফিফা বিশ্বকাপকে সামনে রেখে ব্রাজিলের চূড়ান্ত দল ঘোষণা নিয়ে ফুটবল বিশ্বে ব্যাপক জল্পনা-কল্পনা চলছে। বিশেষ করে দলের অন্যতম সেরা তারকা নেইমার জুনিয়রের অন্তর্ভুক্তি নিয়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন প্রধান কোচ কার্লো আনচেলত্তি। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে কোচ স্পষ্ট করেছেন যে, কেবল জনপ্রিয়তা বা অতীত অর্জনের ভিত্তিতে নয়, বরং বর্তমান ফিটনেস ও মাঠের পারফরম্যান্স বিবেচনা করেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছে ইতোমধ্যে ৫৫ সদস্যের একটি প্রাথমিক তালিকা জমা দিয়েছে ব্রাজিল ফুটবল ফেডারেশন (সিবিএফ)। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই তালিকায় নেইমারের নাম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে আগামী ১৮ মে ঘোষণা হতে যাওয়া ২৩ থেকে ২৬ সদস্যের চূড়ান্ত স্কোয়াডে তার জায়গা পাওয়া নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা কাটেনি। দীর্ঘমেয়াদী চোট কাটিয়ে মাঠে ফিরলেও নেইমারের শারীরিক সক্ষমতা এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ের উচ্চ তীব্রতার ম্যাচে টানা খেলার সামর্থ্য নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ চলছে।
ব্রাজিল দলের প্রধান কোচ কার্লো আনচেলত্তি বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তার কঠোর ও পেশাদার অবস্থানের কথা জানান। তিনি বলেন, নেইমার নিঃসন্দেহে একজন অসাধারণ প্রতিভাবান ফুটবলার এবং দলের জন্য তার গুরুত্ব অপরিসীম। তবে গত কয়েক বছরে তার চোটের ইতিহাস এবং সাম্প্রতিক ফর্ম গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। কোচ হিসেবে আনচেলত্তির অগ্রাধিকার হচ্ছে একটি ভারসাম্যপূর্ণ দল গঠন করা, যেখানে আবেগের চেয়ে কৌশলগত প্রয়োজনীয়তা বেশি প্রাধান্য পাবে।
ইউরোপীয় ফুটবলের সফলতম এই কোচ জানান, নেইমার বর্তমানে তার ফিটনেস ফিরে পেতে কঠোর পরিশ্রম করছেন এবং সাম্প্রতিক ম্যাচগুলোতে তার খেলায় গতির সঞ্চার হয়েছে। তবুও বিশ্বকাপের মতো বড় আসরে যেখানে প্রতিটি ম্যাচই চূড়ান্ত পরীক্ষার মতো, সেখানে কোনো প্রকার ঝুঁকি নিতে নারাজ ব্রাজিলীয় ডেরার এই মাস্টারমাইন্ড। আনচেলত্তির মতে, চূড়ান্ত দল নির্বাচনে খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত দক্ষতার পাশাপাশি শারীরিক ও মানসিক দৃঢ়তা সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
নেইমার ব্রাজিল ফুটবলের ইতিহাসে অন্যতম সফল গোলদাতা এবং দলের অভ্যন্তরে তার প্রভাব অনস্বীকার্য। সতীর্থ খেলোয়াড় এবং সমর্থকদের মাঝে তার বিপুল জনপ্রিয়তা থাকলেও আনচেলত্তি জানিয়েছেন, দল নির্বাচনে তিনি কারো দ্বারা প্রভাবিত হবেন না। যদিও দলের সিনিয়র খেলোয়াড়দের মতামতকে তিনি সম্মান জানান, তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের পূর্ণ স্বাধীনতা তার হাতেই ন্যস্ত রয়েছে। তিনি বিশ্বাস করেন, একটি পেশাদার সিদ্ধান্তের কারণে দলের অভ্যন্তরীণ সংহতি নষ্ট হওয়ার কোনো আশঙ্কা নেই।
বিশ্লেষকদের মতে, আনচেলত্তির এই অনড় অবস্থান ব্রাজিলের ফুটবল সংস্কৃতিতে এক নতুন বার্তার ইঙ্গিত দিচ্ছে। যেখানে দীর্ঘকাল ধরে তারকা নির্ভরতাকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে, সেখানে বর্তমান কোচ শৃঙ্খলা এবং বর্তমান ফর্মকে মূল মাপকাঠি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চাইছেন। নেইমার যদি শেষ পর্যন্ত চূড়ান্ত দলে জায়গা করে নিতে চান, তবে তাকে আসন্ন দিনগুলোতে নিজের শতভাগ ফিটনেস প্রমাণ করতে হবে।
সব মিলিয়ে ১৮ মে’র দল ঘোষণার দিকেই এখন তাকিয়ে আছে পুরো ফুটবল বিশ্ব। পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা কি তাদের রেকর্ড গোলদাতাকে ছাড়াই মাঠে নামবে, নাকি নেইমার তার চিরচেনা ছন্দে ফিরে কোচের আস্থার প্রতিফলন ঘটাবেন—তা সময়ই বলে দেবে। তবে এটি নিশ্চিত যে, ব্রাজিলের বিশ্বকাপ অভিযানে এবার মেধা ও যোগ্যতাই হবে দলে টিকে থাকার প্রধান চাবিকাঠি।