আন্তর্জাতিক ডেস্ক
লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে নিরাপত্তা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটায় সেখানে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের দ্রুত নিরাপদ এলাকায় আশ্রয় নেওয়ার জরুরি নির্দেশনা দিয়েছে বৈরুতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস। ইসরায়েলের অব্যাহত বিমান ও ড্রোন হামলার পরিপ্রেক্ষিতে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মঙ্গলবার এক বিশেষ সতর্কবার্তায় এই পরামর্শ দেওয়া হয়। বিশেষ করে দক্ষিণ লেবাননের নাবাতিয়ে, ছুর, বিন্ত জবেইল, মারজায়ুন এবং সাঈদা ডিস্ট্রিক্টের বিভিন্ন গ্রামাঞ্চলে অবস্থানরত প্রবাসীদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
দূতাবাসের বার্তায় স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, বর্তমান যুদ্ধাবস্থায় লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলীয় এলাকাগুলো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের এমন কোনো স্থাপনা বা স্থানের আশেপাশে না থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, যা সম্ভাব্য সামরিক লক্ষ্যবস্তু হতে পারে। দূতাবাস প্রবাসীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছে, যেসব স্থানে নিয়োগকর্তা (কফিল), স্পন্সর বা প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনার লোকজন অবস্থান করছেন না, সেসব স্থান থেকে প্রবাসীরা যেন দ্রুত নিরাপদ দূরত্বে সরে যান। প্রবাসীদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানানো হয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশটিতে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে সীমান্ত সংঘাত বৃদ্ধি পাওয়ায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে গত সোমবার লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলি বাহিনীর একটি ড্রোন হামলায় দুই বাংলাদেশি প্রবাসী প্রাণ হারানোর পর বাংলাদেশি কমিউনিটির মধ্যে গভীর উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা এবং প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে কাজ করছে দূতাবাস। এই অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুর ঘটনার পরই প্রবাসীদের চলাচলের ওপর বিধিনিষেধ এবং নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার বিষয়ে কড়াকড়ি আরোপ করা হলো।
কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, লেবাননের বর্তমান রাজনৈতিক ও সামরিক পরিস্থিতি অত্যন্ত অস্থির। দক্ষিণ লেবাননের গ্রামগুলোতে যেখানে হিজবুল্লাহর শক্তিশালী অবস্থান রয়েছে বলে ধারণা করা হয়, সেখানে ইসরায়েলি বাহিনী প্রতিনিয়ত বিমান হামলা চালাচ্ছে। এর ফলে স্থানীয় নাগরিকদের পাশাপাশি সেখানে কর্মরত অভিবাসী শ্রমিকরাও চরম ঝুঁকির মধ্যে পড়েছেন। বাংলাদেশ দূতাবাস সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং যেকোনো জরুরি প্রয়োজনে প্রবাসীদের দূতাবাসের হটলাইন নম্বরে যোগাযোগ করার জন্য অনুরোধ জানিয়েছে।
একই সঙ্গে বৈরুত দূতাবাস প্রবাসীদের আতঙ্কিত না হয়ে ধৈর্য ও সতর্কতার সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলার আহ্বান জানিয়েছে। নিরাপদ আশ্রয়ের পাশাপাশি প্রবাসীদের স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলা এবং পরিচয়পত্রসহ প্রয়োজনীয় নথিপত্র সবসময় সাথে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। যারা ইতিমধ্যে নিজ নিজ কর্মস্থল থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন বা বিপদে আছেন, তাদের জন্য বিশেষ সহায়তা প্রদানের প্রস্তুতিও নিচ্ছে দূতাবাস।
লেবাননের এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতি প্রবাসীদের কর্মসংস্থান ও নিরাপত্তার ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, লেবাননে অবস্থানরত সকল বাংলাদেশি নাগরিকের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন অগ্রাধিকার। পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটলে প্রয়োজনে প্রবাসীদের সরিয়ে নেওয়ার বিকল্প ব্যবস্থা নিয়েও চিন্তাভাবনা করা হতে পারে।