1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
বুধবার, ১৩ মে ২০২৬, ০৫:০৮ অপরাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
নেইমারের বিশ্বকাপ দলে অন্তর্ভুক্তি নিয়ে সতর্ক অবস্থানে কোচ আনচেলত্তি টেকনাফে মাদক মামলার সাত বছরের পলাতক আসামি গ্রেফতার লেবাননে প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার নির্দেশ সৌদি আরবে পৌঁছেছেন ৫৩ হাজার ৪১০ হজযাত্রী, ফিরতি ফ্লাইট শুরু ৩০ মে ইরান ইস্যু ও ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি: অনড় অবস্থানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট চেন্নাইয়ে কারিনা কায়সারের চিকিৎসা শুরু, ডোনার হিসেবে প্রস্তুত ছোট ভাই যুক্তরাজ্যে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের হৃদযন্ত্রে সফল এনজিওপ্লাস্টি সম্পন্ন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের তিন দিনের বেইজিং সফর শুরু: আলোচনায় মধ্যপ্রাচ্য ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক মধ্যপ্রাচ্যে নতুন উত্তেজনা: ইরানের অভ্যন্তরে সৌদি আরবের গোপন সামরিক অভিযান শেষ মুহূর্তে আত্মঘাতী গোলে আল নাসরের পয়েন্ট হারাল, ঝুলে রইল রোনালদোর শিরোপার স্বপ্ন

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন উত্তেজনা: ইরানের অভ্যন্তরে সৌদি আরবের গোপন সামরিক অভিযান

রিপোর্টার
  • আপডেট : বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬
  • ১৮ বার দেখা হয়েছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মধ্যপ্রাচ্যের দুই শক্তিশালী দেশ ইরান ও সৌদি আরবের মধ্যে দীর্ঘদিনের স্নায়ুযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ও কূটনৈতিক সূত্রগুলোর দাবি অনুযায়ী, গত মার্চ মাসের শেষ দিকে ইরানের অভ্যন্তরে অত্যন্ত গোপনে সামরিক অভিযান পরিচালনা করেছে সৌদি আরব। পশ্চিমা ও ইরানি কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, মূলত মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনায় ধারাবাহিক হামলার প্রতিক্রিয়ায় রিয়াদ এই পদক্ষেপ গ্রহণ করে। আধুনিক ইতিহাসে এটিই প্রথমবারের মতো সৌদি আরবের পক্ষ থেকে ইরানের মূল ভূখণ্ডে সরাসরি সামরিক আগ্রাসনের ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, সংঘাতের সূত্রপাত ঘটে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে। ওই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পক্ষ থেকে ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলার পর সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধাবস্থা তৈরি হয়। এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মধ্যে সৌদি আরবও পরোক্ষভাবে হামলার শিকার হয়েছিল বলে দাবি করা হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতেই রিয়াদ পাল্টা জবাব হিসেবে ইরানের অভ্যন্তরে অত্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গে এই বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। যদিও অভিযানের লক্ষ্যবস্তু বা ক্ষয়ক্ষতির সুনির্দিষ্ট বিবরণ এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষই আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেনি।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানাচ্ছে, গোপন এই হামলার পর সৌদি আরব বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে তেহরানকে অবহিত করে। এরপর দুই দেশের মধ্যে পর্দার অন্তরালে কূটনৈতিক আলোচনা শুরু হয়। রিয়াদের পক্ষ থেকে তেহরানকে কড়া বার্তা দিয়ে জানানো হয়েছে যে, ভবিষ্যতে সৌদি স্বার্থে কোনো প্রকার আঘাত আসলে এর চেয়েও কঠোরতর জবাব দেওয়া হবে। তবে বিস্ময়করভাবে, এই উত্তেজনার পর উভয় দেশের মধ্যে কূটনৈতিক তৎপরতা বৃদ্ধি পাওয়ায় সাময়িকভাবে বড় ধরনের সংঘাত এড়ানো সম্ভব হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকরা।

এদিকে, আঞ্চলিক এই উত্তেজনার পারদ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের অনুরূপ একটি পদক্ষেপ। সংবাদমাধ্যমের দাবি অনুযায়ী, গত এপ্রিলের শুরুতে সংযুক্ত আরব আমিরাতও পারস্য উপসাগরের লাভান দ্বীপে অবস্থিত একটি ইরানি তেল শোধনাগারে গোপন বিমান হামলা চালিয়েছে। ওই হামলায় শোধনাগারটিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হয় এবং এর জ্বালানি উৎপাদন প্রক্রিয়া আংশিকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। সংযুক্ত আরব আমিরাত আনুষ্ঠানিকভাবে এই হামলার দায় স্বীকার না করলেও ইরান সরকার সে সময় তাদের স্থাপনায় ‘শত্রুপক্ষ’ কর্তৃক ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি নিশ্চিত করেছিল।

আমিরাতি হামলার প্রতিক্রিয়ায় ইরানও হাত গুটিয়ে বসে থাকেনি। তেহরান থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কুয়েতের বিভিন্ন এলাকা লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়। ধারাবাহিক এই পাল্টাপাল্টি হামলার প্রভাবে মধ্যপ্রাচ্যের অর্থনীতিতে নেতিবাচক ছায়া পড়তে শুরু করেছে। বিশেষ করে সংযুক্ত আরব আমিরাতের পর্যটন, বিমান চলাচল এবং আবাসন খাত ইরানের পাল্টা হামলার আশঙ্কায় অস্থিরতার মুখে পড়েছে। বিনিয়োগকারীরা এই অঞ্চলে দীর্ঘমেয়াদী অস্থিরতার আশঙ্কায় সতর্ক অবস্থান নিচ্ছেন।

প্রতিরক্ষা ও ভূ-রাজনীতি বিশ্লেষকদের মতে, সৌদি আরব ও আরব আমিরাতের এই সরাসরি সামরিক সম্পৃক্ততা উপসাগরীয় দেশগুলোর প্রতিরক্ষা নীতিতে একটি বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। এতদিন এই দেশগুলো সরাসরি সংঘাত এড়িয়ে প্রক্সি বা ছায়াযুদ্ধের ওপর নির্ভরশীল থাকলেও, এখন তারা সরাসরি ইরানের ভূখণ্ডে আঘাত হানার সক্ষমতা ও মানসিকতা প্রদর্শন করছে। এই নতুন মেরুকরণ মধ্যপ্রাচ্যের ক্ষমতার ভারসাম্যকে জটিল করে তুলতে পারে। বিশেষজ্ঞ মহলের ধারণা, যদি কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত কোনো টেকসই সমাধান না আসে, তবে এই চোরাগোপ্তা হামলাগুলো যে কোনো সময় একটি পূর্ণাঙ্গ আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নিতে পারে। বর্তমানে উভয় পক্ষই পরিস্থিতির গভীরতা পর্যবেক্ষণ করছে, তবে এই গোপন অভিযানের খবরটি নিঃসন্দেহে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার এবং আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন করে অস্থিরতা সৃষ্টি করবে।

s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026