বিনোদন ডেস্ক
লিভার বা যকৃৎ সংক্রান্ত জটিলতায় আক্রান্ত হয়ে গুরুতর অসুস্থ ডিজিটাল কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও অভিনেত্রী কারিনা কায়সারকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ভারতের চেন্নাইয়ে নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তিনি সেখানকার ভেলোরে অবস্থিত বিশ্বখ্যাত খ্রিষ্টান মেডিক্যাল কলেজ (সিএমসি) হাসপাতালে নিবিড় তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। হাসপাতালটির বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে গঠিত একটি বোর্ড তার প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে নতুন চিকিৎসা প্রক্রিয়া শুরু করেছে।
চিকিৎসক সূত্রে জানা গেছে, কারিনা কায়সারের শারীরিক অবস্থা বর্তমানে অত্যন্ত সংবেদনশীল। তার লিভারের জটিলতার পাশাপাশি ফুসফুসেও কিছু সমস্যা ধরা পড়েছে। চিকিৎসকদের পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম ধাপে তার ফুসফুসের সংক্রমণ বা জটিলতা নিরসনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ফুসফুসের অবস্থা স্থিতিশীল হওয়ার পর দ্বিতীয় ধাপে লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট বা যকৃৎ প্রতিস্থাপনের চূড়ান্ত প্রক্রিয়া শুরু হবে। যকৃৎ প্রতিস্থাপন একটি অত্যন্ত জটিল অস্ত্রোপচার হওয়ায় রোগীর শরীরের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গপ্রত্যঙ্গের কার্যকারিতা স্বাভাবিক থাকা জরুরি, সে কারণেই চিকিৎসকেরা ধাপে ধাপে অগ্রসর হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
এদিকে অভিনেত্রীর পারিবারিক সূত্রে জানানো হয়েছে, লিভার প্রতিস্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় ডোনার বা দাতা নির্বাচনের প্রক্রিয়াও এগিয়ে চলছে। কারিনার দুই ভাইয়ের রক্ত পরীক্ষা ও শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়েছে। বড় ভাই ও ছোট ভাই উভয়েই লিভারের অংশ দানে আগ্রহী। তবে প্রাথমিক পরীক্ষায় ছোট ভাই সাদাত হামিদের সঙ্গে কারিনার রক্তের গ্রুপের মিল পাওয়া গেছে। চিকিৎসকেরা উভয় ভাইয়ের স্বাস্থ্যগত প্রতিবেদন পর্যালোচনার পর চূড়ান্ত ডোনার নির্বাচন করবেন। সাদাত হামিদ তার বোনের জীবনের ঝুঁকি কমাতে যকৃৎ দানে মানসিকভাবে সম্পূর্ণ প্রস্তুত বলে জানা গেছে।
কারিনা কায়সারের বাবা কায়সার হামিদ গণমাধ্যমকে জানান, মেয়ের শারীরিক অবস্থা বর্তমানে চিকিৎসকদের কঠোর পর্যবেক্ষণে রয়েছে। চেন্নাইয়ে পৌঁছানোর পর থেকেই সিএমসির চিকিৎসকেরা দ্রুততার সঙ্গে সব ধরনের পরীক্ষা সম্পন্ন করেছেন। তিনি আরও জানান, দুই ছেলের রক্ত পরীক্ষা করার মূল উদ্দেশ্য ছিল সবচেয়ে উপযুক্ত দাতা খুঁজে বের করা, যাতে অস্ত্রোপচারের সফলতার হার সর্বোচ্চ থাকে।
এর আগে গত সোমবার রাত ১১টায় রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে একটি চার্টার্ড এয়ার অ্যাম্বুলেন্স যোগে কারিনাকে চেন্নাইয়ের উদ্দেশে নিয়ে যাওয়া হয়। বাংলাদেশে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে দ্রুত উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয় এবং বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পরামর্শে তাকে বিদেশে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তার সফরসঙ্গী হিসেবে রয়েছেন মা এবং দুই ভাই।
কারিনা কায়সার বাংলাদেশের বিনোদন অঙ্গনে এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একজন জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত। তার এই আকস্মিক অসুস্থতা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। চিকিৎসকদের মতে, লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্টের মতো জটিল প্রক্রিয়ায় কয়েক সপ্তাহ সময়ের প্রয়োজন হতে পারে। সফল অস্ত্রোপচারের পর দীর্ঘমেয়াদী বিশ্রাম এবং পর্যবেক্ষণের মধ্য দিয়ে তাকে সুস্থ হয়ে উঠতে হবে। বর্তমানে দেশের বাইরের এই হাসপাতালে অত্যন্ত আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে তার জীবন রক্ষায় সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে।