আন্তর্জাতিক ডেস্ক
সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) সোমবার দেশটির ফুজাইরা এমিরাতের ফুজাইরা অয়েল ইন্ডাস্ট্রি জোনে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনাকে “বিশ্বাসঘাতকতাপূর্ণ” এবং “সন্ত্রাসী” আক্রমণ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের হামলা হলে কঠোর ও যথাযথ জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছে দেশটি। এই ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যে বিদ্যমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, দেশটি তার সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষায় কোনো ধরনের আপস করবে না। বিবৃতিতে বলা হয়, আন্তর্জাতিক আইন ও নীতিমালার আওতায় এ ধরনের হামলার উপযুক্ত জবাব দেওয়ার অধিকার সংযুক্ত আরব আমিরাতের রয়েছে। একই সঙ্গে দেশটির সামরিক সক্ষমতা ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা যে কোনো হুমকি মোকাবিলায় প্রস্তুত বলেও উল্লেখ করা হয়।
স্থানীয় প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার ফুজাইরা অয়েল ইন্ডাস্ট্রি জোনে ড্রোন হামলার পর বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ওই শিল্পাঞ্চলে একাধিক তেল শোধনাগার ও জ্বালানি ডিপো অবস্থিত, যা দেশের পূর্বাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামোর অংশ হিসেবে বিবেচিত। অগ্নিকাণ্ডের কারণে ওই এলাকায় সাময়িকভাবে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং জরুরি সেবা সংস্থাগুলো দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে।
ফুজাইরা এমিরাতের জনসংযোগ বিভাগ জানায়, আগুনে অন্তত তিনজন আহত হয়েছেন। আহতরা সবাই ভারতীয় নাগরিক এবং তাদের শরীরে মাঝারি ধরনের আঘাত রয়েছে। তাদের স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার কারণে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে বলেও জানানো হয়। এতে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি থেকে অবকাঠামো রক্ষা করা গেছে বলে দাবি করা হয়েছে।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে আরও বলা হয়, একই দিনে ইরান থেকে চারটি ক্ষেপণাস্ত্র সংযুক্ত আরব আমিরাতের দিকে নিক্ষেপ করা হয়। এর মধ্যে তিনটি ক্ষেপণাস্ত্র লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছানোর আগেই বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করতে সক্ষম হয়। তবে একটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা সম্ভব হয়নি এবং সেটি সমুদ্রে পতিত হয়। এই ঘটনার পরপরই ফুজাইরা অঞ্চলে ড্রোন হামলা চালানো হয়, যা তেল স্থাপনায় বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত ঘটায় বলে দাবি করা হয়।
ঘটনার প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ফুজাইরা অঞ্চলটি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি হরমুজ প্রণালীর কাছাকাছি অবস্থিত এবং বৈশ্বিক তেল সরবরাহ ব্যবস্থার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ রুট হিসেবে বিবেচিত। এ ধরনের এলাকায় হামলা হলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও এর প্রভাব পড়তে পারে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
এদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাত দাবি করেছে, তারা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং যেকোনো ধরনের পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। দেশটির কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, হামলার উৎস ও এর পেছনের উদ্দেশ্য তদন্ত করে দেখা হচ্ছে এবং কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা পর্যায়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এ ঘটনার পর মধ্যপ্রাচ্যে চলমান রাজনৈতিক ও সামরিক উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলার ঘটনা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার ওপর নতুন চাপ সৃষ্টি করতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকেরা।