আবহাওয়া ডেস্ক
রাজধানী ঢাকা ও এর আশপাশের এলাকায় গত ২৪ ঘণ্টায় ৬৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের ঝড় সতর্কীকরণ কেন্দ্র থেকে প্রকাশিত সকাল ৭টা পরবর্তী পূর্বাভাসে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, আজ দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে এবং ঢাকা ও এর পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোতে মাঝারি থেকে ভারি বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে।
অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকাল ৬টায় ঢাকার বায়ুমণ্ডলে তাপমাত্রার পারদ ছিল ২১ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এসময় বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল ৯৮ শতাংশ, যা অত্যন্ত উচ্চ। এর আগের দিন অর্থাৎ বুধবার ঢাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ২৩ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আজকের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২০ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। বায়ুমণ্ডলে অধিক আর্দ্রতা এবং মেঘাচ্ছন্ন আকাশ থাকার ফলে ভ্যাপসা গরম অনুভূত না হলেও বৃষ্টিপাতের কারণে জনজীবনে কিছুটা ধীরগতি লক্ষ্য করা গেছে।
আবহাওয়াবিদদের মতে, বর্তমানে মৌসুমি বায়ু কিংবা লঘুচাপের প্রভাবে দেশের বিভিন্ন স্থানে এই বৃষ্টিপাত হচ্ছে। বিশেষ করে ময়মনসিংহ, ঢাকা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি থেকে অতি ভারি বর্ষণের সতর্কতা জারি করা হয়েছে। এসব অঞ্চলে বৃষ্টির পাশাপাশি অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। সেই সঙ্গে বজ্রপাতের প্রবল সম্ভাবনা থাকায় জনসাধারণকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সারাদেশের আবহাওয়ার ওপর এক বিশ্লেষণে জানানো হয়েছে, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় এবং রংপুর ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু এলাকায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে। সারাদেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা স্থিতিশীল থাকার পূর্বাভাস থাকলেও মেঘলা আবহাওয়ার কারণে রোদের তেজ কম থাকবে।
রাজধানীর বৃষ্টির সার্বিক প্রভাব পর্যালোচনায় দেখা যায়, সকাল থেকে হালকা ও মাঝারি বৃষ্টিতে নগরীর নিচু এলাকাগুলোতে পানি জমতে শুরু করেছে। অফিসগামী যাত্রী এবং শিক্ষার্থীদের যাতায়াতে কিছুটা বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যমতে, আজ সূর্যাস্ত হবে সন্ধ্যা ৬টা ২৭ মিনিটে এবং আগামীকাল শুক্রবার সূর্যোদয় হবে ভোর ৫টা ২৫ মিনিটে।
জলবায়ু বিশেষজ্ঞদের মতে, এপ্রিলের শেষার্ধে এ ধরনের বৃষ্টিপাত কৃষি খাতের জন্য মিশ্র বার্তা নিয়ে আসে। একদিকে চলমান তাপদাহ প্রশমিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, অন্যদিকে ভারি বৃষ্টির ফলে আগাম বন্যার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে সিলেট ও চট্টগ্রামের পাহাড়ি এলাকায় অতি বৃষ্টি ভূমিধসের কারণ হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। নদী বন্দরসমূহকে সতর্ক সংকেত মেনে চলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং সাধারণ মানুষকে খোলা আকাশের নিচে না থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টা আবহাওয়া পরিস্থিতির বড় ধরনের পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই বলে ধারণা করা হচ্ছে।