নিজস্ব প্রতিবেদক
রাজধানীর কামরাঙ্গীরচর ও কেরানীগঞ্জ এলাকায় পৃথক বিশেষ অভিযান চালিয়ে একটি উগ্রবাদী সংগঠনের চারজন সক্রিয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। অভিযানকালে তাদের হেফাজত থেকে আগ্নেয়াস্ত্র, গোলাবারুদ এবং ড্রোনের যন্ত্রাংশসহ বিপুল পরিমাণ প্রযুক্তিগত সরঞ্জাম ও উগ্রবাদী প্রচারপত্র উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) গভীর রাত থেকে বুধবার ভোর পর্যন্ত পরিচালিত অভিযানে গোয়েন্দা পুলিশের রমনা বিভাগ এই সাফল্য অর্জন করে।
গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিরা হলেন— মো. ইমরান চৌধুরী, মো. মোস্তাকিম চৌধুরী, রিপন হোসেন শেখ এবং আবু বক্কর। পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারকৃতরা দীর্ঘ দিন ধরে আত্মগোপনে থেকে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের পরিকল্পনা এবং উগ্রবাদী মতাদর্শ প্রচারে লিপ্ত ছিল। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা একটি নির্দিষ্ট উগ্রবাদী সংগঠনের সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছে।
বুধবার রাতে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গণমাধ্যম ও জনসংযোগ বিভাগ এই অভিযানের বিস্তারিত তথ্য নিশ্চিত করেছে। সংশ্লিষ্ট বিভাগের সহকারী পুলিশ কমিশনার এন. এম. নাসিরুদ্দিন জানান, সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে মঙ্গলবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে কামরাঙ্গীরচর থানার তারা মসজিদ সংলগ্ন কয়লাঘাট এলাকার একটি বাড়িতে প্রথম অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকে উগ্রবাদী কার্যক্রমের অন্যতম সমন্বয়ক মো. ইমরান চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তীতে ইমরান চৌধুরীর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কেরানীগঞ্জের জিয়ানগর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তার ছোট ভাই মোস্তাকিম চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করা হয়।
অভিযানের ধারাবাহিকতায় কামরাঙ্গীরচরের রসুলপুর এলাকা থেকে সংগঠনের অন্য দুই সদস্য রিপন হোসেন শেখ ও আবু বক্করকে গ্রেপ্তার করে ডিবি-রমনা বিভাগের সদস্যরা। এই চারজনের অবস্থান থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি ওয়ান শ্যুটারগান, ১৪ রাউন্ড তাজা গুলি ও তিনটি ব্যবহৃত গুলির খোসা জব্দ করা হয়।
অস্ত্রের পাশাপাশি উদ্ধারকৃত প্রযুক্তিগত সরঞ্জামের তালিকায় রয়েছে একাধিক অত্যাধুনিক স্মার্টফোন, ডিজিটাল ভিডিও রেকর্ডার (ডিভিআর), ড্রোন ও ড্রোনের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ, মাল্টিফাংশনাল চার্জার, মেটাল ডিটেক্টর এবং ল্যাপটপ। এছাড়াও তাদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ উগ্রবাদী মতাদর্শের বই ও ডিজিটাল নথিপত্র উদ্ধার করেছে পুলিশ। ড্রোনের মতো স্পর্শকাতর যন্ত্রাংশের উপস্থিতি তদন্তকারীদের বিশেষভাবে ভাবিয়ে তুলছে। পুলিশের ধারণা, জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করতে বা বিশেষ কোনো স্থাপনায় নজরদারি চালানোর উদ্দেশ্যে এসব প্রযুক্তি সংগ্রহ করা হয়েছিল।
ডিবি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গ্রেপ্তারকৃতরা কেন এই প্রযুক্তিগত সরঞ্জামগুলো জমা করেছিল এবং তাদের আসন্ন কোনো নাশকতার পরিকল্পনা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে ড্রোন এবং মেটাল ডিটেক্টরের মতো সরঞ্জামগুলো সাধারণত উগ্রবাদী গোষ্ঠীগুলোর কাছে নিয়মিত পাওয়া যায় না, যা এই নেটওয়ার্কের উচ্চতর প্রযুক্তিগত সক্ষমতার ইঙ্গিত দেয়।
সহকারী পুলিশ কমিশনার এন. এম. নাসিরুদ্দিন গণমাধ্যমকে জানান, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডের আবেদন জানিয়ে আদালতে পাঠানো হবে। এই চক্রের সঙ্গে আর কারা জড়িত এবং অর্থের উৎস কোথায়, তা বের করতে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। রাজধানীতে সন্ত্রাস ও উগ্রবাদ নির্মূলে এবং যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা রোধে পুলিশের এই বিশেষ অভিযান ও কঠোর নজরদারি অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়েছে। শহরের প্রবেশপথ এবং সম্ভাব্য গোপন আস্তানাগুলোতেও তল্লাশি কার্যক্রম বাড়ানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।